মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
একেকটি খাল, একেকটির গ্রামের প্রাণ-আমান উল্লাহ আমান খাল খননে দেশের কৃষি শস্যপণ্য উৎপাদনে বিরাট ভূমিকা পালন করে-প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এমপি কালীগঞ্জ অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল কালিয়ায় মৌসুমি ফসলের দখলে সকল সড়ক, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর-ঢাকা চলাচলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি বেহাল দশা আজ বারুনী স্নানে শেষ হচ্ছে ৪শ বছরের ঐতিহ্য জামালপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে নি¤œমানের লাচ্ছা সেমাই: স্থানীয় প্রশাসন নিরব ফকিরহাটে ২৫ কেজি করে চাল পেল ৩০০ পরিবার কালিয়ায় বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ উদ্বোধন আগৈলঝাড়া উপজেলা থেকে কর্মস্থল ত্যাগ ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময়

নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর-ঢাকা চলাচলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি বেহাল দশা

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কোনাঘাট থেকে শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ ও ধুলাবালির কারণে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই সড়কটি শুধু শ্যামগ্রামের শিক্ষার্থী ও রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়; নবীনগর থেকে বাঞ্ছারামপুর কড়ইকান্দি ফেরিঘাট হয়ে রাজধানী ঢাকায় চলাচলের একমাত্র পথ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে ব্যবসা, চাকরি ও অন্যান্য প্রয়োজনে রাজধানী যাতায়াত করেন। কোনাঘাট মোড় থেকে শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়কের বেশির ভাগ অংশই এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কয়েক বছর আগে কোনাঘাট থেকে শ্যামগ্রাম মোড় পর্যন্ত অংশে কার্পেটিং করা হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। শ্যামগ্রাম কাঠালবাগান সংলগ্ন ব্রিজ, বাজারের সামনের ব্রিজ এবং শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সামনের ব্রিজের ওঠার অংশ নাজুক হয়ে পড়েছে।এসব স্থানে প্রায়ই যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি উড়তে থাকে, যা পথচারীদের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রসুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, আমি স্ট্রোকের রোগী। চিকিৎসার জন্য নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। কিন্তু রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে অনেক সময় নিয়মিত চেকআপ করানো সম্ভব হয় না। সিএনজি চালক সোহেল মিয়া বলেন, গর্ত ও ভাঙা ব্রিজের ওঠার অংশগুলোয় গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। দ্রুত মেরামতের প্রয়োজন। স্থানীয় সমাজসেবক শফিকুল ইসলাম বলেন, এই সড়কটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। আবার হাজার হাজার রোগী নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যায়। এছাড়া লোকজন ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলায় যাতায়াত করে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা জররী। শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোস্তাক আহাম্মদ বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে আসে। সড়কটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বড়ই হুমকির মুখে। সরকারি তৎপরতা এবং দ্রুত সংস্কারের কাজ খুবই জরুরী। নবীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাহবুব হোসেন বলেন, সড়কটির বেশির ভাগ অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। ইতোমধ্যেই সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকার থেকে বরাদ্দ পাওয়া মাত্র কাজ শুরু হবে। স্থানীয়দের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সড়কটি নবীনগরের পশ্চিমাঞ্চলের অতন্ত পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের প্রধান পথ। দ্রুত সংস্কার না হলে জনদূর্ঘটনা, আর্থ-সামাজিক ক্ষতি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com