বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

পাইকারি মার্কেটে খুচরা বেচাকেনা

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শনিবার, ১ মে, ২০২১

রাজধানীর গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া, বঙ্গবাজার, ইসলামপুরের কাপড় এবং জুতা মার্কেট পাইকারি বেচাকেনার জন্য সুপরিচিত। কিন্তু এবার এই এলাকার মার্কেটগুলোতে পাইকারের দেখা নেই। এখন খুচরায় বিক্রি করছেন দোকানিরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের কারণে সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা মালামাল কিনতে আসছেন না। দোকানের খরচ মেটাতেই খুচরা বেচাকেনা করতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হবে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ৫ এপ্রিল থেকে সারাদেশে সাতদিনের জন্য লকডাউন দেয়া হয়। তখন থেকে বন্ধ বিপনিবিতান এবং শপিংমলগুলো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিপনিবিতান এবং শপিংমলগুলো খুলে দেয়ার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। এই দাবি আদায়ে নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, বঙ্গবাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ করেছিলেন। তাদের দাবি মেনে নিয়ে গত ১৪ এপ্রিল থেকে মার্কেট খোলা রাখার ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু গত ৫ এপ্রিলের পর দফায় দফায় লকডাউন বাড়ানোয় গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দূরের ক্রেতারা ঢাকা আসতে পারছেন না। ফলে মার্কেটগুলোতে বেচাকেনাও জমে উঠছে না।
বঙ্গবাজার সংলগ্ন এনেস্কো টাওয়ার নিচতলায় গার্মেন্টসের দোকান লাতু ট্রেডার্স। এই দোকানের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন বলেন, সাধারণত এই মৌসুমে পহেলা বৈশাখ ও ঈদুল ফিতরকে ঘিরে পোশাকের ব্যবসা চাঙা হয়। অথচ লকডাউনের কারণে এবার ব্যবসায় মন্দা লেগেছে। ঢাকার বাইরে ক্রেতাদের দেখা মিলছে না।
এনেস্কো টাওয়ারের তুলনায় টিনসেডের বঙ্গবাজার সুপার মার্কেটে ভিড় বেশি। শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, এই মার্কেটে খুচরা ক্রেতাদের ভিড়। প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি, লুঙ্গিসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় দরদাম করে কেনাকাটা করছেন তারা। দোকানিরাও বেশি দামাদামি না করে সামান্য কিছু লাভে বিক্রি করছেন বলে জানিয়েছেন।
রায়হান গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী রায়হান বলেন, লকডাউনে এমনিতেই দোকানে বেচাকেনা নাই। তাই কোনো ক্রেতা পেলে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছি। এখন ব্যবসায় লাভের চেয়ে কোনোক্রমে চালানটুকু ধরে রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ।
বঙ্গবাজার সুপার মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, গত বছর করোনার কারণে রমজান এবং কুরবানির ঈদের মার্কেটে বেচাকেনা বন্ধ ছিল। ব্যবসায়ীরা ভেবেছিল এবার পরিস্থিতি ভালো থাকবে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ মালামাল কিনে গোডাউনে রেখেছেন। কিন্তু এখন এসব মালামাল বিক্রি করতে পারছেন না। কারণ এই এলাকার মার্কেটগুলোতে খুচরা বেচাকেনা খুবই কম।
গুলিস্তানের ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তর, ঢাকা ট্রেড সেন্টার দক্ষিণ, গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স এবং ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট-২ (নগর প্লাজা, জাকের প্লাজা, সিটি প্লাজা) পাইকারি কাপড় এবং জুতা বিক্রির জন্য বিখ্যাত। এই মার্কেটগুলোতেও পাইকারি তেমন বেচাকেনা নেই। তবে কিছু গার্মেন্টসের দোকানে খুচরা বেচাকেনায় ভিড় দেখা গেছে।
আজিমপুর থেকে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সে কেনাকাটা করতে গেছেন নাসির উদ্দিন দম্পতি। দুই ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করেছেন তারা। নাসির জানান, অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবার কাপড়ে অনেকটাই ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। তাই পরিবারের সবার জন্য এখানে কিনতে এসেছেন।
তবে ঢাকা ট্রেড সেন্টার দক্ষিণে জুতা বেচাকেনায় কোনো ক্রেতা দেখা যায়নি। প্রতিটি দোকানের মালিক, কর্মচারীকে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। জুতার দোকানি সেলিম রেজা বলেন, গত বছর করোনার আগে যেসব জুতা কেনা হয়েছিল, এখন পর্যন্ত তা বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। বেচাকেনা না থাকায় দোকানের খরচ এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই সরকার স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহন সীমিত আকারে চালু করলে মার্কেটে কিছু বেচাকেনা বাড়বে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com