বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এদেশের অর্থনীতি বিশেষ করে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বেশিরভাগ মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র উৎস হচ্ছে কৃষি খাত। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান কৃষি খাতের জন্য একদম উপযুক্ত, কারণ এখানকার মাটি পৃথিবীর যে কোনো দেশ থেকে উর্বর, যা ফসলজ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। এ জন্য বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে এ খাতটির কোনো বিকল্প নেই।এছাড়া বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় দেশের জনগণকে প্রতি ইঞ্চি জমিতে আবাদ করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি তিনি নিজেও সরকারি বাসভবন গণভবনের অব্যবহৃত প্রতি ইঞ্চি জমিকে কাজে লাগিয়েছেন।তিনি পুরো গণভবনকে একটি খামার বাড়িতে পরিণত করেছেন।অথচ নীলফামারী জলঢাকা উপজেলায় জমির ফসল নষ্ট করে “তিস্তা সেচ প্রকল্প কমান্ড এলাকার পূর্নবাসন ও সম্প্রসারণ” প্রকল্পের কাজ চালু করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকদের উপর হামলা চালিয়েছে কৃষকরা।এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ৪জন ও কয়েকজন কৃষক আহত হয়েছেন। পরে জলঢাকা থানা ও ডিমলা থানার পুলিশ এবং জলঢাকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুর এর সার্বিক সহায়তায় পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) উপজেলার সীমান্তবর্তী গোলনা ইউনিয়নের বুড়ি তিস্তা নদীর ব্রিজ সংলগ্ন সরকারি জমি ভোগদখলিয় কৃষকদের সাথে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখনো পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সমস্যা সমাধান করা না হলে পরিস্থিতি যেকোন সময় নিয়ন্ত্রণের বাহিরে যেতে পারে। ফলে পুলিশ বাহিনীকে মোতায়েন রেখে উক্ত স্থান পর্যবেক্ষনে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জলঢাকা-ডিমলা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা গোলনা ইউনিয়নের বুড়ি তিস্তা নদীর আশেপাশে শতাধিক কৃষক চলতি মৌসুমের ইরি-বরো ধান ও ভুট্টা রোপন করেছেন। এ সোনালী ফসল নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। কিন্তু কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেসব ফসলী জমি নষ্ট করে গত ৩দিন পূর্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে তিস্তা সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকার পূর্নবাসন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। যেখানে কাজ শুরু হয় সে স্থানে রয়েছে কৃষকদের সোনালি স্বপ্ন। সেজন্যই ক্ষেপে যায় নিরীহ কৃষকরা। তারা দেখতে পায় ধান ও ভুট্টা ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে ভ্যাকু দ্বারা নদী পূর্নখনন কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। এ সময় দীর্ঘদিন ভোগদখলীয় ওই সকল জমির মালিকরা লাঠি সোটা নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের উপর হামলা চালায়। এতে এস আর কনস্ট্রাকশনের ম্যানেজার রাজিব আহাম্মেদ(৪৫), ছোট ডাবলু(৪০), রোকন(৩৭) এবং খাঁন ইন্টার প্রাইজ কনস্ট্রাকশনের ড্রাইভার লেবু মিয়া(৩৮) আহত হন। এছাড়া কৃষকদের মধ্যে অনেকে আহত হয়ে গোপনে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানা যায়। আহত ড্রাইভার লেবু মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, কাজ করার সময় প্রায় শতাধিক জনতা লাঠি সোটা নিয়ে আমাদের উপর আতর্কিত হামলা চালায়। তৎক্ষানিক প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক গণমাধ্যমকে অভিযোগ করে বলেন,পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ জমি আমাদের বাপ দাদার আমল থেকে ভোগদখল করে আসছে। এখন সরকার নির্ধারিত প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন করবে ভালো কথা। কিন্তূ আমাদের চাষাবাদকৃত ফসল নষ্ট করে,আমাদের পেটে লাথি মেরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে বলেনি। আমরা এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে জমি চাই না কিন্তূ আমাদের রক্ত ঘাম ঝড়ানো ফসল নষ্ট করে কাজ করার স্বক্ষমতা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোথায় পেলো?নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানান, এর আগে একই ঘটনার সৃষ্টি হয়েছিল। তখন আমাদের নামে মামলা হয়। পুরুষ শুন্য হয়েছিল আমাদের গ্রাম। তখন দুই উপজেলার জনপ্রতিনিধিরা জেলা পর্যায়ে একটি মিটিং করে কৃষকদের জন্য কি করা যায়? তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এটিই জেনেছি কাজ শুরুর আগে আমাদের নোটিশ করে জানানোর কথা এবং ক্ষতি পুরন,কৃষকদের তালিকা প্রনয়ন করার কথা থাকলেও কোনরুপ নোটিশ ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেন।তিনি আরো বলেন,পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা,প্রশাসন,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মিলে মিটিং করলেও আমাদের কৃষকদের সঙ্গে কোন আলোচনা করেনি। হঠাৎ প্রকল্পের কাজ চালু করায় আমাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়,তিস্তা ব্যারেজের উপরিভাগ বাংলাদেশের অভ্যান্তরে তিস্তা নদীর ১৬ কিলোমিটার এলাকা খনন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য আলাদা ভাবে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। তিস্তা সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকার পূর্নবাসন ও সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পটির সম্পুর্ন জিওবি অর্থায়নে মোট ১ হাজার ৪শত ৫২ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা প্রাক্কালিক ব্যয়ে জানুয়ারী ২০২১ হতে জুন ২০২৪ইং এর পরিবর্তে জুলাই ২০২১ইং হতে ডিসেম্বর ২০২৪ইং মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে জলঢাকা উপজেলায় সাড়ে ৩শত হেক্টর জমি এবং ডিমলা উপজেলায় ৯ শত হেক্টর জমি তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন। ওই প্রকল্পের কাজ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আওতায় চলে যায়। সেই থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সমন্বয় না করে খামখেয়ালী মনোভাব ও ক্ষমতার দাপটে নোটিশ ছাড়াই কৃষকদের ফসল নষ্ট করে কাজ শুরু করেন।এ বিষয়ে জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি ফিরোজ কবির জানান, এখন পর্যন্ত পরিবেশ শান্ত আছে। অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে জলঢাকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুর সংবাদকর্মীদের বলেন, দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা এটি। সংঘর্ষে জরায় ডিমলা উপজেলার কৃষকরা আর মামলা হয় জলঢাকা উপজেলার সাধারণ কৃষকদের উপর। এটা এক প্রকার বৈষম্য। তিনি আরও বলেন, এখানে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তাতে কাউন্সিলিং মাধ্যমে কাজ করলে ভালো হবে। নয়তো এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ বিষয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান প্রধান এর সাথে দৈনিক খবরপত্রের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, সরকারি জমি সরকার থেকে ফসল রোপন করতে নিষেধ করা হয়েছে। তারপর ও তারা ফসল রোপন করেছেন।পরবর্তীতে ফসল নষ্ট করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত তথ্যের জন্য তার নিকট যেতে বলে মুঠো ফোনটি কেটে দেন।