মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌর এলাকায় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীনের ছবি সম্বলিত তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিষিদ্ধ কার্যক্রমে জড়িত এই নেতার উপস্থিতি জানান দিতে পরিকল্পিতভাবে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরকাদিম পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শাহীন গত ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক রয়েছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় তার অনুসারীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ নানা কার্যক্রমও চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মিরকাদিম ঈদগাহ মাঠের সামনে, গোপালনগর এলাকাসহ একাধিক স্থানে বড় বড় তোরণ নির্মাণ করে শাহীনের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার টানানো হয়। ব্যানারে তাকে সাবেক পৌর মেয়র হিসেবে উল্লেখ করা হলেও আওয়ামী লীগের কোনো পদবি ব্যবহার করা হয়নি। গত শনিবার থেকে তোরণগুলো স্থানীয়দের নজরে আসে এবং টানা তিন দিন দৃশ্যমান ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোরণের ছবি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে রোববার গভীর রাতে তোরণ থেকে ব্যানারগুলো সরিয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, পলাতক একজন ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে প্রকাশ্যে তোরণ নির্মাণের সাহস কারা পেলো এবং প্রশাসন বিষয়টি আগে থেকে জানতে পারলো না কেন? এমন প্রশ্ন হাজারও মানুষের। মুন্সীগঞ্জ থানার একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তদন্ত চলছে। মীরকাদিম পৌর সভাপতি জসিমউদদীন বলেন, সাবেক মেয়র অনেক সন্ত্রাসী আছে, তাদের মাধ্যমে ঐ তোরন তৈরি করেছে। রোজার মধ্যে প্রচুর পরিমানে উপহারও এলাকায় বিতরন করেছে তার বাহিনী দিয়ে। আমরা যতটুকু হাতের নাগালে পেয়েছি তা থেকে বিরত রাখতে ঐক্যবদ্ধ কাজ করেছি। তবে এই ধরনের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় প্রশ্রয় উপর নেতারা করতে পারে, আমরা ছোট নেতা, তৃনমূল আছি। মেয়র শাহিনের কাছ হতে এখনও কিছু নেতারা নিয়মিত মোটা অংকের অর্থ আদায় করে বলেও করছেন বলেও জানায় পৌর বিএনপির নেতা জসিমউদদীন। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. ফিরোজ কবির বলেন, কে বা কারা তোরণ নির্মাণ করেছে এবং পরে সরিয়ে নিয়েছেএ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মিরকাদিম পৌরসভার সাবেক মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীনের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলাসহ চার থেকে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এসব মামলার বিষয়েও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।