মাধবপুরের মঈন উদ্দিন খান (শার্ট পরা) ও কুমিল্লার মঈন উদ্দিন খান (টি-শার্ট পরা)মাধবপুরের মঈন উদ্দিন খান (শার্ট পরা) ও কুমিল্লার মঈন উদ্দিন খান (টি-শার্ট পরা) সিলেট মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর গ্রামের মঈন উদ্দিন খানের চাকরি হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী পদে। কিন্তু তার নিয়োগপত্র ‘জালিয়াতির’ পাশাপাশি নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে গত ২০ বছর ধরে চাকরি করছেন কুমিল্লার মঈন উদ্দিন খান। সম্প্রতি বিষয়টি ধরা পড়ায় তদন্ত শুরু করেছে সিলেট কারা কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কর্মকর্তা উভয় মঈন উদ্দিন খানকে কাগজপত্র নিয়ে সিলেট কারাগারে সশরীরে হাজির হওয়া নির্দেশ দিলে মাধবপুরের মঈন উদ্দিন খান হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। তবে, হাজির হননি কুমিল্লার মঈন উদ্দিন খান। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও কারাসূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিন খান মাস্টারের ছেলে মঈন উদ্দিন খান ২০০১ সালে কারারক্ষী পদে চাকরির আবেদন করেন। এরপর যথারীতি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষা শেষে তার বাড়িতে একাধিক বার প্রয়োজনীয় তদন্ত হলেও তিনি নিয়োগপত্র পাননি। হতাশ হয়ে শেষপর্যন্ত মাধবপুরের মনতলা বাজারে ফার্মেসি খুলে ওষুধের ব্যবসা শুরু করেন। গত সোমবার (২২ নভেম্বর) মনতলা বাজারে মঈন উদ্দিন খানের ফার্মেসিতে কথা হয় মাধবপুরের মঈন উদ্দিন খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের ১২ আগস্ট কারারক্ষী পদে আমি চাকরি করছি মর্মে শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন খানের কাছে সিলেটের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয় থেকে একটি চিঠি আসে। বিষয়টি জানার পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। এতে বলি, সিলেট কারাগারে কারারক্ষী পদে চাকরি করিন। আমার নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে কে বা কারা চাকরি করছেন আমি জানি না।’
এদিকে, বিষয়টি তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে হবিগঞ্জ কারাগারের সুপারকে নির্দেশ দেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উপ-মহাপরিদর্শক কামাল হোসেন। ওই নির্দেশ অনুসারে হবিগঞ্জের জেল সুপারের পক্ষে জেলার জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়া গত ১৬ নভেম্বর উভয় মঈন উদ্দিন খানকে চিঠি দেন। চিঠিতে উভয় মঈন উদ্দিন খানকেই কাগজপত্র নিয়ে সশরীরে ২০ নভেম্বর তদন্ত অনুষ্ঠানে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন চৌধুরীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কারাগারে হাজির হন মাধবপুরের মঈন উদ্দিন খান। তবে, কুমিল্লার মঈন উদ্দিন খান হাজির হননি।
কারা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঈন উদ্দিন খান ৫ দিনের ছুটিতে যাওয়ার পর ছুটি শেষে আর কর্মস্থলে যোগ দেননি । এরপর গত ২২ সেপ্টেম্বর কাজে যোগ দেওয়ার জন্য মঈন উদ্দিন খানকে চিঠি দেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন। এই প্রসঙ্গে মাধবপুরের মঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘জালিয়াতির বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আমার ঠিকানা ব্যবহার করে যে মঈন উদ্দিন খান চাকরি করছেন, তিনি সম্প্রতি আমার ফার্মেসিতে এসেছেন। আমাকে দুই লাখ টাকা দিয়ে জালিয়াতির বিষয়টির সমাধান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি রাজি হইনি। তবে কিভাবে জালিয়াতি করা হয়েছিল, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুমিল্লার মঈন উদ্দিন খান আমাকে জানিয়েছেন, নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্রে আমার পরিবর্তে তার ছবিসহ জাল কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে। ওই ভুয়া কাগজপত্র ও ছবি ব্যবহার করেই তিনি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন।’ মাবধপুরের মঈন উদ্দিন খান আরও বলেন, ‘আমার চাকরি ফিরে পেতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর কারা উপ-মহাপরিদর্শক বরাবরে আবেদন করেছি।’ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কুমিল্লার মঈন উদ্দিন খান পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া বলেন, ‘তদন্তের সময় মাধবপুরের মঈন উদ্দিন খান তার কাগজপত্র নিয়ে কারাগারে হাজির হয়েছেন। আমরা তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তার সঙ্গে আসা এলাকার কয়েকজন বিশিষ্ট লোকের বক্তব্যও নিয়েছি। কিন্তু কুমিল্লার যে মঈন উদ্দিন খান কারারক্ষী হিসেবে চাকরি করছেন, তিনি তদন্তের সময় কারাগারে হাজির হননি। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত করবো। মাধবপুরের শাহজাহানপুর এলাকায় যাবো। এরপর তদন্ত করে প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো। কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’