রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
পারস্যের আগুন ও পশ্চিমা তৃষ্ণা: পানিপথের যুদ্ধ এলজিইডির উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে সমন্বিত পরিকল্পনাতে জোর দিতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে তারেক রহমান আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করে আদা ও কলা চাষে লিটনের অনন্য সাফল্য চারদিনের সফরে পাবনায় রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘে স্বাধীনতা দিবসের সংবর্ধনায় বহুপাক্ষিকতার ওপর গুরুত্বারোপ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংবিধান সংস্কারে জনপ্রত্যাশা ও ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোক জর্ডানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিলেন আফঈদারা ফ্যানে ‘খট-খট’ শব্দ, সার্ভিসিংয়ের আগে নিজেই যা করবেন

আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করে আদা ও কলা চাষে লিটনের অনন্য সাফল্য

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর জেলা রংপুরে আধুনিক কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের ফাজিল খাঁ গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মো. হাছানুর রহমান লিটনের সাফল্যে আলোর মুখ দেখছে এ উদ্যোগ।
পরিকল্পিত চাষাবাদ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে তিনি আজ শুধু নিজের ভাগ্যই পরিবর্তন করেননি, বরং স্থানীয় যুবকদের জন্যও সৃষ্টি করেছেন কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র।
বস্তায় আদা চাষ: কম জায়গায় বেশি লাভ
প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে লিটন বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন। যা বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই পদ্ধতিতে কম জমিতে অধিক উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় এটি কৃষকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। উন্নত মানের বীজ, জৈব সার এবং সঠিক সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি আদা উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বস্তায় আদা চাষে রোগবালাই কম হয় এবং উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি একটি লাভজনক কৃষি উদ্যোগ হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
বাণিজ্যিক কলা চাষে নতুন দিগন্ত
লিটন প্রায় দেড় একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কলার বাগান গড়ে তুলেছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চারা রোপণ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে তার কলা বাগান এখন ফলনে ভরপুর। স্থানীয় বাজারে তার উৎপাদিত কলার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, যা তাকে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।
২০ যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ
তার এই কৃষি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বর্তমানে প্রায় ২০ জন স্থানীয় বেকার যুবক নিয়মিত কাজের সুযোগ পেয়েছেন। কেউ কাজ করছেন বাগানের পরিচর্যায়, কেউ ফসল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে।
উদ্যোক্তার ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বাসসের সাথে আলাপকালে হাছানুর রহমান লিটন বলেন, কৃষিকে যদি আধুনিকভাবে পরিচালনা করা যায়, তাহলে এটি শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, বরং একটি লাভজনক ব্যবসায় রূপ নিতে পারে। আমি চাই নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও এই পথে এগিয়ে নিতে।
তিনি জানান, সরকারি প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে তিনি তার প্রকল্পকে আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত করতে চান।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
স্থানীয়দের মতে, লিটনের এই উদ্যোগ গ্রামের অন্যান্য তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। কৃষিকে নতুনভাবে দেখার আগ্রহ বাড়ছে। যা দীর্ঘমেয়াদে গ্রাম থেকে শহরে কর্মসংস্থানের চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
সচেতন মহল মনে করছেন, তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা বৃদ্ধি করা গেলে দেশের কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। এতে করে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া যাবে।
হাছানুর রহমান লিটনের মতো উদ্যমী তরুণদের হাত ধরেই বদলে যেতে পারে দেশের কৃষি খাতের চিত্র। আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক পরিকল্পনা এবং সরকারি সহায়তার সমন্বয় হলে কৃষির সম্ভাবনা আরও বাড়বে।
রংপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফা বিনতে আজিজ বাসসকে বলেন, এ অঞ্চলে আদা চাষের সম্ভাবনা বেশ ভালো এবং সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে কৃষকরা লাভবান হতে পারেন। লিটনের মতো উদ্যোগী তরুণরা এগিয়ে আসলে এ খাতে ব্যাপক সাফল্য সম্ভব।
তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে যাতে তারা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে পারেন।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যদি এ ধরনের কৃষিকাজে উদ্যোগী হন, তাহলে সরকারিভাবে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যাতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকরা আরও উৎসাহিত হন।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com