শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০১:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করে কারা?

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১

হিলি সীমান্তে আমদানি বাড়ায় কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম নেমেছে ৪০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা কেজিতে। কয়েক দিনের মধ্যেই সেটাও কমে ৪০-৪৫ টাকা হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দেখা গেছে, কয়েকবছর ধরেই একটা মৌসুমে পেঁয়াজ নিয়ে এক ধরনের খেলা শুরু করে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে হঠাৎ বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। প্রথম দিকে কেজিতে ৫-১০ টাকা বাড়লেও এক সপ্তাহের মধ্যে তা ৭৫-৮০ টাকায় ওঠে। এ দাম কিছুদিন স্থায়ী হয়। এরপর আবার কমতে শুরু করে। সরকারি-বেসরকারি ও কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে এ বছর পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরবরাহেও কমতি নেই। চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে আমদানিও হচ্ছে। তা হলে দাম বাড়লো কেন? কারা বাড়িয়েছে?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারে হিলি স্থলবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। হিলি দিয়ে আমদানি বাড়লে দেশের বাজারে দাম কমে। আবার ওই বন্দরে আমদানি কমলে দেশের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। তবে দাম যে গতিতে বাড়ে, সে গতিতে কখনোই কমে না। বাংলাদেশ কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর পেঁয়াজের উৎপাদন প্রায় ৩০ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। যা সাধারণত ২৩-২৪ লাখ টনে থাকে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে চাল, আলু ও পেঁয়াজের প্রাপ্যতা ও দামের অস্থিরতা নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ হয়। তাতে দেখা যায়, গত ১০ বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আগাম পেঁয়াজের উৎপাদন ২ লাখ টন বেড়েছে। এ মৌসুমে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টন। বাড়তি উৎপাদনের কারণে সরবরাহ ভালো। আমদানিও কমেছে।
কৃষি বিপণন অধিদফতর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, ২০২০ সালের নভেম্বরে ৪৬ হাজার টন পেঁয়াজ এসেছিল। চাহিদা কমতে থাকায় জানুয়ারিতে তা ২৫ হাজার টনে নেমে আসে। কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, দেশে পেঁয়াজের সংকট নেই। আমদানিরও দরকার নাই।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, দেশে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি অব্যাহত রয়েছে। টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে ট্রাক সেলে পেঁয়াজ বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। আমদানি সহজ ও দ্রুত করতে শুল্কও প্রত্যাহার করা হয়েছে। বন্দরে দ্রুত খালাসের জন্য এনবি আরকে অনুরোধ করা হয়েছে এবং পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র দ্রুত প্রদানের জন্য কৃষি বিভাগকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
চালবাজিটা শ্যামবাজারে: এত কিছুর পরও এক সপ্তাহের মধ্যে দাম দ্বিগুণ হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, শ্যামবাজারই হচ্ছে সারা দেশের পেঁয়াজের বড় পাইকারি বাজার। আমদানিকারকরাও এখানে ব্যবসা করেন। পেঁয়াজ নিয়ে মূল চালটা শুরু হয় এখান থেকেই। শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরাই সুযোগ বুঝে আচমকা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। তাদের এই ‘খেলা’ কখনও দীর্ঘ সময়, আবার কখনও স্বল্প সময়ের হয়।
সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলছেন, শ্যামবাজার থেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একটি ভীতিকর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাতেই অস্থির হয়ে ওঠে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার বাজার। ওই বার্তা কানে এলেই খুচরা দোকানিরা বাড়িয়ে দেয় দাম। এখানকার পাইকারি ও আমদানিকারকরা বিষয়টি অস্বীকার করলেও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এখানকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা কখনোই পেঁয়াজ, রসুন ও আদা বিক্রি করে রশিদ বা মেমো দিতে চান না। সরকারি আদেশের পরও এটি কার্যকর হয়নি।
স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়াই একমাত্র পথ: গত বছর দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ছিল ২৫ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৯-২০ অর্থবছর ফলন হয়েছে ২৫ লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টন। ১৭ থেকে ২৫ শতাংশ প্রসেস লস বাদ দিলে মোট উৎপাদন দাঁড়ায় ১৯ লাখ ১১ হাজার মেট্রিক টন। ঘাটতি দাঁড়ায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টন। এই পরিমাণ পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। কোনও কারণে আমদানিতে গড়বড় দেখা দিলে বাজার অস্থির হয়। যার প্রভাব দেশে উৎপাদিত ২৫ লাখ টনেও পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেঁয়াজ নিয়ে জটিলতা কাটাতে উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়াই একমাত্র পথ। শুধু উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না, সংরক্ষণও করতে হবে। কারণ, পেঁয়াজ পচনশীল। উৎপাদনের ১৭ থেকে ২৫ ভাগই পচে যায়। এ ছাড়া সরকার যেমন ধান-চাল সংগ্রহ করে, তেমনি পেঁয়াজও সংগ্রহ করতে পারে। তবে যে পরিমাণ পচে যায় সেটার দায়িত্ব কে নেবে, এ প্রশ্ন থেকে যায়। দেশি পেঁয়াজ ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকলে মানুষ আমদানি করা পেঁয়াজ নেবে না। সংশ্লিষ্টদের এ নিয়ে ভাবতে হবে বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা।-বাংলাট্রিবিউন




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com