বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

স্বপ্ন গড়া চরে আবার ভয়: উচ্ছেদ হলে যাব কোথায়?

জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৩ জুন, ২০২৫

পদ্মা নদীর ভয়াল ভাঙনে একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের অগণিত ঘরবাড়ি, স্মৃতি আর স্বপ্ন। নদীর প্রবল স্রোত কেড়ে নিয়েছিল মানুষের শেষ আশ্রয়টুকুও। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও নদীর বুক চিরে জেগে উঠেছে একটি নতুন চর। সেই চরে নতুন করে জীবন গড়ার লড়াইয়ে নেমেছেন শতাধিক পরিবার। গড়ে উঠেছে একটি প্রাণবন্ত জনপদ, শিশুরা খেলছে মুক্ত আকাশের নিচে, চরে কৃষকের ফসল চাষ, ঘরে ঘরে রান্নার ধোঁয়া। যেন নদীর বুকে এক টুকরো জীবনের জয়গান। কিন্তু সেই স্বপ্নের গাঁয়েই আবার নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার ছায়া। সরকার এই জেগে ওঠা চরের জমিকে ‘খাস জমি’ ঘোষণা দিয়ে সেখানে একটি বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। ফলে হঠাৎ করেই উচ্ছেদের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন প্রায় তিন শতাধিক পরিবার। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার (০২ জুন) বিকেলে দুই শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু মানববন্ধনে অংশ নেন। তাঁদের হাতে ছিল ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড, আর মুখে ছিল অসহায় প্রতিবাদের ভাষা: উচ্ছেদ নয়, পুনর্বাসন চাই এই জমি আমাদের, অন্যায় করো না স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম মোল্লা বলেন, এই চরে আমরা জীবন গড়েছি নিজের হাতে। নদী কেড়ে নিয়েছিল যা কিছু ছিল, আবার ফিরেছি। সরকার চাইলে উন্নয়ন করুক, আমাদের ঘর তুলে দিক। কিন্তু হঠাৎ উচ্ছেদের হুমকি কীভাবে মানবো? যদি সরাতেই হয়, তাহলে আগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুক। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রাবেয়া বেগমের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় দীর্ঘ লড়াইয়ের ক্লান্তি ও আকুতি। পানি আর ভাঙনের সাথে লড়তে লড়তে জীবনটা কেটে গেছে। এখন একটু শান্তিতে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আবার যদি উ”েছদ করে দেয়, যাবো কোথায়? এলাকাবাসী জানান, তারা বিনোদন কেন্দ্রের বিরোধিতা করছেন না। তবে যেখানে একটি জনপদ গড়ে উঠেছে, মানুষ শেকড় গেঁথে ফেলেছে, সেখানে কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়া অমানবিক ও অযৌক্তিক। তাঁদের ভাষায়, এটা শুধু অন্যায় নয়, মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সরকার চাইলে বিকল্প কোনো জায়গায় উন্নয়ন প্রকল্প করতে পারে, যেখানে কারও গড়া স্বপ্ন ধ্বংস হবে না। বাঁচার জন্য গড়ে তোলা এই নতুন বসতিকে কি বিনোদনকেন্দ্রের স্বপ্নে চাপা পড়ে যেতে হবে? আর ঘুরেফিরে এসে দাঁড়ায় সেই যন্ত্রণাদায়ক প্রশ্ন “উচ্ছেদ হলে যাবো কোথায়? এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাজিরা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় বলেন, পদ্মায় জেগে ওঠা চরে সরকারি ভাবে একটি বিনোদন পার্ক করার পরিকল্পনা আছে। ডিসি স্যার নিজে পরিদর্শন করে গেছেন। মানববন্ধনের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com