নিত্যপণ্যের বাজার দরে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস। রাজধানীর বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়া অব্যাহত আছে। এদিকে মাছ, মুরগি, ডিম ও সবজি কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়তি দামে কিনছেন ক্রেতারা। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ৫০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া ফার্মের মুরগির ডিম বেড়েছে ডজনে পাঁচ থেকে ১০ টাকা। এসবের সঙ্গে রাজধানীর বাজারে বেড়েছে ভোজ্য তেল ও চিনির দাম। গেলো দুই সপ্তাহে পণ্য দুটিতে বেড়েছে ১৬ টাকার বেশি। এর মধ্যে চিনির দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ১০ টাকা আর সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৮ টাকার বেশি। যদিও পণ্য দুটির দাম বেঁধে দিয়েছে মিল মালিক ও সরকার। গতকাল খোলা চিনির কেজি ৭৪ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনি ৭৫ টাকা কেজি দাম ঠিক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও মিল মালিকরা।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ৭৮ থেকে ৮০ টাকায়। এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে আটার দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২ টাকা। এছাড়া অন্যান্য নিত্যপণ্য আগের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে এখন গড়ে সবজির কেজি ৫০ টাকা। পটল, ঢেঁড়সসহ কিছু সবজি ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে কিছু সবজি ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে আলুর দাম রয়েছে সহনীয়। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় অন্য মাছের দাম খুচরায় কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। হালি প্রতি মুরগির লাল ডিম বিক্রি হয় ৩৯-৪০ টাকায়। আর ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। হাঁস কিংবা দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হয় ৫৮-৬০ টাকা হালিতে, তবে ডজন বিক্রি হয় ১৬৫-১৭৫ টাকায়। বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয় ১৪৫-১৫০ টাকা কেজি দরে। ব্রয়লার মুরগি ছাড়াও সোনালি মুরগি বিক্রি হয় ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়। দেশি মুরগি বিক্রি হয় ৪২০ থেকে ৪৪০ টাকা দরে। আর গরুর মাংস বিক্রি হয় ৬০০ টাকা কেজি দরে। আর খাসির মাংস বিক্রি হয় ৮০০-৮৫০ টাকা কেজিতে। ক্রেতারা বলেছেন, মহামারি করোনার কারণে আয় কমেছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ব্যয়। ঠিক এ সময়ে একের পর এক জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। মাছ-মাংস, চাল-ডালের পর এখন ডিমের দাম বেড়েছে। এতে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বা প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
রাজধানীর বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে পাকিস্তানি কক মুরগির দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে বেশকিছু সবজির দাম। পাকিস্তানি কক মুরগির দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫-১০ টাকা করে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি করছেন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। তবে পাকিস্তানি কক মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা।
মুরগির দাম বাড়ার বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মো. বাবু বলেন, হোটেল-রেস্টুরেন্ট সব কিছু খুলে দেওয়া হয়েছে। মানুষ এখন অনেকটাই স্বাভাবিক চলাচল করছে। হোটেলগুলোতে বিক্রি বেড়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানও হচ্ছে। ফলে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। এ কারণেই দাম বেড়েছে।
কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, কয়েকদিন ধরে সোনালি মুরগির চাহিদা অনেক বেড়েছে। বাজারে মুরগির যে চাহিদা তার তুলনায় সরবরাহ কম। এটাই মুরগির দাম বাড়ার সব থেকে বড় কারণ। আমাদের ধারণা সামনে মুরগির দাম আরও বাড়তে পারে।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা শিমের কেজি বিক্রি করছেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে শিমের দাম কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। শিমের দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে গাজর ও টমেটো দাম। গাজর ও টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। দাম বাড়ার তালিকায় থাকা সবজির মধ্যে ঝিঙের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। করলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এছাড়া পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ঢেঁড়সের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বরবটির কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। কাঁচা পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচকলার হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লাল শাকের আঁটি ২০ থেকে ৩০ টাকা, মুলা শাকের আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাকা, কলমি শাকের আঁটি ৫ থেকে ১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে।
সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী মিজানুর বলেন, শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লেও অন্যান্য সবজির সরবরাহ বাড়ছে না। যে কারণে আগাম সবজির দাম কিছুটা কমেছে। বিপরীতে পটল, করলাসহ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা। মৃগেল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা। পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। এদিকে বাজারে এখন ছোট-বড় সব ধরনের ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। বড় (এক কেজির ওপরে) ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১৩০০ টাকা। মাঝারি আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। আর ছোটগুলো ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি।
এ বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী মিলন বলেন, বাজারে ছোট, বড় সব ধরনের ইলিশ এখন পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইলিশের ভরা মৌসুম এখনো আসেনি। আর কিছুদিন পর বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে। তখন দাম একটু কমবে।