যোগদানের পর থেকে তদন্ত দাবি
যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর মোল্লা আমীর হোসেনকে প্রত্যাহার করায় গতকাল বুধবার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিষ্টি বিতরণ করেছেন। এতদিন যারা ভয়ে চেয়ারম্যানের পক্ষে ছিলেন তাদেরও মিষ্টিমুখ করতে দেখা গেছে। এই চেয়ারম্যানের যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরই মধ্যে গত আগস্ট মাসের প্রথম দিকে সর্বপ্রথম আড়াই কোটি টাকার চেক জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রায় আট কোটি টাকা লোপাটের তথ্য ফাঁস হয়। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনের নামে মামলা করে। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন যশোরের উপপরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত। মঙ্গলবার তাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। ওইদিনই প্রত্যাহার করা হয়েছে চেয়ারম্যান ও সচিবকে। এতদিন যারা চেয়ারম্যানের দ্বারা কারণে-অকারণে নির্যাতিত হয়েছেন তারা যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন। নির্যাতিতরাই চেয়ারম্যানের প্রত্যাহারের খবরে মিষ্টি বিতরণ এবং মিষ্টিমুখ করেছেন। তারা বলছেন কেবল প্রত্যাহার করলে চলবে না, চেয়ারম্যানের যোগদানের পর থেকে শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি দিয়ে তদন্ত করতে হবে। নির্যাতিতরা মনে করছেন, তদন্ত হলে চেয়ারম্যান আমীর হোসেন মোল্লার আরও দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে। যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর মোল্লা আমীর হোসেন ও সচিব প্রফেসর এ এইচ আলী আর রেজাকে মঙ্গলবার প্রত্যাহার করা হয়েছে। সম্প্রতি বোর্ডের প্রায় আট কোটি টাকার চেক জালিয়াতি ঘটনা ধরা পড়ার মধ্যে তাদেরকে প্রত্যাহার করেছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যশোর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষাবোর্ডের সাবেক বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ডক্টর আহসান হাবীব এবং সচিব পদে শহীদ এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান সরকারি ডিগ্রি কলেজ,রাজশাহীর ব্যবস্থাপনা বিষয়ের অধ্যাপক আব্দুল খালেক সরকারকে পদায়ন করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ডক্টর শ্রীকান্ত কুমার চন্দ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ পদায়ন হয়েছে। যার স্মারক নম্বর ৩৭.০০.০০০০.০৬৭.০২.০০৪.২০১৬-৩২৭। অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, চেক জালিয়াতির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর মোল্লা আমীর হোসেন অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কিন্তু ওই সময় প্রশ্ন ওঠে চেয়ারম্যানের অধীনে থাকা কোনো কর্মকর্তা নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারবেন কিনা। চেয়ারম্যানের গঠিত কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি তারই কাছে রিপোর্ট দিয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে প্রত্যাহার করা হলো চেয়ারম্যান ও সচিবকে। যশোর শিক্ষাবোর্ডে প্রথম দফায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়ার পর পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয় কলেজ পরিদর্শক কেএম রব্বানীকে। এছাড়া, সদস্যরা ছিলেন বিদ্যালয় পরিদর্শক ডক্টর বিশ্বাস শাহীন আহম্মেদ, উপপরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) ইমদাদুল হক, উপসচিব (প্রশাসন) জাহাঙ্গীর আলম ও সোনালী ব্যাংকের একজন এজিএম। এদিকে, কোটি কোটি টাকা জালিয়াতি ঘটনার দায় লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন শিক্ষাবোর্ডের হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম। আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি পর্যায়ক্রমে টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন।