ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাবি অক্সফোর্ড হলে রাবিকে ক্যামব্রিজ করতে চাই: রিজভী Logo তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে Logo গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে চড়া মূল্য দিতে হবে : বিরোধীদলীয় নেতা Logo অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে দক্ষিণ কোরিয়ায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল Logo সবজি চাষে রংপুরের নারী উদ্যোক্তা সেলিনার বাজিমাত Logo অর্থ ছাড়ের অভাবে থমকে আছে সুন্দরবনঘেঁষা কয়রা পর্যটন কেন্দ্রের নির্মাণ Logo ঢাকায় বাস রুট ৯৮ থেকে কমে ৩২ হচ্ছে, ৬টির উদ্বোধন আজ Logo মিরসরাইয়ে ব্ল্যাক রাইস চাষ করে তাক লাগিয়েছে উদ্যোক্তা সোহেল Logo পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, পাবনার রূপপুরে শুরু হলো পাওয়ার স্টার্টআপ ‘স্টেজ-সি’ কার্যক্রম Logo এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গাছ পাচারের অভিযোগ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে মূল্যবান গাছ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে উদ্যানের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেগুন, আগর, আকাশমনি, চামলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। রবিবার (৭ জুন) সকালে মৌলভীবাজার থেকে আসা একদল সাংবাদিক লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটকের সামনের একটি মাটির রাস্তা ধরে প্রায় দুই কিলোমিটার গভীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ১৫-১৬টি গাছের কাটা গোড়া দেখতে পান। এছাড়া গভীর জঙ্গলে ঝড়ে উপড়ে পড়া প্রায় শতবর্ষী দুটি বড় সেগুন গাছও তাদের নজরে আসে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যথাযথ নজরদারি না থাকলে এসব গাছও কাঠচোর চক্রের হাতে চলে যেতে পারে।
এ বিষয়ে লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, “আমাদের প্রতিদিন টহল জোরদার রয়েছে। কাঠ পাচারের কোনো সুযোগ নেই। কোথাও গাছ কাটার সংবাদ পেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করা হয়। প্রতি মাসেই ৪-৫টি মামলা দায়ের করা হয়। ঝড়ে পড়ে থাকা গাছগুলো গভীর জঙ্গলে অবস্থান করায় সেগুলো রেঞ্জ অফিসে আনার কোনো বাস্তবসম্মত পরিবহন ব্যবস্থা নেই।” রাজকান্দি রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রীতম বড়ুয়া বলেন, “রাজকান্দি রেঞ্জের আওতাধীন বনাঞ্চল অত্যন্ত বিস্তৃত। তুলনামূলকভাবে লোকবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট অনেক কম। তারপরও আমরা কাঠ ও বাঁশ চোরদের বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছি। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রতি মাসে ৫-৬টি মামলা করা হয়।”
অভিযোগের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের গাছ কাটা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না। যেখানে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে, সেখানে বন বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পরিবেশবাদীদের মতে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এখানে নির্বিচারে গাছ কাটা অব্যাহত থাকলে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং পর্যটন খাত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই বন রক্ষায় আরও কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি অক্সফোর্ড হলে রাবিকে ক্যামব্রিজ করতে চাই: রিজভী

কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গাছ পাচারের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে মূল্যবান গাছ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে উদ্যানের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেগুন, আগর, আকাশমনি, চামলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। রবিবার (৭ জুন) সকালে মৌলভীবাজার থেকে আসা একদল সাংবাদিক লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটকের সামনের একটি মাটির রাস্তা ধরে প্রায় দুই কিলোমিটার গভীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ১৫-১৬টি গাছের কাটা গোড়া দেখতে পান। এছাড়া গভীর জঙ্গলে ঝড়ে উপড়ে পড়া প্রায় শতবর্ষী দুটি বড় সেগুন গাছও তাদের নজরে আসে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যথাযথ নজরদারি না থাকলে এসব গাছও কাঠচোর চক্রের হাতে চলে যেতে পারে।
এ বিষয়ে লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, “আমাদের প্রতিদিন টহল জোরদার রয়েছে। কাঠ পাচারের কোনো সুযোগ নেই। কোথাও গাছ কাটার সংবাদ পেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করা হয়। প্রতি মাসেই ৪-৫টি মামলা দায়ের করা হয়। ঝড়ে পড়ে থাকা গাছগুলো গভীর জঙ্গলে অবস্থান করায় সেগুলো রেঞ্জ অফিসে আনার কোনো বাস্তবসম্মত পরিবহন ব্যবস্থা নেই।” রাজকান্দি রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রীতম বড়ুয়া বলেন, “রাজকান্দি রেঞ্জের আওতাধীন বনাঞ্চল অত্যন্ত বিস্তৃত। তুলনামূলকভাবে লোকবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট অনেক কম। তারপরও আমরা কাঠ ও বাঁশ চোরদের বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছি। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রতি মাসে ৫-৬টি মামলা করা হয়।”
অভিযোগের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের গাছ কাটা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না। যেখানে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে, সেখানে বন বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পরিবেশবাদীদের মতে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এখানে নির্বিচারে গাছ কাটা অব্যাহত থাকলে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং পর্যটন খাত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই বন রক্ষায় আরও কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।