ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন এবং জাতীয়তাবাদী ফোরাম এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে র্যালি ও গণজমায়েতে অংশগ্রহণ Logo খুলনা অঞ্চলের শাখাসমূহ নিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের স্ট্র্যাটেজিক কনক্লেভ Logo অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিলেই সিসার বিষ! Logo ‘হাবিবি প্যাক’ চালু, সিনেটর নির্বাচিত হয়েই চমক এল-সায়েদের Logo মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর: বাংলাদেশ-জাপান যৌথ ঘোষণায় বিগ-বি প্রকল্প Logo ইসরায়েলের ইহুদিদের উপর ভরসা বাড়ছে ভারতের Logo আগাম জাতের আমন ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত লালমনিরহাটের কৃষকরা Logo আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী Logo কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী Logo সাদমানকে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

ইসরায়েলের ইহুদিদের উপর ভরসা বাড়ছে ভারতের

হিন্দি বলয়ের তরুণ-তরুণীদের কাছে ভারতের সবচেয়ে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়ার পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েল। সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া-ইসরায়েল সেন্টার’-এর চালানো একটি নতুন সমীক্ষায় এই তথ্য সামনে এসেছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের এক বড় অংশ কঠিন সময়ে ভারতের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।
‘দ্য হিন্দি হার্টল্যান্ড ভিউ: হোয়ার ইসরায়েল স্ট্যান্ডস এমং ইন্ডিয়াস পার্টনার্স ইন দ্য হিন্দি হার্টল্যান্ড’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরায়েলকে ভারতের সুহৃদ বন্ধু মনে করেন। অন্যদিকে, ৫৭ শতাংশের বিশ্বাস কঠিন সময়ে ইসরায়েল ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। দুই বিভাগেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে রাশিয়া।
ভারতের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখা দেশ হিসেবে ইসরায়েল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৪২%) স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি আস্থার দিক থেকে রাশিয়া ও জাপানের পরেই তৃতীয় স্থানে (৫৭%) রয়েছে দেশটি, যা যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে।
২০২৬ সালের অক্টোবরে উত্তর প্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খ- এবং উত্তরাখ-Ñএই পাঁচ হিন্দিভাষী রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১,০২৩ জন তরুণ-তরুণীর ওপর অনলাইন ও সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়। এই অঞ্চলগুলো ভারতের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি (প্রায় ৪২ কোটি মানুষ)।
দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতার বিষয়ে যারা অবগত, তাদের ৭৫ শতাংশই ইসরায়েলকে বিশ্বাস করেন। কিন্তু এ বিষয়ে না জানা ব্যক্তিদের মধ্যে এই হার নেমে এসেছে ৪৩ শতাংশে। একইভাবে সচেতন উত্তরদাতাদের ৮৩ শতাংশ মনে করেন প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিতে ইসরায়েলি সহযোগিতা ভারতের জন্য উপকারী।
সমীক্ষায় ৬৩ শতাংশ মানুষ ইসরায়েলকে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত বলে মনে করেন, যা ২০২৬ সালের মে মাসে চালানো পূর্বের একটি নগরকেন্দ্রিক সমীক্ষার (৫১%) চেয়ে বেশি। ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন।
উত্তর প্রদেশের বস্তি ও কনৌজ এবং বিহারের বৈশালী ও নালন্দায় ‘ইন্দো-ইসরায়েল এগ্রিকালচারাল প্রজেক্ট’-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্স তৈরি হয়েছে, যা ড্রিপ সেচ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি শিখিয়ে সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
উত্তর প্রদেশের গোরখপুরে ৯১ শতাংশ এবং বারাণসীতে ৮৮ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরায়েলের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। কৃষি প্রযুক্তি এবং সম্প্রতি ইসরায়েলে ভারতীয় শ্রমিক নিয়োগের ফলে এই দুটি অঞ্চলে সরাসরি ইতিবাচক সংযোগ তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৩.৯৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশ একটি দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও আলোচনা এগিয়েছে।
প্রতিবেদনে শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৫০ শতাংশ তরুণ-তরুণী ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। দ্বিপাক্ষিক বাস্তব সুবিধার স্পষ্ট দৃশ্যমানতাই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন এবং জাতীয়তাবাদী ফোরাম এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে র্যালি ও গণজমায়েতে অংশগ্রহণ

ইসরায়েলের ইহুদিদের উপর ভরসা বাড়ছে ভারতের

আপডেট সময় ০৯:০৩:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

হিন্দি বলয়ের তরুণ-তরুণীদের কাছে ভারতের সবচেয়ে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়ার পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েল। সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া-ইসরায়েল সেন্টার’-এর চালানো একটি নতুন সমীক্ষায় এই তথ্য সামনে এসেছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের এক বড় অংশ কঠিন সময়ে ভারতের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।
‘দ্য হিন্দি হার্টল্যান্ড ভিউ: হোয়ার ইসরায়েল স্ট্যান্ডস এমং ইন্ডিয়াস পার্টনার্স ইন দ্য হিন্দি হার্টল্যান্ড’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরায়েলকে ভারতের সুহৃদ বন্ধু মনে করেন। অন্যদিকে, ৫৭ শতাংশের বিশ্বাস কঠিন সময়ে ইসরায়েল ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। দুই বিভাগেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে রাশিয়া।
ভারতের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখা দেশ হিসেবে ইসরায়েল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৪২%) স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি আস্থার দিক থেকে রাশিয়া ও জাপানের পরেই তৃতীয় স্থানে (৫৭%) রয়েছে দেশটি, যা যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে।
২০২৬ সালের অক্টোবরে উত্তর প্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খ- এবং উত্তরাখ-Ñএই পাঁচ হিন্দিভাষী রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১,০২৩ জন তরুণ-তরুণীর ওপর অনলাইন ও সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়। এই অঞ্চলগুলো ভারতের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি (প্রায় ৪২ কোটি মানুষ)।
দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতার বিষয়ে যারা অবগত, তাদের ৭৫ শতাংশই ইসরায়েলকে বিশ্বাস করেন। কিন্তু এ বিষয়ে না জানা ব্যক্তিদের মধ্যে এই হার নেমে এসেছে ৪৩ শতাংশে। একইভাবে সচেতন উত্তরদাতাদের ৮৩ শতাংশ মনে করেন প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিতে ইসরায়েলি সহযোগিতা ভারতের জন্য উপকারী।
সমীক্ষায় ৬৩ শতাংশ মানুষ ইসরায়েলকে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত বলে মনে করেন, যা ২০২৬ সালের মে মাসে চালানো পূর্বের একটি নগরকেন্দ্রিক সমীক্ষার (৫১%) চেয়ে বেশি। ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন।
উত্তর প্রদেশের বস্তি ও কনৌজ এবং বিহারের বৈশালী ও নালন্দায় ‘ইন্দো-ইসরায়েল এগ্রিকালচারাল প্রজেক্ট’-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্স তৈরি হয়েছে, যা ড্রিপ সেচ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি শিখিয়ে সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
উত্তর প্রদেশের গোরখপুরে ৯১ শতাংশ এবং বারাণসীতে ৮৮ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরায়েলের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। কৃষি প্রযুক্তি এবং সম্প্রতি ইসরায়েলে ভারতীয় শ্রমিক নিয়োগের ফলে এই দুটি অঞ্চলে সরাসরি ইতিবাচক সংযোগ তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৩.৯৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশ একটি দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও আলোচনা এগিয়েছে।
প্রতিবেদনে শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৫০ শতাংশ তরুণ-তরুণী ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। দ্বিপাক্ষিক বাস্তব সুবিধার স্পষ্ট দৃশ্যমানতাই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে।