শিক্ষার্থীদের বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ফোকাল টিমের সদস্য নির্বাচনে মণিরামপুর উপজেলায় বসেছিলো অন্যরকম এক সভা। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সদস্য নির্বাচন পদ্ধতিও ছিলো অভিনব। ক্লাস রোল, মেধাবী মুখ, পূর্ব পরিচিতি এ সবের বাইরে গিয়ে আয়োজন করা হয় কুইজ প্রতিযোতিগার। যশোর জেলা প্রশাসনের কুইজ স্পেশালিস্ট হিসেবে পরিচিত স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক হুসাইন শওকত এই কুইজ পরিচালনা করেন। কুইজে বাল্য বিয়ের কুফল, প্রতিরোধে করণীর পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধ, সাম্প্রতিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রা আর ঘটমান বিশ্বকোষের নানা প্রশ্ন উঠে আসে। নিপুণ পরিচালনায় মধ্য দুপুরে চকিতেই কখন যে আড়াই ঘন্টা পার হয়ে গেলো বোঝা-ই যায়নি, প্রাণবন্ত কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত হয় ৩১ জন ফোকাল টিমের সদস্য। লিতুনজিরা ঐশ্বী, অনন্যা রহমান, সুরাইয়া আক্তার, কুন্তলা মন্ডল, পারভেজ হোসেন, রিয়াদ হোসেন, আব্দুর রহিম সজীব, সোহেল রানার মতো আরো ২৩ জন শিক্ষার্থীর চোখেমুখে বিজয়ের হাসি। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী হয়েও ওরা ৩১ জন এখন বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ ফোকাল টিমের সদস্য। এখন থেকে তারা শুধু নিজেরাই সচেতন হবে না, আগামী প্রজন্মের সচেতনতা বৃদ্ধি আর বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে তারা লড়বে সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে। যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের এক নান্দনিক উদ্যোগের অংশীজন এখন শিক্ষার্থীরাও। তারা কাজ করবে স্কুল ফোকাল টিমসহ ইউনিয়ন বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ কমিটির কার্যকর সদস্য হিসেবে। নবনির্বাচিত ৩১ জন শিক্ষার্থী যেন ২০৩১ সালের প্রতীকী। যে বছরকে নির্ধারণ করা হয়েছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে। মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের এক উদ্ভাবনী উদ্যোগ অনলাইন স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। মণিরামপুর পৌর আর ১৭টি ইউনিয়নের একশ’১৬টি মাধ্যমিক স্কুলের সকল তথ্য উপাত্ত নিবন্ধিত হচ্ছে এই পোর্টালে। এখন থেকে খুব সহজেই ক্রস চেক করা যাবে শিক্ষার্থীর শিক্ষা পরিচিতি। সহপাঠীর বাল্য বিয়ের আয়োজনের খবর শোনার সাথে সাথে শিক্ষর্থীরা স্কুল ফোকাল টিমের সাথে যোগাযোগ করবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই টিমে একজন শিক্ষক থাকবেন ফোকাল পারসন হিসেবে। তিনি যোগাযোগ করবেন টিম প্রধান স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে। একই সাথে তথ্যটি লিপিবদ্ধ হয়ে যাবে অনলাইন স্কুল ম্যানেজমেন্ট পোর্টালে। মুহূর্তেই তথ্যটি ছড়িয়ে যাবে সবখানে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করবেন ইউপি চেয়ারম্যান, বিট পুলিশিংসহ উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে। বাল্যবিয়ে বন্ধে সাথে সাথে গ্রহণ করা হবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা। খেদাপাড়া ইউনিয়নের হেলাঞ্চী গ্রামের হেলাঞ্চী কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের এ আয়োজনে অংশ নিয়েছিলো ইউনিয়নের হেলাঞ্চী কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গালদা খড়িঞ্চী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হেলাঞ্চী কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে, হেলাঞ্চী কৃষ্ণবাটি মহিলা দাখিল মাদ্রাসার চার শতাধিক শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগ যশোরের উপপরিচালক হুসাইন শওকত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার ও খেদাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম। উদ্যোগের বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান জানান, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়া হবে উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সম্মিলিত প্রয়াসে কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে মণিরামপুর উপজেলা শতভাগ বাল্য বিয়ে মুক্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আর করার পাশাপাশি এ কার্যক্রমে তাদেরকেই সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে তৈরী করতে বসেছিল এ আসর। চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থী এসেছিলো এ আয়োজনে। তাদের মাঝ থেকে বিশ জনকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে তৈরী করার জন্য নির্বাচিত করা হয়। এ নির্বাচন পদ্ধতিও ছিলো অভিনব। ক্লাস রোল, মেধাবী মুখ, পরিচিতি এ সবের বাইরে গিয়ে আয়োজন করা হয় কুইজ প্রতিযোতিগার। যশোর জেলা প্রশাসনের কুইজ স্পেশালিস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক হুসাইন শওকত এই কুইজ পরিচালনা করেন। হেলাঞ্চী কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়,গালদা খড়িঞ্চী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হেলাঞ্চী কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে, হেলাঞ্চী কৃষ্ণবাটি মহিলা দাখিল মাদ্রাসার স্টুডেন্ট প্যানেল, ফোকাল টিচার ও হেডমাস্টারের সমন্বয়ে স্কুল টিম। চাইল্ড ম্যারেজ প্রিভেনশন ফোকাল টিম মেম্বার। আব্দুল আলীম চেয়ারম্যান খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ,