ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে মালদ্বীপের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo হানিফের মৃত্যুদণ্ড , ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড Logo ​নানা আয়োজনে বোরহানউদ্দিন যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ Logo ডিসকর্ডে থাকা আপনার ব্যক্তিগত বার্তাও চলে যেতে পারে গুগল সার্চে Logo ডায়াবেটিস থাকলে আঙুর নাকি আপেল খাবেন? Logo শরৎচন্দ্রের সাহিত্যকর্ম নিয়ে নতুন সিনেমা Logo মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের ১০ উপায় Logo আমার ছেলে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলা হয়েছে : তাহসিফের বাবা
১৫০০ কিমি দূরের রণতরীতে আঘাতের শক্তি

চীনের অনন্য নকশার রহস্যময় ‘ট্রাইমারান’ সাবমেরিন কী বার্তা দিচ্ছে বিশ্বকে?

বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে চীন বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ও দ্রুত নতুন শ্রেণির সাবমেরিন তৈরি করছে। সাগরের তলদেশে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে একাধিক উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট নিয়ে এগিয়ে চলেছে দেশটি। তবে সম্প্রতি চীনা নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হওয়া সম্পূর্ণ নতুন ঘরানার একটি বিশেষ সাবমেরিনকে ঘিরে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের কৌতূহল এখন তুঙ্গে। এটি কেবল একটি সাধারণ ডুবোজাহাজ নয়, বরং তিন-হাল বা ‘ট্রাইমারান’ নকশার এক অনন্য সাবমেরিন, যা বিশ্বে প্রথম।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে শুধু একটি স্নোরকেল মাস্ক ভাসিয়ে সাগরের তলদেশ দিয়ে নীরবে টহল দেবে এই যুদ্ধজাহাজ। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া এনক্রিপ্টেড বার্তার মাধ্যমে দূরবর্তী শত্রুর অবস্থান জানার পরপরই সাগরের বুকেই ভেসে উঠবে এটি। এর ইউনিক ‘ট্রাইমারান’ বা তিন-হালি বিশিষ্ট বডি পানি বা সাগরের উপরিভাগে সাবমেরিনটিকে অসাধারণ ভারসাম্য প্রদান করবে।
ভেসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই এর মূল কাঠামোর মধ্যে থাকা দুটি বিশাল হ্যাঙ্গার খুলে যাবে এবং সেখান থেকে উঠে আসবে ১৬টি মিসাইল টিউব। প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার (৯৩০ মাইল) দূরে থাকা কোনো শত্রু বিমানবাহী রণতরী দল মুহূর্তে এর নিশানা হয়ে উঠতে পারে।
রহস্যময় অবস্থান ও অদ্ভুত নকশা
পূর্বে এই সাবমেরিনটিকে ‘সেমি-সাবমার্সিবল আর্সেনাল শিপ’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম বা পশ্চিমা কোড দেওয়া হয়নি। বর্তমানে চীনের বোহাই সাগরের হুলুদাও নৌঘাঁটিতে অত্যন্ত গোপনে এটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ট্রায়াল চলছে। এই বছরের শুরুর দিকে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গুয়াংঝুতে নির্মিত এই যানটি দালিয়ান বন্দর হয়ে উত্তরে নিয়ে আসা হয়।
খোলা উৎসের গোয়েন্দা তথ্য (ওসনিট) এবং কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন ক্যাটাগরির যুদ্ধজাহাজ। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি আসলে একটি ‘সাবমার্সিবল ওয়ারশিপ’ যা মূলত পানির নিচে থেকে গোপন স্থানে পৌঁছাবে, তবে অস্ত্র নিক্ষেপ বা মিসাইল উৎক্ষেপণের জন্য এটিকে পানির উপরিভাগে চলে আসতে হবে।
১৬টি ধ্বংসাত্মক মিসাইল ও নতুন প্রযুক্তি
চীনা এই সাবমেরিনের মধ্যভাগে রয়েছে অন্তত ১৬টি শক্তিশালী মিসাইল টিউব। স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ থেকে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এগুলো দুটি বৃত্তাকার গুচ্ছে ভাগ করে আনুভূমিকভাবে হ্যাঙ্গারের
মধ্যে রাখা হয়েছে। অস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য সাবমেরিনটিকে সাগরের উপরিভাগে উঠে হ্যাঙ্গারের দরজা খুলতে হবে এবং মিসাইল টিউবগুলোকে সোজা বা উলম্ব অবস্থায় দাঁড় করাতে হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, এতে অ্যান্টি-শিপ বা ভূমিতে আঘাত হানার মতো মারাত্মক মিসাইল বহন করা হবে। যেহেতু মিসাইলগুলো খোলা আকাশে ভেসে উঠে উৎক্ষেপণ করা হবে, তাই এতে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘ওয়াইজে-২০’ হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি, যা সাধারণত চীনের টাইপ-০৫৫ ক্রুজারে দেখা যায়।
চালকহীন ও ট্রাইমারান কাঠামোর রহস্য
নতুন এই সাবমেরিনে কোনো নিয়মিত সেনা বা চালক দল থাকার সম্ভাবনা কম বলে জানান ‘কে৩৯ কনসাল্টিং’-এর প্রিন্সিপাল কনসালট্যান্ট এবং জাহাজ নকশা বিশেষজ্ঞ ড. র‌্যাচেল পলিং। তিনি জানান, ‘এই যুদ্ধজাহাজটি ডুবন্ত অবস্থায় প্রায় ৯০০ টন পানি প্রতিস্থাপন করতে পারে। অস্ত্র ও বিশাল হ্যাঙ্গারগুলো জাহাজের বেশিরভাগ স্থান দখল করায় বাকি জায়গায় মানুষের বসবাসের মতো পরিবেশ অসম্ভব। জাহাজের উপরে একটি খোলা ব্রিজ রয়েছে, তবে তা কেবল বন্দরে আসা-যাওয়ার সময় মানুষের দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহার করা হয়, যা সাধারণত চালকহীন বড় যানে (ইউএসভি) দেখা যায়।’ প্রোফাইল অনুযায়ী, এর ট্রাইমারান বা তিন-হালি বডি পানি ও সাগরের পৃষ্ঠে যাতায়াত ও মিসাইল তোলার সময়ে জাহাজের ভারসাম্য নিশ্চিত করে। পানির নিচে এটি ডিজেল ইঞ্জিনে চালানোর জন্য স্নোরকেল সিস্টেম রাখা হয়েছে এবং এর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক স্ক্রু ও পাম্পজেট প্রোপালশন ব্যবহার করা হয়েছে।
ঠান্ডা যুদ্ধের স্মারক ও আধুনিক যুদ্ধকৌশল
ড. পলিংয়ের মতে, এই নতুন যুদ্ধজাহাজটির মূল দর্শন ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘জুলিয়েট ক্লাস’ ক্রুজ মিসাইল সাবমেরিনের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেটিও একটি ডিজেল সাবমেরিন ছিল যা উপরিভাগে এসে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ত।
তবে চীনা প্রযুক্তির এই নতুন সংস্করণ অনেক বেশি আধুনিক। উন্নত হাইপারসনিক মিসাইলের বিস্তৃত পাল্লার কারণে এটি সমুদ্রের অনেক দূর থেকেই অদৃশ্যভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছড়াতে পারবে। এটি চীনের কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত একটি ভাসমান ট্রান্সপোর্টার ও লঞ্চার হিসেবে কাজ করবে, যা শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে আকস্মিক কিন্তু বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে নিমেষেই সটকে পড়তে সক্ষম।
চীন এখনই এই রহস্যময় প্রজেক্ট নিয়ে বিশ্ব দরবারে মুখ খুলছে না। তবে তাদের এই ব্যতিক্রমী ট্রাইমারান সাবমেরিন যে আধুনিক নৌ-যুদ্ধের কৌশল ও ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারেÑতা নিশ্চিত করেই বলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে মালদ্বীপের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

