চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার ফেনী নদীতে ইজারা না থাকলেও পূর্বের ইজারার স্লিপ দিয়ে নীরবে চলছে চাঁদাবাজি। বৃহত্তর ফেনী নদী বালু ব্যবসায়ী সমিতির অন্তর্গত মেসার্স লিজা এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের ৩১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ইজারা ছিল। পট পরিবর্তনের পরে ইজারাদার আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে গেলেও তাদের সাথে গোপন আঁতাত করে ফেনী নদীতে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় একটি মহল। এতে করে ১৪৩২ বঙ্গাব্দে বাংলাদেশ সরকার কোন ইজারা দেয়নি। চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ছয়টায় ফেনী নদী থেকে বাল উত্তোলন আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়। বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও বালু বিক্রি হচ্ছে। এই বালু ক্রয় করতে গিয়ে প্রতিদিন ক্রেতাদের থেকে রয়ালিটি নামক চাঁদাবাজির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। পূর্বের ইজারাদাররা প্রতি ফিট বালিতে দেড় টাকা থেকে দুই টাকা রয়্যালিটি আদায় করতো। কিন্তু পট পরিবর্তনের পরে এই রয়্যালিটি বেড়ে দাঁড়ায় তিন থেকে চার গুণ। মোল্লা ঘাট এবং চৌধুরী ঘাট থেকে বালু ক্রয় করতে হলে প্রতি ফিট বালুতে রয়ালিটি দিতে হয় ৮ টাকা। শুভপুর ঘাট থেকে বালু ক্রয় করতে হলে রয়্যালিটি দিতে হয় ৭ টাকা এবং ধুমঘাট থেকে বালু ক্রয় করতে হলে রয়্যালিটি দিতে হয় ৬ টাকা। প্রতিদিন কয়েক লক্ষ সেফটি বালু বিক্রি হচ্ছে এই ঘাটগুলো থেকে। তাহলে জনমনে প্রশ্ন এখন তো ইজারাদার নেই কিংবা সরকারকেও কোন ইজারা মূল্য দিতে হচ্ছে না তাহলে প্রতিদিন এই লক্ষ লক্ষ টাকা কার পকেটে ঢুকছে ? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পিকআপ চালক বলেন, আগে বালু কিনতে দিতে হতো ২ টাকা এখন সে জায়গায় নিচ্ছে ৮ টাকা। স্লিপে কোন টাকার অংক লিখে না শুধুমাত্র কত ফিট বালু ক্রয় করছি এটা উল্লেখ থাকে। আমাদের প্রশ্ন, যদি ৮ টাকা নেওয়ার অনুমতি থাকে তাহলে সেটা স্লিপে উল্লেখ করবে। উল্লেখ না করে এভাবে বালু ক্রয় করে অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বৃহত্তর ফেনী নদী বালু ব্যবসায়ী সমিতি ম্যানেজার মহসিন আলী একটি মামলায় কারাগারে থাকলেও তার অবর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবলু বলেন, বালুতো রয়েলিটি দিয়ে উঠেছে। ইজারা নাই তবে ইজারার বাপ চলতেছে। ইজারা থেকে বেশি খরচ করতে হচ্ছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে। যে ড্রাইভার আপনাদের অভিযোগ দিয়েছে তাকে আমার কাছে নিয়ে আসেন।
আমরা সরকারকে টাকা দিয়ে বালু তুলেছি। রয়্যালিটি বেশি নিলে আপনার সমস্যা কি? আপনার পকেট থেকে টাকা যাচ্ছে নাকি আপনি পুঁজি দিয়েছেন বলে সাংবাদিকের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এই বিএনপি নেতা। এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, রয়্যালিটির বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে অবগত হয়েছি। রয়্যালিটির বিষয়ে কোনো ডকুমেন্টস থাকলে আমাকে দেন। আমি এর সাথে জড়িত যারা তাদের সাথে কথা বলব এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখব।