রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েছে

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২২

এ সপ্তাহেও বেড়েছে চালের দাম। সরু ও মাঝারি চালের দাম কেজিতে বেড়েছে দুই টাকা করে। অর্থাৎ গত সপ্তাহে ৬৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সরু চাল এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা দরে। এছাড়া ৫৬ টাকা কেজি দরের মাঝারি মানের চাল এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত তিন দিনে মিল পর্যায়ে মোটা চাল প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। সে কারণে খুচরা বাজারে খোলা চালের দামও বেড়েছে ১-২ টাকা। প্রতি কেজি পাইজাম ও গুটি স্বর্ণা জাতের চাল ৫৩ থেকে ৫৬ টাকা, আর বিআর-২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়।
বেড়েছে আটার দামও। গত সপ্তাহে ৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া খোলা আটা এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে, আর ৬২ টাকা কেজি দরের প্যাকেট আটা ৬৩ টাকা কেজি। দোকানিরা বলছেন, প্রতি কেজি আটা বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়। যা আগে কেজিতে ৫ টাকা কম ছিল। একইভাবে ভালো মানের ময়দার দাম এখন ৬৫-৭০ টাকা। ডালের দামও গত তিন-চার দিনে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। শুধু চাল বা আটা নয়, ক্রেতাদের পক্ষে বাজার থেকে কোনও পণ্যই আগের মতো কেনা সম্ভব হচ্ছে না। গতকাল শুক্রবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দাম বাড়ছে মোটা চাল, আটা, ময়দা, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, মসুর ডালসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের। বাড়তি দামের কারণে একদিকে ক্রেতারা চাহিদার তুলনায় কম পণ্য কিনছেন, অপরদিকে বিক্রেতারাও বলছেন, তাদের কেনাবেচা কমে গেছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের বেড়েছে: মগবাজার এলাকার মুদি দোকানি ইশরাত হোসেন বলেছেন, আগে যারা পাঁচ কেজি পণ্য কিনতেন, তারা এখন দুই কেজের বেশি কিনছেন না। কারণ, সবকিছুর দাম বাড়তি। দাম শুনে অনেকে পণ্য না কিনেও ফিরে যাচ্ছেন। যেটা না নিলেই নয়, সেসব পণ্য এক কেজির জায়গায় আধা কেজি নিচ্ছেন। আগে যারা পুরো প্যাকেট নিতেন, এখন তারা খোলা কিনছেন।
নতুন করে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে ভোজ্যতেলের বাজারে। দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমেছিল এক মাস আগে। এর মধ্যেই আবার দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এবার তারা লিটারে ১৫ টাকা বাড়াতে চান। গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়ার পর এরই মধ্যে বাজারে তেল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে কোম্পানিগুলো। সেজন্য এখন বেশিরভাগ দোকানে আগের নির্ধারিত দাম অনুযায়ীÍ তেল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭৮ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৫৮ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও কিনতে হচ্ছে আরও বেশি দামে। খুচরা বিক্রেতা জানান, সরকার ঘোষণা দেওয়ার আগেই ডিলাররা তেলের দাম বেশি নেওয়া শুরু করেছে। বোতলজাত সয়াবিনের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়েছে পাইকারি বাজারে। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ড্রাম (২০৪ লিটার) সয়াবিন ও পাম তেলে এক থেকে দেড় হাজার টাকা বেড়েছে। অবশ্য টিসিবির তথ্য বলছে, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে ৫ লিটার বোতলজাত সোয়াবিনের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। খোলা পাম অয়েলের দাম বেড়েছে লিটারে ৩ টাকার মতো। গত সপ্তাহে ১১২ টাকা লিটার খোলা পাম অয়েল এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা দরে। বাজারে চিনির দাম এখনও কমেনি। প্রতি কেজি খোলা চিনি ৯০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ৯৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। আবার সরকারি চিনিকলের চিনিগুলো প্রতিকেজি ৮৫ টাকা দর নির্ধারিত থাকলেও সেসব বাজারে মিলছে না।
দেশি প্রতি কেজি মশুর ডাল ১২৫ থেকে ১৩০ এবং আমদানি করা ডাল ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে যে মোটা মসুর ডাল বিক্রি হয় ৯৫ টাকা কেজি, এ সপ্তাহে সেই একই ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯৮ টাকা কেজি দরে। সবচেয়ে কম দামি মসুর ডালের দামও বেড়েছে কেজিতে ৩ টাকার মতো।
নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের বেড়েছে: সপ্তাহের ব্যবধানে আরও ৫ টাকা বেড়ে দেশি পেঁয়াজের কেজি ঠেকেছে ৬০ টাকায়। আবার ভালোমানের বাছাই করা পেঁয়াজ নিতে গেলে কোথাও কোথাও ৭০ টাকাও দিতে হচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া রসুন এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা কেজি দরে।
শুকনো মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকার মতো। গত সপ্তাহে ৩৪০ টাকা কেজি দরের দেশি শুকনো মরিচ এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। আর গত সপ্তাহে আমদানি করা ৪৪০ টাকা কেজি দরের শুকনো মরিচ এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।
আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা। গত সপ্তাহে ১০০ টাকা কেজি দরের দেশি আদা এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া গত সপ্তাহে ১৬০ টাকা কেজি দরের আমদানি করা আদা এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা কেজি। একইভাবে গত সপ্তাহে ৪৪০ টাকা কেজি দরের জিরা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজি করে। এদিকে নতুন সবজির মধ্যে বাঁধাকপি, ফুলকপি ও শিম এলেও তার দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে।
শুধু তাই নয়, বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম রাখা হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। ৮০ টাকা বা তার কিছু কমবেশি দামের সবজির তালিকায় রয়েছেÍ কাকরোল, কচুর লতি, উস্তা, করলা, ঝিঙা ও শিম। বেগুন, পটল, চিচিঙ্গা, মুলার কেজি ৬০ টাকা। কম দামে শুধু পেঁপে, যা ৪০ টাকা কেজি।
গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরের শসা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। অপরদিকে মৌসুম শেষ হওয়াতে ৪০ টাকা কেজি দরের কাঁকরোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকায়।
নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের বেড়েছে: সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম গাজর ও টমেটোর। গাজরের কেজি ১৪০ টাকা এবং পাকা টমেটো ১২০ টাকা। কাঁচা টমেটো মান ভেদে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরের ফুলকপির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকায়, ৪০ টাকা দরের লাউ এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া ৫০ টাকা কেজি মূলা, ৬০ টাকা কেজি দরে ঢেড়স, ৮০ টাকা কেজি বরবটি এবং ৫০ থেকে ৬০ কেজি দরে পটল বিক্রি হচ্ছে। আর কলমি শাক ১০ টাকা, মূলা শাক ২০ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, পাটশাক ২০ টাকা, লাল শাক ১৫ টাকা, পালং শাক ৫০ টাকা, ডাটা শাক ২০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ৩০ টাকা থেকে লাউশাকের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকায়।
মাছের বাজারে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙ্গাস মাছ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ছোট সাইজের তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ২৫০ টাকা, রুই মাছ আকার ভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, শিং মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, চাষের কই ২৪০ টাকা, বড় কাতল ৩৬০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, শোল মাছ ৭০০ থেকে আকার ভেদে ১০০০ টাকা, বড় চিংড়ি ৭০০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, পোয়া মাছ ৪৫০ টাকা, ছোট বোয়াল ৬০০, বাইম মাছ ৭০০ টাকা, ছোট বাইলা মাছ ৪০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০ টাকা, রূপচাঁদা প্রতি কেজি ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে জাটকা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়া এক কেজি ওজনের ইলিশ ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়, এর চেয়ে কিছুটা ছোট ইলিশ প্রতি কেজি ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেড় কেজি বা তার চেয়ে বেশি ওজনের বড় ইলিশ ১৪০০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com