নীলফামারীর জলঢাকায় নির্ধারিত সময়ের আগে স্কুল ছুটি দিয়ে শ্রেণিকক্ষের ভিতরে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে চর হলদিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুইটি আক্তারের বিরুদ্ধে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হয়ে স্কুল সময়ে প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষিকার এমন কান্ডে ক্ষোপের সৃষ্টি হয়েছে অভিভাবকসহ স্থানীয়দের জনমনে। এ ঘটনায় একদিকে যেমন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রীরা অন্যদিকে অপচয় হচ্ছে সরকারি বিদ্যুৎ। বুধবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৩ঃ১০ মিনিটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের চর হলদিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পতাকা স্টানে নেই জাতীয় পতাকা। বিদ্যালয় ভবনের একটি শ্রেণিকক্ষ বাদে সবগুলো কক্ষেই তালা ঝুলছে। একটি কক্ষ খোলা থাকলেও সেই কক্ষে উক্ত স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াচ্ছেন স্কুলের শিক্ষিকা সুইটি আক্তার। তিনি ১ম শ্রেণী থেকে শুরু করে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে একটি কক্ষের ভেতরে গোল করে বসিয়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। প্রাইভেটে থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী সিতু আক্তার, ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী সিনথিয়া,৩য় শ্রেণীর ছাত্র মেনাজুল ইসলাম, ২য় শ্রেণীর ছাত্রী আরনিকা ও ১ম শ্রেণীর ছাত্রী আফরোজা মিম তারা প্রাইভেটে থাকা অবস্থায় বলেন, স্কুল বিকেল ৩টার মধ্যে ছুটি দিয়েছে। ম্যাডাম আমাদের এখানেই প্রাইভেট পড়ায় এবং বিনিময়ে মাসে ১৫০ টাকা করে নেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন বলেন, প্রায় প্রতিদিনই ২.৩০ থেকে ৩টার মধ্যে স্কুল ছুটি দেয়। এবং ছুটি দিয়ে সেখানে প্রাইভেট পড়ায় বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এ বিষয়ে চর হলদিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করীম বলেন, অফিসিয়াল মিটিং থাকার কারনে মুভমেন্ট খাতায় স্বাক্ষর করে সুইটি ম্যাডামকে দায়িত্ব দিয়ে আমি স্কুল ত্যাগ করেছি। নির্ধারিত সময়ের আগে স্কুল ছুটি দিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে এমন করলে বিষয়টি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন,সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী স্কুল সোয়া ৪টা পর্যন্ত চলবে। যদি ওই স্কুল তার আগে ছুটি হয় তাহলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রাইভেট পড়া বিষয়ে তিনি বলেন,এমন কাজ তো করতেই পারে না যদি প্রাইভেট পড়ায় তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।