ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ঘটনায় পাশের দেশের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।
বাংলাদেশের পোশাক খাতের বাজার যেন কমে যায় তা পাশের দেশ চায় উল্লেখ করে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবছর আমাদের পোশাক খাতে ছয় শতাংশ বাজার কমেছে, নিট খাতে পাঁচ শতাংশ কমেছে। গত বছর জুলাই আন্দোলন হয়েছে, সে সময়ও এত কমেনি। তাহলে এবছর কেন বাজার কমলো? এটা ষড়যন্ত্রের অংশ।’
গতকাল সোমবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে শওকত আজিজ রাসেল এসব কথা বলেন। কার্গো ভিলেজে অগ্নিকা-ের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইএবি সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ‘এক ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে আমাদের দেশে। একের পর এক ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটা ম্যাচের দাম এক টাকা হতে পারে। কিন্তু একটা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। এই জিনিসগুলো একটা গ্রুপ আছে, তারা মূল্যায়ন করে না। আমরা বড়ভাবেই ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছি। এটা কোনো খেলার মাঠ না, এটা আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর এবং রাজধানী শহরে। আমাদের ভাবার বিষয় আছে। ভীষণভাবে ভাবার বিষয় আছে। অনেক ক্রেতা আমাদের দেশ থেকে চলে যাচ্ছেন। অনেক ক্রেতা, যাদের আসার কথা ছিল তারা আসবেন কি না চিন্তা করছেন।’
রাসেল সতর্ক করে দিয়ে জানান, এই ক্ষতি করা এখন বিমানবন্দর পর্যন্ত চলে গেছে। এরপর ঘরবাড়ি পোড়ানোর সময় আসবে।
বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র কারা করছে- এমন প্রশ্নের জবাবে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘এটি এমন একটা ভূরাজনৈতিক অবস্থান, এখানে অনেকের চোখ পড়েছে। রাজনৈতিক এক ধরনের ষড়যন্ত্র আছে। বহির্বিশ্বে যেন আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় তা নিয়ে এক ধরনের ষড়যন্ত্র আছে। পার্শ্ববর্তী দেশের এক ধরনের চিন্তাভাবনা আছে যাতে তাদের ব্যবসা ভালো হয়, আমাদের ব্যবসা কমে যায়।’
সংবাদ সম্মেলনে ইএবি সভাপতি হাতেম জানান, কার্গো ভিলেজের আগুনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কার্গো ভিলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন শনাক্ত ও প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এতে জড়িতদের শাস্তির দাবি করেন তিনি।
অন্তত ২০০ কোটি টাকার ওষুধের কাঁচামাল পুড়ে গেছে: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুনে অন্তত ২০০ কোটি টাকার ওষুধের কাঁচামাল পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন।
সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে কারওয়ান বাজারের একটি হোটেলে কার্গো ভিলেজে অগ্নিকা-ের পর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
ওষুধশিল্প সমিতির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশে ৩০৭টি ওষুধ কোম্পানি আছে। এর মধ্যে ২৫০ কোম্পানি সচল আছে। আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত শীর্ষস্থানীয় ৩২ কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের ২০০ কোটি টাকার বেশি কাঁচামাল পুড়ে গেছে। বাকি কোম্পানিগুলো হিসাব দিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুনে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইএবি সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
জাকির হোসেন বলেন, একেকটি ওষুধ উৎপাদনে ৫৩টি পর্যন্ত উপকরণের প্রয়োজন হয়। ফলে ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ার কারণে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার ওষুধের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তবে এখনই সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টি হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, শনিবার আগুনের সময় অনেক বিমান চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেসব বিমানে থাকা ওষুধের কাঁচামাল শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাক থাকবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা আছে। কেননা ওষুধের কাঁচামাল সংরক্ষণে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরি বিষয়। সেখানে এ ব্যবস্থা নেই।
তিনি আরও বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে কত টাকার ক্ষতি হয়েছে, সেটা আমরা সব কোম্পানির কাছ থেকে জেনে আরও বিস্তারিত জানাতে পারবো। তবে এতে যে ওষুধশিল্প খাতের একটি বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে সেটি ঠিক। এসময় তিনি অন্যান্য দেশের মতো বিমানবন্দরের পণ্য খালাস কার্যক্রম ৩৬৫ দিন চালু রাখার দাবি জানান।