বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

আধুনিক শিক্ষিতদের ধর্মীয় জ্ঞান লাভের উপায়

আল্লামা আশরাফ আলী থানবি (রহ.)
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫

আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের আলেমদের সংসর্গে রাখুন। বন্ধের সময় কিছুদিনের জন্য তাদের বুজুর্গ আলেমদের কাছে পাঠিয়ে দিন। তাদের অবসর সময়ে ধর্মীয় বই-পুস্তক পড়তে উদ্বুদ্ধ করুন। চরিত্র বিনষ্টকারী বই-পুস্তক থেকে দূরে রাখুন। এসব বই পড়া তাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রবিরোধী বই-পুস্তক নিজের ঘরে রাখে, তাহলে রাষ্ট্রীয় আইনে এটা জঘন্য অপরাধ বলে গণ্য হবে। রাষ্ট্র এই ব্যক্তিকে অবশ্যই শাস্তি দেবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আধুনিক সমাজের জ্ঞানীরা রাষ্ট্রীয় আইনে অপরাধ বলে গণ্য করে, শরয়ি আইন অনুসারে তদ্রূপ বিষয় থেকে বারণ করাকে তাঁরা ধর্মীয় গোঁড়ামি মনে করে।
চরিত্র ধ্বংসকারী বই রাখতে নিষেধ করা যদি ধর্মীয় গোঁড়ামি হয়, তবে রাষ্ট্রের জন্য রাষ্ট্রবিরোধী বই রাখলে শাস্তি দেওয়া গোঁড়ামি হবে। অথচ সবাই এটাকে সঠিক ও প্রয়োজনীয় মনে করে।
মনে রাখতে হবে, এ কাজ থেকে বারণ করার ভেতর আলেমদের কোনো স্বার্থ নেই; বরং তাদের উদ্দেশ্য শুধু চাই সাধারণ মানুষ শরিয়তের বিধি-বিধান জানুক, বুঝুক এবং মেনে চলুক। হক্কানি আলেম চেনার একটি উপায় হলো ফতোয়া প্রদান ও মাসআলা বলার সময় তাঁরা কাউকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেন না।
যে আলেম মানুষের ইচ্ছানুযায়ী ফতোয়া দেন তিনি স্বার্থপর ও লোভী। তিতা ওষুধ দিলে যেমন চিকিৎসকের কোনো লাভ নেই, তেমনি অপছন্দনীয় কাজের নির্দেশ দেওয়ার ভেতর আলেমদের কোনো স্বার্থ নেই।
আলেমরা মানুষকে এমন কাজ থেকে বারণ করেন, নফস যাতে স্বাদ ও আমোদ পায়। তাই তাঁরা এসব কাজ থেকে বারণ করেন কল্যাণকামিতা থেকে। আল্লাহর কসম! ভ্রান্ত মতাদর্শে বিশ্বাসীদের বই-পুস্তক পড়ে অনেক আলেমের মধ্যেও কুফল প্রকাশ পেতে দেখেছি।
এখন ভেবে দেখুন! কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এসব বই পড়লে তাদের কিই না সর্বনাশ হবে। অনেকেই বলেন, লেখকের ভ্রান্ত মত জানতে ও তার প্রতিকার করতে তাদের বই পড়ছি। আমি বলব, তাও সত্যি নয়। কেননা তা জানা ও খ-ন করা আলেমদের কাজ, কোমলমতি শিশুদের নয়।
একদিন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত এক ব্যক্তি আমার কাছে এসে একটি সূক্ষ্ম মাসআলা জিজ্ঞাসা করলে আমি বললাম, আপনি এই মাসআলা বুঝতে পারবেন না। আমার উত্তর তাঁর খুবই অপছন্দ হলো। তিনি বললেন, আমি কেন বুঝতে পারব না? আমি বললাম, এটা বোঝার জন্য যে কতগুলো প্রাথমিক বিষয়ের জ্ঞান থাকা আবশ্যক আপনি তা লাভ করেননি। আর প্রাথমিক জ্ঞান লাভ না করে উচ্চতর জ্ঞানার্জন করা দুরূহ।
আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের ধর্মীয় জ্ঞান সমৃদ্ধ করার পদ্ধতি হলো : ১. আলেমদের পরামর্শক্রমে নিজের জন্য একটি পাঠক্রম তৈরি করে নেওয়া এবং আলেমদের তত্ত্বাবধানে তা পাঠ করা, ২. নিয়মিত আলেমদের সংস্পর্শে যাতায়াত করা, ৩. ঈমান ও চরিত্র বিধ্বংসী বই পরিহার করা এবং আল্লাহভীরু দ্বিনদার আলেমদের বই-পুস্তক পড়া। মনে রাখতে হবে, একজন মুমিন সন্তানের জন্য দ্বিনি শিক্ষাকেই প্রাধান্য দেবে। অর্থাৎ সে সন্তানকে দ্বিন শেখাবে, দ্বিনি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণের জন্য পাঠাবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জাগতিক শিক্ষার ব্যবস্থাও করবে। আমি যে পরামর্শ দিয়েছে, তা সেসব মানুষের জন্য, যারা দ্বিনকে দুনিয়ার ওপর অগ্রাধিকার দিতে পারেনি। তাদের সন্তানরাও যেন দ্বিনি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য আমার পরামর্শ। মাওয়ায়িজে আশরাফিয়া থেকে মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com