বাংলা কবিতার শক্তিমান কণ্ঠ, মুক্তিকামী মানুষের চেতনায় যিনি এক অনন্য উচ্চারণ, তিনি আল মাহমুদ। গত ১১ জুলাই ছিল এই মহান কবির ৯০তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভক্তরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের খ্যাতনামা গায়ক ও গীতিকার কবীর সুমন-ও।
আধুনিক বাংলা গানের এই পথিকৃৎ আল মাহমুদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, ‘আপনি যে পক্ষই নেন, আপনি আমার কবি। আজও প্রেমের কবি। আমার বৃদ্ধ বয়সেও নাছোড় প্রেমের কবি। ‘এ বক্ষ বিদীর্ণ করে নামে যেন তোমার তালাক।’ আমি যে ডেরায় থাকি, সেখানে একজন আপনার কবিতা পড়ে শোনায়, উদ্ধৃতি দেয়। মাঝে মাঝে মনে হয়, শুধু আপনার কবিতার জন্যই আমি মুসলমান।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমি ভয় পাই না ধর্ম নিয়ে চিৎকার করা লোকদের। আমি বিশ্বাস না করলেও, শুধু আপনার কবিতার জন্য, আপনার ব্যক্তিত্বের জন্য, আমি হয়তো মুসলমান। এখনও বেঁচে আছি যদি কোনো নারী বলে ওঠে ‘কবুল’ এই ঘাটের মড়ার জন্যেও। আপনি কি জানেন আপনি বাংলার একমাত্র আধুনিক কবি, যিনি কবিতায় মুকুন্দরামের নাম নিয়েছেন?’
আল মাহমুদের কাব্যধারা সম্পর্কে কবীর সুমন বলেন, ‘যিনি লিখতে পারেন ‘আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন’, তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারেন। আপনার কবিতা না পড়লে আমি কখনও লিখতে পারতাম না- ‘খোদার কসম জান, আমি ভালোবেসেছি তোমায়।’
তিনি যোগ করেন, ‘আপনি শান্ত হলে আরও অনেক কিছু করতে পারতেন, আমিও। আপনার কবিতা আর শেয়ালের গল্প না লিখলে, আমি মরার আগে বাংলা খেয়াল গাইতে গাইতে জীবন শেষ করতাম না।’
আল মাহমুদের প্রতি গভীর ভালোবাসা জানিয়ে কবীর সুমন বলেন, ‘সুকুমার রায়ের পর আপনি একমাত্র মহাকবি যাকে আমি মানি। আপনি আমার প্রেমের কবি, হৃদয়ের ধর্মের কবি। আপনি বাংলা ভাষার মতো, যা-তা, অথচ খাঁটি। আপনার কবিতা যেমন শান্ত নয়, আপনিও তেমনই। কিন্তু সেই অশান্তিতেই সত্যের দীপ্তি।’
সুমনের আবেগপূর্ণ বার্তা শেষ হয় এই কথায়, ‘আমার জীবনসন্ধ্যায় যদি একটিও তুলসীতলা পাই, সেখানে আমি আপনার নামে প্রদীপ জ্বালাব। আপনার নামে আমি মিথ্যে বলতে পারি না। আমার জীবনের দেশ নেই, মানচিত্র নেই, আছে শুধু বাংলা খেয়াল, আর আছে আপনার কবিতায় হৃদয়ের গাঙে ওঠা ঢেউ। কসম খোদার, সংযমী মহাকবি আল মাহমুদ।’