ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র ও রপ্তানি প্রবেশদ্বার হতে চায় বাংলাদেশ Logo সিপাহি-জনতার বিপ্লব : সংবাদপত্রের পাতায় সেই দিনটি Logo উপকূলীয় অঞ্চলে চাষাবাদে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এলো উচ্চ ফলনশীল ‘ব্রি ধান- Logo শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিফ প্রসিকিউটরের চিঠি Logo গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সচেষ্ট সরকার, অস্থিরতার সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo গ্যাস সরবরাহ চারদিন বন্ধ থাকবে এমন সংবাদ বিভ্রান্তিকর : পেট্রোবাংলা Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo পুলিশের জন্য কেনা হবে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যানসহ ৫৮৩০ বাহন Logo কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী Logo কমনওয়েলথ কাবাডিতে ব্রোঞ্জজয়ী বাংলাদেশ দলকে সংবর্ধনা

ফেনীর দাগনভূঞা জিরো পয়েন্টে অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খল পার্কিংয়ে চরম জনদুর্ভোগ

ফেনী জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা শহর দাগনভূঞা। ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর অবস্থিত হওয়ায় বৃহত্তর নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও বরিশাল অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে এ জনপদের গুরুত্ব অনেক। তবে চলমান ফুটপাত দখল, অবৈধ দোকানপাট এবং সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশার বিশৃঙ্খল পার্কিংয়ের কারণে দাগনভূঞা পৌর শহরের জিরো পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের প্রবেশমুখ জিরো পয়েন্টে সড়কের বড় অংশ দখল করে রাখা হয়েছে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশায়। একই সঙ্গে আতাতুর্ক স্কুলের গেট থেকে সুলতানা মার্কেট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অস্থায়ী টং দোকান। ফলে পথচারীদের ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবৈধ দখল ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। যাত্রী ওঠানামার সময় প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী দাবি করেন, দাগনভূঞায় চলাচলকারী অনেক সিএনজির সরকারি নিবন্ধন নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন নামে মাসিক অর্থ আদায়ের মাধ্যমে এসব যানবাহন চলাচল করছে এবং অবৈধ স্ট্যান্ড ও ফুটপাত দখল তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দাগনভূঞা বাজারের ব্যবসায়ী সাহেদুল ইসলাম বলেন, জিরো পয়েন্টে জনদুর্ভোগ এখন চরমে। অবৈধ দখল ও সড়কের ওপর যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, জিরো পয়েন্টে একাধিক সড়কের সংযোগস্থল হওয়ায় এখানে সবসময় যানবাহনের চাপ থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলোমেলো পার্কিং, অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাব। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। সম্প্রতি দাগনভূঞায় সড়ক দুর্ঘটনায় পৌরসভার উপ-প্রকৌশলী জুনায়েদ কাওছার সৌরভ নিহত হওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। সচেতন মহলের মতে, বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহী, শিক্ষার্থী ও বয়স্ক পথচারীদের চলাচলে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। পাশাপাশি যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি। দাগনভূঞা বাজার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন লিটন বলেন, জিরো পয়েন্টকে যানজটমুক্ত করতে হলে প্রধান সড়ক থেকে সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড সরিয়ে নিতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসন একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ ঢাকার আদলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, যেমন এআইভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং ও গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দুর্ঘটনা কমবে। দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, জিরো পয়েন্ট এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য ট্রাফিক পুলিশ ও একটি পুলিশ বক্স স্থাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পৌর প্রশাসক শাহীদুল ইসলাম বলেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পর আবার ফুটপাত দখল হয়ে যায়। যানজট নিরসনে পৌরসভার কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন। দাগনভূঞায় সিএনজি ও অটোরিকশার সংখ্যা বেশি হওয়ায় সমস্যাটি জটিল। জনদুর্ভোগ কমাতে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র ও রপ্তানি প্রবেশদ্বার হতে চায় বাংলাদেশ

ফেনীর দাগনভূঞা জিরো পয়েন্টে অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খল পার্কিংয়ে চরম জনদুর্ভোগ

আপডেট সময় ০৩:৪৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

ফেনী জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা শহর দাগনভূঞা। ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর অবস্থিত হওয়ায় বৃহত্তর নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও বরিশাল অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে এ জনপদের গুরুত্ব অনেক। তবে চলমান ফুটপাত দখল, অবৈধ দোকানপাট এবং সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশার বিশৃঙ্খল পার্কিংয়ের কারণে দাগনভূঞা পৌর শহরের জিরো পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের প্রবেশমুখ জিরো পয়েন্টে সড়কের বড় অংশ দখল করে রাখা হয়েছে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশায়। একই সঙ্গে আতাতুর্ক স্কুলের গেট থেকে সুলতানা মার্কেট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অস্থায়ী টং দোকান। ফলে পথচারীদের ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবৈধ দখল ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। যাত্রী ওঠানামার সময় প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী দাবি করেন, দাগনভূঞায় চলাচলকারী অনেক সিএনজির সরকারি নিবন্ধন নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন নামে মাসিক অর্থ আদায়ের মাধ্যমে এসব যানবাহন চলাচল করছে এবং অবৈধ স্ট্যান্ড ও ফুটপাত দখল তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দাগনভূঞা বাজারের ব্যবসায়ী সাহেদুল ইসলাম বলেন, জিরো পয়েন্টে জনদুর্ভোগ এখন চরমে। অবৈধ দখল ও সড়কের ওপর যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, জিরো পয়েন্টে একাধিক সড়কের সংযোগস্থল হওয়ায় এখানে সবসময় যানবাহনের চাপ থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলোমেলো পার্কিং, অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাব। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। সম্প্রতি দাগনভূঞায় সড়ক দুর্ঘটনায় পৌরসভার উপ-প্রকৌশলী জুনায়েদ কাওছার সৌরভ নিহত হওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। সচেতন মহলের মতে, বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহী, শিক্ষার্থী ও বয়স্ক পথচারীদের চলাচলে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। পাশাপাশি যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি। দাগনভূঞা বাজার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন লিটন বলেন, জিরো পয়েন্টকে যানজটমুক্ত করতে হলে প্রধান সড়ক থেকে সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড সরিয়ে নিতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসন একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ ঢাকার আদলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, যেমন এআইভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং ও গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দুর্ঘটনা কমবে। দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, জিরো পয়েন্ট এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য ট্রাফিক পুলিশ ও একটি পুলিশ বক্স স্থাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পৌর প্রশাসক শাহীদুল ইসলাম বলেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পর আবার ফুটপাত দখল হয়ে যায়। যানজট নিরসনে পৌরসভার কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন। দাগনভূঞায় সিএনজি ও অটোরিকশার সংখ্যা বেশি হওয়ায় সমস্যাটি জটিল। জনদুর্ভোগ কমাতে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।