ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

তালপাতায় লেখা তিন শতাব্দী পুরোনো রায় সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘরে

সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘর। ছবি: বাসস

১৭১০ সালের তালপাতায় লেখা একটি দুর্লভ রায়। হাতে লেখা বাংলাদেশের মূল সংবিধানের কপি। ঐতিহাসিক ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলার রায়। বিচার বিভাগের এমন অসংখ্য মূল্যবান দলিল, ব্যবহৃত সামগ্রী ও দুর্লভ আলোকচিত্র সংরক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘর।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরটি ধীরে ধীরে আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, গবেষক ও সাধারণ মানুষের আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার আগে ও পরে বিচার বিভাগের নানা গুরুত্বপূর্ণ দলিল, পুরোনো আদালত কক্ষের ব্যবহার্য সামগ্রী, সাবেক প্রধান বিচারপতিদের আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক রায়ের অনুলিপি এবং বিচারব্যবস্থার বিবর্তনের নানা তথ্যচিত্র এখানে সংরক্ষিত রয়েছে।
জাদুঘরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ক্রমবিকাশের ধারাবাহিক উপস্থাপন। ইতিহাসের নানা বাঁক পেরিয়ে গড়ে ওঠা বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্মারকগুলো সাজানো হয়েছে সময়ের ধারায়।
এসব সংগ্রহের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ১৭১০ সালের তালপাতায় লেখা একটি দুর্লভ রায়। রায়টি বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রেকর্ড রুম থেকে পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রেকর্ড রুম থেকে এটি সংগ্রহ করে সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়।
হাতে লেখা বাংলাদেশের মূল সংবিধানের কপির পাশাপাশি জাদুঘরে স্থান পেয়েছে ঐতিহাসিক ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলার রায়। রয়েছে তৎকালীন কলকাতা হাইকোর্ট ও ঢাকা হাইকোর্টের দেয়াল ঘড়ি। বিচারপতিদের ব্যবহৃত দোয়াত-কলম, ব্যান্ড, গাউন ও উইগও সংরক্ষিত আছে এখানে।
জাদুঘরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে রয়েছে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বিশিষ্ট বিচারকদের ব্যবহৃত গাউন, কলম, ফাইল, চশমা ও আসবাবপত্র। এসব সামগ্রী বিচার বিভাগের ঐতিহ্য ও গৌরবের নীরব সাক্ষী। এছাড়া বিভিন্ন সময়ের আদালত ভবনের ছবি, বিচারকদের শপথ অনুষ্ঠান এবং ঐতিহাসিক বিচার কার্যক্রমের আলোকচিত্রও প্রদর্শন করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’কে বলেন, ‘আমাদের এই জাদুঘরটি বিচার বিভাগের ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আস্থা ও আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে নতুন আইনজীবী ও আইনের শিক্ষার্থীরা এখান থেকে দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারেন।’
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘরটি ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন উদ্বোধন করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

তালপাতায় লেখা তিন শতাব্দী পুরোনো রায় সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘরে

আপডেট সময় ১২:৫২:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

১৭১০ সালের তালপাতায় লেখা একটি দুর্লভ রায়। হাতে লেখা বাংলাদেশের মূল সংবিধানের কপি। ঐতিহাসিক ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলার রায়। বিচার বিভাগের এমন অসংখ্য মূল্যবান দলিল, ব্যবহৃত সামগ্রী ও দুর্লভ আলোকচিত্র সংরক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘর।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরটি ধীরে ধীরে আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, গবেষক ও সাধারণ মানুষের আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার আগে ও পরে বিচার বিভাগের নানা গুরুত্বপূর্ণ দলিল, পুরোনো আদালত কক্ষের ব্যবহার্য সামগ্রী, সাবেক প্রধান বিচারপতিদের আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক রায়ের অনুলিপি এবং বিচারব্যবস্থার বিবর্তনের নানা তথ্যচিত্র এখানে সংরক্ষিত রয়েছে।
জাদুঘরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ক্রমবিকাশের ধারাবাহিক উপস্থাপন। ইতিহাসের নানা বাঁক পেরিয়ে গড়ে ওঠা বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্মারকগুলো সাজানো হয়েছে সময়ের ধারায়।
এসব সংগ্রহের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ১৭১০ সালের তালপাতায় লেখা একটি দুর্লভ রায়। রায়টি বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রেকর্ড রুম থেকে পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রেকর্ড রুম থেকে এটি সংগ্রহ করে সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়।
হাতে লেখা বাংলাদেশের মূল সংবিধানের কপির পাশাপাশি জাদুঘরে স্থান পেয়েছে ঐতিহাসিক ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলার রায়। রয়েছে তৎকালীন কলকাতা হাইকোর্ট ও ঢাকা হাইকোর্টের দেয়াল ঘড়ি। বিচারপতিদের ব্যবহৃত দোয়াত-কলম, ব্যান্ড, গাউন ও উইগও সংরক্ষিত আছে এখানে।
জাদুঘরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে রয়েছে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বিশিষ্ট বিচারকদের ব্যবহৃত গাউন, কলম, ফাইল, চশমা ও আসবাবপত্র। এসব সামগ্রী বিচার বিভাগের ঐতিহ্য ও গৌরবের নীরব সাক্ষী। এছাড়া বিভিন্ন সময়ের আদালত ভবনের ছবি, বিচারকদের শপথ অনুষ্ঠান এবং ঐতিহাসিক বিচার কার্যক্রমের আলোকচিত্রও প্রদর্শন করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’কে বলেন, ‘আমাদের এই জাদুঘরটি বিচার বিভাগের ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আস্থা ও আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে নতুন আইনজীবী ও আইনের শিক্ষার্থীরা এখান থেকে দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারেন।’
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘরটি ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন উদ্বোধন করেন।