বিভিন্ন অলিগলি ও চলাচলের পথের উপর দোকান বসিয়ে দেদারসে চলছে কেনাবেচা। হাটের পুরো জায়গা যেন ব্যবসায়ী কিংবা বিক্রেতাদের, ক্রেতা সাধারণের যেন কোন মূল্য নাই। ঠেলাঠেলি করে বাজার করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন হাটে আসা ভোক্তা সাধারণ। কেউ কেউ নামে মাত্র দখল করে রেখেছেন হাটের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। অনেকেই দখল করে নিয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পরিত্যক্ত জায়গা। অনেকেই কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া চাঁদনী এবং চলাচলের পথের উপর বসিয়েছেন বিভিন্ন দোকান পাট। এসব নানা কারণে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে হাটের মূল সৌন্দর্য। অভিযোগ রয়েছে কেউ কেউ দখলীয় জায়গা হাত বদল করে কেউ কেউ হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এটি কোন সাধারণ হাট নয়, পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাঁদখালী হাটের বর্তমান অবস্থা এমনই। ৩ মার্চ মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন গেলে চরম অস্বস্তি আর নানান অনিয়ম এবং ভোগান্তির কথা জানান হাঁটে আসা ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এবং সাধারণ ব্যবসায়ী এবং হাট কমিটির নেতৃবৃন্দ। সাইফুল ইসলাম বলেন অব্যবস্থাপনার কারণে অস্বস্তিকর পরিবেশে বাজার করতে হয়। হাটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোন শৃঙ্খলা নাই। যে যেখানে সুযোগ পাচ্ছে সেখানেই দোকান বসাচ্ছে। হাটের পরিবেশের দিকে কারোর খেয়াল নাই। ফটিক সরদার বলেন কেউ দখল করে রেখেছে কিন্তু সে নিয়মিত ব্যবসায়ী নয়। আবার কেউ হাত বদল করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। ব্যবসায়ী আব্দুর রশীদ খানজু বলেন মাছ মাংস ও সবজি সহ সকল বাজার নির্ধারিত স্থানে হওয়া উচিত। এবং ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা প্রয়োজন। আব্দুল আজিজ জানান এটি এ অঞ্চলের পুরাতন হাটের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে ঐতিহ্যবাহী এ হাটের প্রতি মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। হাট কমিটির সভাপতি নাজমুল হুদা মিন্টু বলেন নানা সমস্যায় জর্জরিত চাঁদখালী হাট। তিনি বলেন এঅঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বড় পশু হাট এখানে। সরকার প্রতি বছর হাট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা রাজস্ব পায়, কিন্তু উন্নয়ন এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে চাঁদখালী হাট। হাটের বিভিন্ন সমস্যা এবং উন্নয়নের ব্যাপারে সহকারী কমিশনার ভূমি মহোদয় বরাবর আবেদন করা হয়েছে বলে বাজার কমিটির সভাপতি জানান। চাঁদখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল্ল্যাহ সরদার বলেন আশেপাশের অনেক হাটের উন্নয়ন হলেও চাঁদখালী হাট এখনো অবহেলিত রয়েছে। রাস্তা, চাঁদনী এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ ফজলে রাব্বী জানান হাটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে এবং যেসব সমস্যা এবং অব্যবস্থাপনা রয়েছে তার বিরুদ্ধে খুব দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উপজেলা ভূমি প্রশাসনের দায়িত্বশীল এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।