শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

শেরপুরে লাভজনক হয়ে উঠছে শুকনো মরিচ উৎপাদন

জাহিদুল খান সৌরভ শেরপুর
  • আপডেট সময় সোমবার, ১২ মে, ২০২৫

শেরপুর সদরের কামারেরচর ইউনিয়নের পয়স্তিরচর, গুচ্ছগ্রাম, ৬নং ও ৭নং চর। প্রত্যন্ত এসব গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে চলছে মরিচ শুকানোর উৎসব। কৃষকের বাড়ির চালা থেকে উঠান, সবখানেই এখন চলছে মরিচ শুকানোর কাজ। প্রতি বছরের মতো এ বছরও জেলার সিংহভাগ মরিচ উৎপাদন হয়েছে এই চরাঞ্চলে। সরজমিনে দেখা গেছে, দূর থেকে নাকে গন্ধ ভেসে আসছিল শুকানো মরিচের। সারি সারি মরিচের প্লট বিছিয়ে তা পরিচর্যায় ব্যস্ত নারী-পুরুষ। কৃষকরা জানায়, কামারেরচর বুক চিড়ে বয়ে গেছে দশআনী ও পুরাতন ব্রক্ষপুত্র নদ। প্রতি বছর বন্যায় নদী এলাকার এসব কৃষিজমিতে প্রচুর পলি পড়ে। বন্যার পর পানি কমে গেলে পলি পড়া সেই উর্বর জমিতে চাষ হয় শত শত টন মরিচ। কাঁচামরিচ বিক্রির পাশাপাশি একটা বড় অংশ খেতেই পাকানো হয়। এরপর সেই মরিচ রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় রান্নার অতিজরুরি উপাদান শুকনো মরিচ। মূলত চাহিদার কারণেই স্থানীয় চাষীরা প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে শুকনো মরিচ চাষ করেন। যা নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি হয় অন্যানো জেলায়। জেলা কৃষি অফিসের তথ্য বলছে, চলতি বছর শেরপুরে ১১শ হেক্টর জমিতে মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল। বাম্পার ফলনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১১শ এক হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়। যেখানে ৬৫০ টন শুকনা মরিচ উৎপাদন হবে এবং হেক্টর প্রতি মরিচের গড় ফলন প্রায় ৩ টন। পয়স্তিরচরের কৃষাণী তাসলিমা আক্তার(৩০) জানান, বর্তমান বাজারে কাঁচামরিচের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। এই দামে মরিচ বিক্রি করলে আমাদের লোকসান হয়। তাই পরিচ খেতে পাঁকিয়ে পরে বিক্রি করি। খেতের পাঁকানো মরিচ বাড়ি নিয়ে পুনরায় ভাল করে রোদ দিতে হয়। রোদের তাপ বেশি থাকলে ১৫ দিন এবং কম থাকলে একমাস সময় লাগে শুকনো মরিচ বিক্রি উপযোগী হতে। তখন এই শুকনো মরিচ কেজি প্রতি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা বিক্রি করা যায়। ৬নং চরের কৃষক জামাল উদ্দিন(৪০) বলেন, চরাঞ্চলের জমি মরিচ চাষে অত্যন্ত উপযোগী। মরিচ চাষে বিঘাপ্রতি খরচ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বাদ দিয়ে ৩০ হাজার টাকার মত লাভ থাকে। গুচ্ছগ্রামের কৃষক হাসমত আলী(৪৫) জানান, বর্তমান বাজারে কাঁচামরিচের দাম তুলনামূলক অনেক কম। তাই আমরা শুকনো মরিচ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছি। যেখানে কাঁচামরিচের দাম মণপ্রতি ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা। সেখানে শুকনো মরিচের দাম মণ প্রতি ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। কৃষক আজগর আলী(৫০) বলেন, উন্নত জাতের বীজ ও কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শ পেলে একদিকে যেমন মরিচের উৎপাদন বাড়বে অন্যদিকে কমবে বিদেশ থেকে আমাদানী নির্ভরতা। অন্যদিকে ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হবে প্রান্তিক অঞ্চলের কৃষক। এবিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, শেরপুরে লাভজনক হওয়ায় দিন দিন শুকনো মরিচ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। চরাঞ্চলের কৃষকদের মরিচ চাষ বাড়াতে পরামর্শ দিয়ে নানা সহযোগীতা করছে কৃষি বিভাগ।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com