বর্ষার আগমণে বদলে গেছে সীতাকুন্ডের গ্রাম-বাংলার পরিবেশ। পাহাড়, সমুদ্র আর নৈসর্গিক সৌন্দর্যে অপরূপ চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ন্যাড়া পাহাড়গুলো বর্ষার আগমণে সবুজ রঙ ধারণ করেছে। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে সবুজের সমারোহ। ন্যাড়া পাহাড়ে এখন সারি সারি গাছের চারায় সবুজ বিপ্লবের মনোরম দৃশ্য বেশ জমে উঠেছে। বৃক্ষরাজির বিশাল ক্যানভাস সাজিয়েছে সবুজের সমারোহ। গাছে গাছে ফুল-ফল ও কলির গন্ধে ছড়িয়ে পড়েছে মনোরম সবুজের ঢেউ। সীতাকুন্ড পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মদ বলেন, এক সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্বদিকে তাকালে বড় বড় গাছে ঠাসা জঙ্গল চোখে পড়তো। তখন শিয়াল, বানর, হুনুমান, হরিণ, বন মোরগ, হাতি, চিতা ও মেছো বাঘসহ অসংখ্য প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিচরণ করতো। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন ও পাহাড় কাটার ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের সেই জৌলুস। ঐতিহ্যের সেই বিশাল বৃক্ষরাজি অল্প সময়ের ব্যবধানে উজাড় হয়ে পরিনত হচ্ছে ন্যাড়া ভূমিতে। এদিকে “গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান” শান্তিতে বাচঁতে হলে প্রয়োজন সবুজের ছায়া, এ শ্লোগান’কে সামনে রেখে উপজেলায় দৃশ্যমান হচ্ছে নীরব সবুজ বিল্পব। ৪নং মুরাদপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়ীয়া থেকে ফুজিয়া বিনতে মাহমুদ সামি বলেন, বর্ষার আগমণে বাড়ছে সীতাকু-ে সবুজ বনায়ন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্বাংশে পাহাড়ি বনায়ন ও মহাসড়কের দুরত্ব স্বল্প পরিসরের হওয়ায় দৃষ্টিনন্দন সবুজের এ ঢেউ পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছে বিনোদনের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলজ, বনজ, ঔষধি ও বিরল প্রজাতির সারি সারি বৃক্ষরাজিতে ন্যাড়া পাহাড়ে দেখা দিয়েছে সবুজের ঢেউ। বাগানে শোভা পাচ্ছে ফলজ বৃক্ষের মধ্যে জাম, কাঁঠাল, লিচু, ডালিম, বেল, পেঁপে, কুল, লেবু, তেঁতুল, জলপাই, জামরুল, পেয়ারা, মাল্টা, আপেল, আমড়া, কামরাঙ্গা ও আমলকি সহ নানান প্রজাতির ফলজ গাছ। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন বলেন, ঐতিহ্যগত ভাবে চট্টগ্রামের মানুষ বৃক্ষপ্রেমিক। বৃক্ষ ও ফুলের নামে রয়েছে চট্টগ্রাম শগরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেমন কদমতলী, আম বাগান, তালতলী, কড়ইতলী, কাঁঠাল বাগান, বেলতলা, নিমতলা ও ফুলতলা সহ আরো কয়েকটি স্থান। আমাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজের ছায়া প্রদানকারী বৃক্ষের রয়েছে অত্যাধিক গুরুত্ব। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় চলতি বর্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বৃক্ষরোপন করে যাচ্ছে। তিনি বৃক্ষ রোপনের উদ্যোগে শামিল হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক পরিসরে ফলজ, বনজ, ঔষধি ও নান্দনিক বৃক্ষের চারা রোপনে সকল‘কে এগিয়ে আসার আহবান জানান। শহর ও গ্রাম-বাংলার সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পসহ জীব-বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি ভাবে বনায়নে রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।
সংবাদ শিরোনাম
আষাঢ়ের শুরুতেই সবুজ বনায়নে বদলে গেছে গ্রাম-বাংলার পরিবেশ
-
সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি - আপডেট সময় ০৩:১৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
- 165
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ













