উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে ধনু, বাউলাই, মেঘনা কালনী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই ধনু নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে করে ইটনা উপজেলার ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। কালনী ও কুশিয়ারা নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বাউলাই নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এ বছর হাওরবেষ্টিত ইটনা উপজেলায় ২৫ হাজার ৮৩০ হেক্টর, মিঠামইন উপজেলায় ১৬ হাজার ২০০ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ২৫ হাজার ৫৯৫ হেক্টর, নিকলী উপজেলায় ১৪ হাজার ২৯৫ হেক্টর, তাড়াইল উপজেলায় ১২ হাজার ৫৯৫ হেক্টর, করিমগঞ্জ উপজেলায় ১০ হাজার ৩০ হেক্টর ও বাজিতপুরে ৬ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমির বোরো আবাদ হয়। আগামী পানি আসায় হাওর এলাকার কৃষকরা চিন্তিত। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ইতিমধ্যে কাঁচা পাকা ধান কাটা শুরু করেছে। পানির তোরে তলিয়ে যাওয়া এ সমস্ত ধানে অর্ধেক ফলনও হবে না। তার উপর ধানের চিটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান গড়ে তুলতে না পারলে সারা বছরই কৃষকদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান বলেন, ধনু নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যে কোন সময় হাওরে পানি ঢুকে ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হতে পারে। জেলা কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ছাইফুল আলম জানান, ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু হলেও শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকেরা ধান কাটতে পারছে না। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে হাওরে ২২২টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ২২টি রিপার মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। যাতে করে কৃষকেরা দ্রুত মাঠ থেকে ফসল তুলতে পারে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, সোমবার দুপুর পর্যন্ত হাওরের ৩৫ ভাগ বোরো ধান কাটা হয়েছে।