ঢাকা ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নোয়াখালীতে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট Logo সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে : রিজভী Logo মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ মঙ্গলবার Logo বিএনপি সব সময় ইসলামের পথে থাকে-আমান উল্লাহ আমান Logo জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo তারাকান্দায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা Logo চিফ হুইপের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করলো সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি Logo উত্তরের নদ-নদীতে ধরা পড়ছে ইলিশ Logo কালীগঞ্জে দারিদ্র্যতা হার মানাতে পারেনি রুকাইয়াকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েও উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা

দৌলতখানে বিষধর সাপের কামড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, বাঁচতে চায় অসহায় জেলে বাবলু

নদীতে মাছ ধরেই চলত চার সদস্যের একটি ছোট সংসার। সেই জেলেই আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বিষধর সাপের কামড়ে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ভোলার দৌলতখান উপজেলার অসহায় জেলে বাবলু(৩০)। দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে চান তিনি, কিন্তু অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়িতে ফিরেছেন। অসহায় এই অবস্থায় কান্নায় ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। বাবলু উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেরামত আলী বাড়ির মৃত আহমদ আলীর ছেলে। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিল মেঘনা নদীতে মাছ ধরা। গত শনিবার রাতে বিএনপি বাজারসংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরে তীরে ফেরার সময় বিষধর একটি সাপ তাকে কামড় দেয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সাপের বিষের প্রভাবে বাবলুর পা ও কিডনি মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়েছে। তাকে সুস্থ করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রায় ৩ লাখ টাকা প্রয়োজন। এছাড়া শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়ায় চিকিৎসা ব্যয় আরও বেড়ে গেছে। কিন্তু দরিদ্র জেলে পরিবারের পক্ষে এত বড় অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে ধার-দেনা করে যা ছিল সব শেষ। অর্থাভাবে ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পেরে বাবলুকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে পরিবার। এখন তিনি বাড়িতেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। বাবলুর স্ত্রী সুরমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন দিশেহারা। সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি—আপনারা এগিয়ে এলে হয়তো আমার স্বামীর জীবনটা বাঁচানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মতিন খান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট

দৌলতখানে বিষধর সাপের কামড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, বাঁচতে চায় অসহায় জেলে বাবলু

আপডেট সময় ০৩:০০:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

নদীতে মাছ ধরেই চলত চার সদস্যের একটি ছোট সংসার। সেই জেলেই আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বিষধর সাপের কামড়ে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ভোলার দৌলতখান উপজেলার অসহায় জেলে বাবলু(৩০)। দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে চান তিনি, কিন্তু অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়িতে ফিরেছেন। অসহায় এই অবস্থায় কান্নায় ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। বাবলু উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেরামত আলী বাড়ির মৃত আহমদ আলীর ছেলে। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিল মেঘনা নদীতে মাছ ধরা। গত শনিবার রাতে বিএনপি বাজারসংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরে তীরে ফেরার সময় বিষধর একটি সাপ তাকে কামড় দেয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সাপের বিষের প্রভাবে বাবলুর পা ও কিডনি মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়েছে। তাকে সুস্থ করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রায় ৩ লাখ টাকা প্রয়োজন। এছাড়া শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়ায় চিকিৎসা ব্যয় আরও বেড়ে গেছে। কিন্তু দরিদ্র জেলে পরিবারের পক্ষে এত বড় অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে ধার-দেনা করে যা ছিল সব শেষ। অর্থাভাবে ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পেরে বাবলুকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে পরিবার। এখন তিনি বাড়িতেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। বাবলুর স্ত্রী সুরমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন দিশেহারা। সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি—আপনারা এগিয়ে এলে হয়তো আমার স্বামীর জীবনটা বাঁচানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মতিন খান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।