ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বরাবরই সরব। নিকট অতীতের যে কোন চীনা দূতের তুলনায় লি অনেকটা খোলাখুলিভাবে কথা বলেন। যদিও ইন্দো-প্যাসিফিক এবং কোয়াডে বাংলাদেশ যোগ দিলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব পড়বে মর্মে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তাতে তার পেশাদারিত্ব এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। শুধু তাই নয়, তাকে তলব করে এর ব্যাখ্যা চেয়েছিল সেগুনবাগিচা। এ কারণে হয়তো এবার তিনি শব্দচয়নে অনেক বেশি সতর্ক। ইউক্রেন ইস্যুতে বুধবার প্রচারিত ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রদূত লি খোলাসা করেই বলেন- রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ের বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগগুলোকে সবচেয়ে বৃহৎ বিদ্যমান সামরিক জোট কর্তৃক সম্মান এবং ভালভাবে নিষ্পত্তি করা হলে, সশস্ত্র সংঘাতটি এড়ানো যেত। সেখানে তিনি চীনের ছয় দফা মানবিক উদ্যোগের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। রাষ্ট্রদূতের ভিডিও ক্লিপের সঙ্গে ইংরেজি এবং বাংলায় লিখিত বার্তাও প্রচার করা করেছে দূতাবাস, যাতে নতুন কোনো বিতর্ক বা বিভ্রান্তি না হয়।
বাংলা বার্তাটি ছিল এমন- ইউক্রেনে চলমান দুঃখজনক ঘটনা অনেকের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। চীন শান্তির পক্ষে এবং যুদ্ধের বিপক্ষে। এটি আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে গভীরভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আমরা জাতিসংঘে এবং অন্যান্য অনেক অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় আমাদের মতামত পরিষ্কার করেছি। একদিকে, আমরা আন্তর্জাতিক আইন এবং সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত নিয়মগুলিকে সমর্থন করি যেগুলো তাদের মূলে জাতিসংঘ সনদকে রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করে। এটা আমাদের গভীর বিশ্বাস যে, সকল দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখ-তাকে সম্মান করতে হবে।
অন্যদিকে, চীন অভিন্ন, ব্যাপক, সহযোগিতামূলক এবং টেকসই নিরাপত্তার দৃষ্টিভঙ্গিকে উৎসাহিত করে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ের বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগগুলোকে সবচেয়ে বৃহৎ বিদ্যমান সামরিক জোট কর্তৃক সম্মান এবং ভালভাবে নিষ্পত্তি করা হলে, সশস্ত্র সংঘাত এড়ানো যেত। শীতল যুদ্ধের মানসিকতা এবং ব্লকের সংঘর্ষ বিশ্বের জন্য একটি অভিশাপ ছাড়া কিছুই নয়, এই সত্যের পুনরায় শিক্ষা লাভ করতে মানবতাকে এক বিশাল মূল্য প্রদান করতে হলো। শান্তিকে সুযোগ দিতে, চীন দুটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে: শান্তি আলোচনা উৎসাহিতকরণ এবং মানবিক সংকট থেকে মুক্তি দান। চীন একটি ছয় দফা মানবিক উদ্যোগ সামনে রেখেছে এবং এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের যুদ্ধ-বিধ্বস্ত মানুষদের জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। যুদ্ধবিরতির আহবান নাকি শত্রুতার ডাক, খাদ্য নাকি প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ, আগুন নেভানোর চেষ্টা না-কি আগুনে ঘি ঢালা- কোনটি সমস্যা থেকে উত্তরণ সহজ করছে আর কোনটি সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করছে? আপনি কী মনে করেন?