বাংলাদেশ থেকে কমেছে ৭৩ শতাংশ
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় সরাসরি ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে ভারতের পর্যটন খাতে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে বিদেশি পর্যটক আগমনের সংখ্যা ৯ শতাংশ কমে ৯০ লাখ ২০ হাজারে নেমে এসেছে। কূটনৈতিক উত্তেজনার জেরে উভয় দেশেই ভিসা প্রদানের হার কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতীতে বাংলাদেশ থেকে আসা পর্যটকদের সংখ্যা বিচারে দেশটি ভারতের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস ছিল। তবে নতুন তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে বাংলাদেশ এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা পর্যটকের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৩ শতাংশ কম। সামগ্রিকভাবে বিদেশি পর্যটক আগমনের যে ১২ লাখ ৮০ হাজার ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তার বড় একটি অংশই বাংলাদেশ থেকে না আসায় এই বড় ধরনের পতন ঘটেছে।
তবে ভারতের পর্যটন শিল্পের সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা এই সংখ্যাগত পতনে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন। তাদের মতে, বাংলাদেশ থেকে যারা ভারতে আসতেন, তাদের একটা বড় অংশই পর্যটনের চেয়ে মূলত চিকিৎসা এবং কাজের উদ্দেশ্যে আসতেন। তাই প্রকৃত পর্যটন শিল্পের ওপর এর প্রভাব খুব বেশি নয় বলে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে, ভারতীয়দের বিদেশ ভ্রমণের প্রবণতা ২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। গত বছর প্রায় ৩.৩ কোটি ভারতীয় বিদেশে ভ্রমণ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৬.৬ শতাংশ বেশি। তবে সৌদি আরব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় ভ্রমণকারী ভারতীয়দের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
ভারতের পর্যটন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে বিলাসবহুল হোটেলের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক বিদেশি পর্যটক এখন থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া বা শ্রীলঙ্কার মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী গন্তব্যগুলোকে বেছে নিচ্ছেন। ভারতের হোটেল মালিকদের দাবি, অভ্যন্তরীণ পর্যটন এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণের চাহিদা যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ায় বিদেশি পর্যটক কিছুটা কমলেও সামগ্রিক ব্যবসায় বড় কোনো প্রভাব পড়ছে না।