উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে জংশন স্টেশন সান্তাহার বগুড়া জেলার দ্বিতীয় বৃহৎ শহর ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। চতুর্মূখী সড়ক ও ত্রি-মূখী রেল যোগাযোগ সমৃদ্ধ সান্তাহারে কয়েকটি কেপিআই (key Point Instalation) প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বগুড়া জেলার আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া ও প্বার্শবর্তী নওগাঁ জেলার প্রায় সকল উপজেলার মানুষের রেলওয়ে যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে সান্তাহার। রেল স্টেশনটি সান্তাহার শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাবার ফলে সাস্তাহার শহর পূর্ব ও পশ্চিম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। কিন্তু প্রতিদিন হাজারো পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও যানবাহন পারাপারের একটি মাত্র পথ সান্তাহার রেলগেট। শহরের পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে চলাচলের যাতায়াতের প্রধান বাধা হচ্ছে রেলগেইট বা রেলক্রসিং। ট্রেন চলাচল নির্বিঘœ করতে এই লেভেল ক্রসিংয়ের রেলগেটটি ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০ ঘণ্টায় বন্ধ রাখা হয়। এ কারণে রেলগেটের উভয় পাশে আটকা পড়ে শত শত যান, ভোগান্তির শিকার হয় পথচারীরা। প্রতিদিন এই স্টেশন দিয়ে ৩০-৩৫টি ব্রড ও মিটার গেইজ যাত্রীবাহী ট্রেনসহ বিভিন্ন ধরনের মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। আর যে কোনো ট্রেন চলাচলের প্রায় ১০ মিনিট পূর্বে রেলগেইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন গেইটের দুইপাশেই সৃষ্টি হয় যানজটের। এ সময় পথচারীদের পায়ে হেটে চলাও মুশকিল। সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনের সুইচ কেবিন সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন আন্তঃনগর বিভিন্ন রুটের ২৮টি ট্রেন সান্তাহার জংশন স্টেশনে আসে। এছাড়াও কমিউটার ট্রেন চলাচল করে ১২টি ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে ১০ থেকে ১২টি। যার কারণে সারাদিন ৩০/৩৫ বার রেল ক্রসিংয়ের প্রতিবন্ধক ফেলা হয়। প্রতিবার গড়ে পাঁচ থেকে দশ মিনিট করে রেলক্রসিংয়ের বার ফেলে রাখা হয়। ব্রড গেজ লাইনের উত্তর দিক থেকে ট্রেন আক্কেলপুর স্টেশন থেকে ছাড়ার পর ১০/১৫ মিনিট পড়েই সান্তাহার রেল গেটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সান্তাহার থেকে আক্কেলপুরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। আক্কেলপুর থেকে সান্তাহার ট্রেন পৌঁছাতে সময় লাগে ২০ থেকে ৩০ মিনিট। কয়েক বছর ধরে জনবলের অভাবে তিলকপুর স্টেশন বন্ধ থাকার কারণে আক্কেলপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়লে সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনের রেলগেটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ১০/১৫ মিনিট রেলগেটটি বন্ধ থাকে। আবার কোনো কোনো সময় আপ ও ডাউন উভয় দিকে ট্রেন থাকলে সময় বেশি লাগে। আবার মিটার গেজের ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রেও একই সমস্যার সৃষ্টি হয়। সান্তাহার জংশন স্টেশন মাস্টার হাবিবুর রহমান জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার দিকে যানজট আরো দীর্ঘ হয়। শহরের প্রবেশদ্বার রেলগেটের উপর দিয়ে রাস্তাটি তৈরি হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। কখনো কখনো রেলক্রসিংয়ের প্রতিবন্ধকগুলো অনেক সময় ২০ মিনিটেরও বেশি পড়ে থাকে। ট্রেন চলে গেলেও জটলা কাটে না। রেলগেট এলাকা থেকে যদি বাইপাস অথবা আন্ডারপাস রাস্তা করা হয় অথবা ফ্লাইওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয় তাহলে সমস্যার সমাধান হতে পারে। তাই চলাচলের জন্য দ্রুত কোনো বিকল্প পথ তৈরি করা করা না হলে আগামীতে এই দুর্ভোগ আরো চরম আকার ধারন করবে ভুক্তভোগীদের অভিমত।