আজ থেকে শুরু হচ্ছে দক্ষিণ খুলনার ঐতিহ্যবাহী কপিলমুনির মহা বারুনী স্নান। আজ ১৭ই মার্চ, মঙ্গলবার (২রা চৈত্র) মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী সকাল৫ টা ৫৪ মিনিটে শতভিষা নক্ষত্র যোগে কালীবাড়ী ঘাটে স্নান শুরু হয়ে শেষ হবে সকাল ৮টা ৩৭মিনিটে। মাসব্যাপী সার্কাস, যাত্রাপালা আর হরেকরকম আয়োজনে জমজমাট থাকতো কপিলমুনি এলাকা। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ১ যুগ ধরে নেই কোন আয়োজন। যার ফলে বর্তমান প্রজন্ম যানেই না কপিলমুনির ঐতিহ্যবাহী বারুণী মেলা কি। এ মেলাকে ঘিরে রয়েছে নানা ইতিহাস ও নানা কাহিনী। ঐতিহ্যবাহী এ বারুনী মেলা দক্ষিণ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধতায় ভরে দিয়েছে। এ মেলার প্রতি শুধু বর্ধিষ্ণু জনপদ কপিলমুনি নয় আশপাশের বিভিন্ন জেলার সংস্কৃতিমনা মানুষের রয়েছে এক দুর্নিবার আকর্ষণ। পক্ষকালব্যাপী এ মেলাকে ঘিরে সার্কাস, যাদু, পুতুলনাচসহ বসে যাত্রাপালার আসর। আর মনোহরী দোকানের পাশাপশি বাহারী মিষ্টান্ন দ্রব্য ও মোয়া-মুড়কির পসরা বসে। বসে কাঠ, বাঁশ ও বেঁতের নানা গৃহস্থলী সামগ্রীর দোকান ও বইয়ের স্টল। অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে আয়োজিত হওয়ায় মেলাটি মুগ্ধতায় ভরে ওঠে। নানা জটিলতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দুর্বিপাকের কারণে ১ যুগ ধরে কপিলমুনিতে মেলা বসেনি। তাই হারিয়ে যাওয়া এ মেলাকে প্রায় ভুলতে বসেছিল কপিলমুনিবাসী। জানা যায়, কোন এক চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে শতভিষা নক্ষত্রযোগে মহামুনি কপিলদেব কপিলমুনির কপোতাক্ষ ঘাটে সাধনায় মা গঙ্গার সাক্ষাৎ পেয়ে সিদ্ধি লাভ করেন। এ কারণে তাঁর সিদ্ধিলাভের দিনটিকে স্মরণ রাখতে ও নিজেকে পাপমুক্ত করতে ধর্ম প্রাণ সনাতন ভক্তরা কপোতাক্ষ নদের কপিলমুনি নামক স্থানের কালীবাড়ী ঘাটে ১হাজার বছর ধরে গঙ্গা স্নান বা বারুণী স্নান করে পুত-পবিত্র হয়ে উৎসব পালন করে আসছেন। তবে এ উপলক্ষ্যে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৪শত বছর ধরে। প্রবাদ আছে, মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে গঙ্গার পবিত্র জল এই স্থানে প্রবাহিত হয়। বরুণ জলের দেবতা, বরুণের স্ত্রী বারুণী, বারুণীর আর এক নাম গঙ্গা। তাই বারুণী স্নান মানেই গঙ্গা স্নান। অতীত ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে তাই আয়োজক কমিটি এবারও মহা বারুণীর পূণ্যস্নানের অয়োজন করেছেন। কপিলমুনি জাফর আউলীয়া মাজারের খাদেম শেখ ইউনুস আলী বলেন, বারুনী মেলা আমাদের ঐতিহ্য, মেলা অনুষ্ঠানের জন্য বারুনী মেলা সকল শ্রেণির মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হোক এটা আমার প্রত্যাশা। আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও দর্শনার্থীদের জন্য খাওয়া-থাকার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। কপিলমুনি বারুনী স্নান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চম্পক পাল বলেন, সেই স্মরণাতীত কাল থেকে কপিলমুনিতে বারুণী হয়ে থাকে। সকল শ্রেণীর মানুষ মেলা উপভোগ করে থাকেন। কিন্তু প্রায় ১ যুগ যাবৎ মেলা না হওয়ায় এ জনপদের মানুষ বিনোদন থেকে বঞ্চিত হয়। সরকারের কাছে তিনি দাবি রেখে বলেন, আবারো জমজমাট ভাবে বারুনী মেলার আয়োজন করা যায় সেই ব্যাবস্থা করবেন।