১৫০০ কিমি দূরের রণতরীতে আঘাতের শক্তি

চীনের অনন্য নকশার রহস্যময় ‘ট্রাইমারান’ সাবমেরিন কী বার্তা দিচ্ছে বিশ্বকে?

আপডেট সময় ১০:৪৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে চীন বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ও দ্রুত নতুন শ্রেণির সাবমেরিন তৈরি করছে। সাগরের তলদেশে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে একাধিক উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট নিয়ে এগিয়ে চলেছে দেশটি। তবে সম্প্রতি চীনা নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হওয়া সম্পূর্ণ নতুন ঘরানার একটি বিশেষ সাবমেরিনকে ঘিরে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের কৌতূহল এখন তুঙ্গে। এটি কেবল একটি সাধারণ ডুবোজাহাজ নয়, বরং তিন-হাল বা ‘ট্রাইমারান’ নকশার এক অনন্য সাবমেরিন, যা বিশ্বে প্রথম।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে শুধু একটি স্নোরকেল মাস্ক ভাসিয়ে সাগরের তলদেশ দিয়ে নীরবে টহল দেবে এই যুদ্ধজাহাজ। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া এনক্রিপ্টেড বার্তার মাধ্যমে দূরবর্তী শত্রুর অবস্থান জানার পরপরই সাগরের বুকেই ভেসে উঠবে এটি। এর ইউনিক ‘ট্রাইমারান’ বা তিন-হালি বিশিষ্ট বডি পানি বা সাগরের উপরিভাগে সাবমেরিনটিকে অসাধারণ ভারসাম্য প্রদান করবে।
ভেসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই এর মূল কাঠামোর মধ্যে থাকা দুটি বিশাল হ্যাঙ্গার খুলে যাবে এবং সেখান থেকে উঠে আসবে ১৬টি মিসাইল টিউব। প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার (৯৩০ মাইল) দূরে থাকা কোনো শত্রু বিমানবাহী রণতরী দল মুহূর্তে এর নিশানা হয়ে উঠতে পারে।
রহস্যময় অবস্থান ও অদ্ভুত নকশা
পূর্বে এই সাবমেরিনটিকে ‘সেমি-সাবমার্সিবল আর্সেনাল শিপ’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম বা পশ্চিমা কোড দেওয়া হয়নি। বর্তমানে চীনের বোহাই সাগরের হুলুদাও নৌঘাঁটিতে অত্যন্ত গোপনে এটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ট্রায়াল চলছে। এই বছরের শুরুর দিকে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গুয়াংঝুতে নির্মিত এই যানটি দালিয়ান বন্দর হয়ে উত্তরে নিয়ে আসা হয়।
খোলা উৎসের গোয়েন্দা তথ্য (ওসনিট) এবং কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন ক্যাটাগরির যুদ্ধজাহাজ। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি আসলে একটি ‘সাবমার্সিবল ওয়ারশিপ’ যা মূলত পানির নিচে থেকে গোপন স্থানে পৌঁছাবে, তবে অস্ত্র নিক্ষেপ বা মিসাইল উৎক্ষেপণের জন্য এটিকে পানির উপরিভাগে চলে আসতে হবে।
১৬টি ধ্বংসাত্মক মিসাইল ও নতুন প্রযুক্তি
চীনা এই সাবমেরিনের মধ্যভাগে রয়েছে অন্তত ১৬টি শক্তিশালী মিসাইল টিউব। স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ থেকে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এগুলো দুটি বৃত্তাকার গুচ্ছে ভাগ করে আনুভূমিকভাবে হ্যাঙ্গারের
মধ্যে রাখা হয়েছে। অস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য সাবমেরিনটিকে সাগরের উপরিভাগে উঠে হ্যাঙ্গারের দরজা খুলতে হবে এবং মিসাইল টিউবগুলোকে সোজা বা উলম্ব অবস্থায় দাঁড় করাতে হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, এতে অ্যান্টি-শিপ বা ভূমিতে আঘাত হানার মতো মারাত্মক মিসাইল বহন করা হবে। যেহেতু মিসাইলগুলো খোলা আকাশে ভেসে উঠে উৎক্ষেপণ করা হবে, তাই এতে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘ওয়াইজে-২০’ হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি, যা সাধারণত চীনের টাইপ-০৫৫ ক্রুজারে দেখা যায়।
চালকহীন ও ট্রাইমারান কাঠামোর রহস্য
নতুন এই সাবমেরিনে কোনো নিয়মিত সেনা বা চালক দল থাকার সম্ভাবনা কম বলে জানান ‘কে৩৯ কনসাল্টিং’-এর প্রিন্সিপাল কনসালট্যান্ট এবং জাহাজ নকশা বিশেষজ্ঞ ড. র‌্যাচেল পলিং। তিনি জানান, ‘এই যুদ্ধজাহাজটি ডুবন্ত অবস্থায় প্রায় ৯০০ টন পানি প্রতিস্থাপন করতে পারে। অস্ত্র ও বিশাল হ্যাঙ্গারগুলো জাহাজের বেশিরভাগ স্থান দখল করায় বাকি জায়গায় মানুষের বসবাসের মতো পরিবেশ অসম্ভব। জাহাজের উপরে একটি খোলা ব্রিজ রয়েছে, তবে তা কেবল বন্দরে আসা-যাওয়ার সময় মানুষের দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহার করা হয়, যা সাধারণত চালকহীন বড় যানে (ইউএসভি) দেখা যায়।’ প্রোফাইল অনুযায়ী, এর ট্রাইমারান বা তিন-হালি বডি পানি ও সাগরের পৃষ্ঠে যাতায়াত ও মিসাইল তোলার সময়ে জাহাজের ভারসাম্য নিশ্চিত করে। পানির নিচে এটি ডিজেল ইঞ্জিনে চালানোর জন্য স্নোরকেল সিস্টেম রাখা হয়েছে এবং এর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক স্ক্রু ও পাম্পজেট প্রোপালশন ব্যবহার করা হয়েছে।
ঠান্ডা যুদ্ধের স্মারক ও আধুনিক যুদ্ধকৌশল
ড. পলিংয়ের মতে, এই নতুন যুদ্ধজাহাজটির মূল দর্শন ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘জুলিয়েট ক্লাস’ ক্রুজ মিসাইল সাবমেরিনের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেটিও একটি ডিজেল সাবমেরিন ছিল যা উপরিভাগে এসে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ত।
তবে চীনা প্রযুক্তির এই নতুন সংস্করণ অনেক বেশি আধুনিক। উন্নত হাইপারসনিক মিসাইলের বিস্তৃত পাল্লার কারণে এটি সমুদ্রের অনেক দূর থেকেই অদৃশ্যভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছড়াতে পারবে। এটি চীনের কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত একটি ভাসমান ট্রান্সপোর্টার ও লঞ্চার হিসেবে কাজ করবে, যা শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে আকস্মিক কিন্তু বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে নিমেষেই সটকে পড়তে সক্ষম।
চীন এখনই এই রহস্যময় প্রজেক্ট নিয়ে বিশ্ব দরবারে মুখ খুলছে না। তবে তাদের এই ব্যতিক্রমী ট্রাইমারান সাবমেরিন যে আধুনিক নৌ-যুদ্ধের কৌশল ও ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারেÑতা নিশ্চিত করেই বলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।