বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক বলেন, আমরা এই দেশকে আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বলে মনে করি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যও আমাদেরই কাজ করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামেনের কাছে আসুন আমরা এই দোয়া করি যেন আমাদের সবাইকে ঐক্যবব্ধভাবে দেশের জন্য কাজ করার তৌফিন দেন। আমরা সবাই যদি একসাথে কাজ করি, তাহলে নিশ্চয়ই এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব ইনশা আল্লাহ। বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হলো রাজধানী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (সাবেক চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) পৌঁছান। সেখানে পৌঁছালে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে তিনি আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনায় আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেল সোয়া ৫টায় রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল শুরু হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় ক্বারী বেলাল হোসাইনের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয় ইফতার মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দোয়া ও মুনজাত পরিচলনা করেন ১১ দলের অন্যতম শীর্ষনেতা মাওলানা মামুনুল হক। এছাড়াও উপস্থিত হয়েছেন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপি ও নেতৃবৃন্দ, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সাবেক বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক, ওলামা-মাশায়েখ, কবি সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদের নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবাই এখানে একত্রিত হয়েছি। কিছুদিন আগে দেশে নির্বাচন হয়েছে, এ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। যে গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের মানুষ প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অকাতরে জীবন দিয়েছে, বিভিন্ন অত্যাচার-নির্যাতন, গুম-খুনের শিকার হয়েছে। এত ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজকের এই গণতন্ত্রের যাত্রা যেটি সূচনা হচ্ছে বা হয়েছে, নির্বাচনের মাধ্যমে সেটির সুযোগ পেয়েছি।
তিনি বলেন, আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আজ আমাকে, আমার সঙ্গে আমার নেতৃবৃন্দকে এবং আমার সফরসঙ্গীদের এই ইফতার মাহফিলে দাওয়াত দেওয়ার জন্য।
সরকারপ্রধান বলেন, সম্মানিত সব নেতৃবৃন্দ ও উপস্থিতি, আজ এখানে শুধু আমি নই, এখানে শুধু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ বা কর্মীবৃন্দই নন; আমাদের বাইরেও এখানে অন্যান্য আরও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ আছেন, এখানে আরও অন্যান্য সমাজের অন্যান্য বিভিন্ন স্তরের বিভিন্ন সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত আছেন আজকের এই ইফতার মাহফিলে।
তারেক রহমান বলেন, সম্মানিত উপস্থিতি, বাংলাদেশের মানুষ আজ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে, অনেক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে, অনেক আশা নিয়ে আমাদের সবার দিকে তাকিয়ে আছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আজ আমাদের এই ইফতার মাহফিলে আসুন আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি যে, আমাদের আগামীদিনের কাজগুলো হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।
তিনি বলেন, আসুন আমরা আল্লাহর দরবারে সেই রহমত চাই যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, এই দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার তৌফিক আল্লাহ তাআলা আমাদের দেবেন।
এই ইফতার মাহফিলে তাকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য তিনি আবারও জামায়াতে ইসলামী এবং দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ সব নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।