নীলফামারী জলঢাকায় এক সময় যখন মানুষ গ্রামের বাড়িতে মাটির হাড়ি পাতিলে রান্না বান্না করত। দাদা-দাদুরা গুম থেকে উঠে মাটির প্লেটে সকাল বেলা পান্তা ভাত খেত তা যেন আজ গল্পের মত।অথচ এক সময় মাটির আসবাবপত্রের বিকল্প কিছু ছিল না। রান্নাবান্নাসহ সব প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার হতো মৃৎশিল্পের জিনিস। মাটির হাঁড়িতে রান্না হতো ভাত-তরকারি, পিঠা খাওয়ার জন্য মাটির থালা ও গ্লাস, পানি রাখার জন্য ছিল মাটির কলস।আবার মেয়েরা কলসি কাঁদে করে দূর-দূরান্ত থেকে পানি নিয়ে আসতো। আজ-কাল এসব যেন গল্পের মতো। দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এসব শিল্প।কালের পরিবর্তন ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় মাটির তৈরি আসবাবপত্রের প্রয়োজন যেন দিন দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় মৃৎশিল্প ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান(৫৪) সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, মোর বাপ দাদার ব্যবসা মোর বাব করছে এলং মুই করোছং মোর ছোয়া ছোট এই ব্যাবসা করবে।এছাড়া আরো কয়েকজন মৃৎশিল্প ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান(৪৫) মহুবার(৬৫) আজারুল সাথে কথা হলে তারা জানান, আমরা কেউ কেউ ৩৫ থেকে ৪৭ বছর ধরে এ ব্যাবসার সাথে জড়িত। এই ব্যাবসা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে করছি। বাপ-দাদার পেশা ছাড়তে পারছি না, তাই আজও এই শিল্পকে ধরে রেখেছেন কিছু মৃৎশিল্প পরিবার। রবিবার ও বৃহস্পতিবার সপ্তাহে দুই দিন হাটবার জলঢাকায় এবং শনিবার ও বুধবার সপ্তাহে দুই দিন হাটবার মীরগঞ্জে এই হাট গুলোতে সপ্তাহে ৪ দিন বিক্রি করতে পারেন তারা। এ গুলো সৈয়দপুরের চওড়া বাজার থেকে মৃৎশিল্প ব্যবসায়ীরা পাইকারী রেটে মাটির হারি, চুলার মুখ, মাটির চাউল দোয়ার কাদা, করাইর ঢাকনা, ঢাকনা, বাটনা, রুটি বাজা তেলাই, বাতের পাতিলের ঢাকনা, হারি-পাতিল কলসি ক্রয় করেন তারা।রবিবার জলঢাকার হাটে মাটির কলসি কিনতে আসা পূর্ব বালা গ্রামের আব্দুস সালাম(৪২) বলেন, গুয়া যাক দেওয়ার জন্য একটি মাটির কলস কিনতে এসেছি। মাটির কলসিতে গুয়া ঝাঁক দিলে ভাল থাকে তাই একটি কলসি কিনলাম। এছারা দুন্দিবাড়ী থেকে তেলাই কিনতে আসা মতিউর রহমান(২২) বলেন, পিঠা বানানোর জন্য একটা মাটির তেলাই কিনেছি। তেলাই তে চিতাই পিঠা খুব ভালো হয় তাই কিনলাম।তবে মৃৎশিল্প স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, আগের মত ব্যবসায় এখন আর চলেনা।বাপ-দাদার ব্যবসা ছাড়তেও পারছিনা। সুস্থ আছি এবং যতদিন সুস্থ থাকব এই ব্যাবসায়ী করে যাব। জলঢাকা ও মীরগঞ্জ হাটে আমরা সপ্তাহে চার দিন ব্যাবসা করতে পারি এতে যে টাকা রোজগার হয় তা দিয়ে কোন রকম বৌ-বাচ্চা নিয়ে দিন কাটাচ্ছি।