জনশক্তি তৈরি এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খুলনার কয়রায় এক ব্যতিক্রমী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ১০টায় জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে খান সাহেব কোমর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে ‘মানব সম্পদ উন্নয়ন ও নিরাপদ অভিবাসন: প্রেক্ষিত সৌদি আরব ও জাপান’ শীর্ষক এই সেমিনার সম্পন্ন হয়। খুলনা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আ.স.ম জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইটি-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) জনাব মোঃ আশরাফ হোসেন। সেমিনারে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ১ কোটি জনশক্তি বিদেশে নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে সৌদি আরব ও জাপানের মতো দেশগুলোতে দক্ষ কর্মী প্রেরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, “ফ্রি ভিসা কোনো চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না। কর্মসংস্থান চুক্তি (Employment Contract) ব্যতীত এবং প্রয়োজনীয় ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন না করে বিদেশে যাওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।” সেমিনারে জানানো হয়, গত ১০ বছরে বিদেশগমনকারী প্রায় ৭৬ লাখ কর্মীর ৫৪ শতাংশই ছিলেন অদক্ষ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মীদের বড় অংশ আরবি ভাষা না জানায় বেতন ও পদমর্যাদার দিক থেকে পিছিয়ে থাকছেন। এই সংকট কাটাতে দ্বিতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ের ১০০ নম্বরের মধ্যে অন্তত ৪০ নম্বর আরবি ভাষা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ করার একটি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়, যাতে বাড়তি শিক্ষক ছাড়াই শিক্ষার্থীরা এই ভাষা রপ্ত করতে পারে। বর্তমানে বিএমইটির অধীনে ১০৪টি টিটিসি এবং ৬টি আইএমটি-তে ১৩০টি পেশায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। সৌদি আরবের ‘স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা মাসিক ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া ইংরেজি, জাপানিজ, কোরিয়ান ও জার্মানসহ প্রধান ভাষাগুলোর পাশাপাশি রাশিয়ান ও ফ্রেঞ্চ ভাষা কোর্স চালুর পরিকল্পনাও জানানো হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, অহেতুক ভিটেমাটি বিক্রি করে অনিশ্চিত পথে বিদেশ গমন পরিহার করতে হবে। ইউনিয়ন ও পৌর ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন ও ছাড়পত্রের আবেদন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার সুযোগ এখন হাতের নাগালে। ?সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী, পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী, খান সাহেব কোমর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ডাঃ খান আহমেদ হেলালী এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর খান আহমেদ ফয়সাল, কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহিদুল ইসলাম (জাহাঙ্গীর) অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শহীদ এম.এ. গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আনারুল ইসলাম। ?কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশ গমনেচ্ছু বিপুল সংখ্যক যুবক এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম উপকূলীয় অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।