ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাবি অক্সফোর্ড হলে রাবিকে ক্যামব্রিজ করতে চাই: রিজভী Logo তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে Logo গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে চড়া মূল্য দিতে হবে : বিরোধীদলীয় নেতা Logo অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে দক্ষিণ কোরিয়ায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল Logo সবজি চাষে রংপুরের নারী উদ্যোক্তা সেলিনার বাজিমাত Logo অর্থ ছাড়ের অভাবে থমকে আছে সুন্দরবনঘেঁষা কয়রা পর্যটন কেন্দ্রের নির্মাণ Logo ঢাকায় বাস রুট ৯৮ থেকে কমে ৩২ হচ্ছে, ৬টির উদ্বোধন আজ Logo মিরসরাইয়ে ব্ল্যাক রাইস চাষ করে তাক লাগিয়েছে উদ্যোক্তা সোহেল Logo পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, পাবনার রূপপুরে শুরু হলো পাওয়ার স্টার্টআপ ‘স্টেজ-সি’ কার্যক্রম Logo এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

জলঢাকায় ১৯টি ডাস্টবিন নির্মাণ, তবু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ময়লার স্তূপ

নীলফামারীর জলঢাকা পৌর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে ১৯টি আরসিসি ডাস্টবিন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এসব ডাস্টবিন নির্মাণের পরও পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোথাও ডাস্টবিনের অভাব, আবার কোথাও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে। পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা ক্যাম্পাসে ৩টি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২টি, থানা ক্যাম্পাসে ১টি, জলঢাকা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২টি, পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় ৩টি, শোভাহান মোড় (কালীবাড়ি বটতলী মোড়) এলাকায় ৩টি, আকবর বিএএসের দোকানসংলগ্ন এলাকায় ১টি, নীলুস পুকুরসংলগ্ন সড়কে ১টি, আলহাজ্ব মোবারক হোসেন অনির্বাণ বিদ্যাতীর্থ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের গেট এলাকায় ১টি, জলঢাকা বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট এ ১টি এবং জলঢাকা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ১টি ডাস্টবিন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে গত (২০ জুন) দেখা গেছে, থানা মোড় মাছ বাজার সংলগ্ন দি মুন কেজি স্কুল ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা জলঢাকা উপজেলা শাখা কার্যালয়ের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব বর্জ্য থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং চলাচলেও ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। ট্রাফিক মোড় শুঁটকি বাজারসংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সেখানে গরু জবাইয়ের উচ্ছিষ্টাংশ, পচা সবজি ও বাজারের বিভিন্ন বর্জ্য খোলা স্থানে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ ছাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের গেটের সামনেও ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ট্রাফিক মোড়সংলগ্ন হাটে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, সপ্তাহে দুই দিন এখানে হাট বসে। কিন্তু ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা ফেলছেন। এতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত একটি ডাস্টবিন বা কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা প্রয়োজন। কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী ফরমান আলী বলেন, নির্ধারিত ডাস্টবিন না থাকায় পচা সবজি ও অন্যান্য বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলতে হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়ে যায়। জলঢাকা মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আজিজ বলেন, এখানে পশু জবাইয়ের কোনো নির্ধারিত স্থান নেই। ফলে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্থানে জবাই করতে হয়। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনাতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, শুধু ডাস্টবিন নির্মাণ করলেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধান হয় না। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, জনবহুল এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী ডাস্টবিন স্থাপন এবং বাজারভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের প্রশ্ন, পৌর এলাকায় ১৯টি ডাস্টবিন নির্মাণের পরও যদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে, তাহলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে একই সঙ্গে নির্ধারিত জবাইখানা ও পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব কেন এখনো দূর করা যায়নি, সে প্রশ্নও উঠছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৃশ্যমান উদ্যোগ নেবে পৌর কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জলঢাকা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি জানান, উল্লেখিত স্থানগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় সেখানে ডাস্টবিন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ডাস্টবিন সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিষয়টি নজরে আনার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি খতিয়ে দেখা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি অক্সফোর্ড হলে রাবিকে ক্যামব্রিজ করতে চাই: রিজভী

জলঢাকায় ১৯টি ডাস্টবিন নির্মাণ, তবু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ময়লার স্তূপ

আপডেট সময় ০৩:৩৫:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

নীলফামারীর জলঢাকা পৌর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে ১৯টি আরসিসি ডাস্টবিন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এসব ডাস্টবিন নির্মাণের পরও পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোথাও ডাস্টবিনের অভাব, আবার কোথাও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে। পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা ক্যাম্পাসে ৩টি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২টি, থানা ক্যাম্পাসে ১টি, জলঢাকা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২টি, পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় ৩টি, শোভাহান মোড় (কালীবাড়ি বটতলী মোড়) এলাকায় ৩টি, আকবর বিএএসের দোকানসংলগ্ন এলাকায় ১টি, নীলুস পুকুরসংলগ্ন সড়কে ১টি, আলহাজ্ব মোবারক হোসেন অনির্বাণ বিদ্যাতীর্থ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের গেট এলাকায় ১টি, জলঢাকা বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট এ ১টি এবং জলঢাকা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ১টি ডাস্টবিন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে গত (২০ জুন) দেখা গেছে, থানা মোড় মাছ বাজার সংলগ্ন দি মুন কেজি স্কুল ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা জলঢাকা উপজেলা শাখা কার্যালয়ের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব বর্জ্য থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং চলাচলেও ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। ট্রাফিক মোড় শুঁটকি বাজারসংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সেখানে গরু জবাইয়ের উচ্ছিষ্টাংশ, পচা সবজি ও বাজারের বিভিন্ন বর্জ্য খোলা স্থানে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ ছাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের গেটের সামনেও ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ট্রাফিক মোড়সংলগ্ন হাটে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, সপ্তাহে দুই দিন এখানে হাট বসে। কিন্তু ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা ফেলছেন। এতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত একটি ডাস্টবিন বা কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা প্রয়োজন। কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী ফরমান আলী বলেন, নির্ধারিত ডাস্টবিন না থাকায় পচা সবজি ও অন্যান্য বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলতে হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়ে যায়। জলঢাকা মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আজিজ বলেন, এখানে পশু জবাইয়ের কোনো নির্ধারিত স্থান নেই। ফলে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্থানে জবাই করতে হয়। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনাতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, শুধু ডাস্টবিন নির্মাণ করলেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধান হয় না। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, জনবহুল এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী ডাস্টবিন স্থাপন এবং বাজারভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের প্রশ্ন, পৌর এলাকায় ১৯টি ডাস্টবিন নির্মাণের পরও যদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে, তাহলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে একই সঙ্গে নির্ধারিত জবাইখানা ও পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব কেন এখনো দূর করা যায়নি, সে প্রশ্নও উঠছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৃশ্যমান উদ্যোগ নেবে পৌর কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জলঢাকা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি জানান, উল্লেখিত স্থানগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় সেখানে ডাস্টবিন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ডাস্টবিন সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিষয়টি নজরে আনার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি খতিয়ে দেখা হবে।