ক্রেতা না থাকায় ভারত থেকে আমদানিকৃত পাথর নিয়ে বিপাকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকেরা। বন্দর অভ্যন্তরে বিক্রির অপেক্ষায় পড়ে আছে কয়েক হাজার মেট্রিক টন পাথর। দাম কমিয়ে দেওয়ার পরও ক্রেতা নেই বন্দরে। যেখানে আগে প্রতিদিন ভারত থেকে ৮০ থেকে ১০০ ট্রাক পাথর আমদানি হতো। বর্তমানে আমদানি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ ট্রাক পাথর। আমদানিকারকরা বলছেন, দেশের মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হলে আমদানিকৃত পাথরগুলো হয়তো বিক্রি হবে। এতে করে যেমন আমদানি বাড়বে, তেমনি রাজস্ব পাবে সরকারও। মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বন্দরের আমদানিকারকসহ পানামা পোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। হিলি বন্দর দিয়ে পাথর আমদানিকারক সাকোয়াত হোসেন বলেন, এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্যর পাশাপাশি আমদানি হয়ে থাকে পাথর। দেশের মেগ্রা প্রকল্প থেকে শুরু করে সরকারি বেসরকারি কাজ যেমন রাস্তাঘাট, কালর্ভাট, বিল্ডিংসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত পাথর এই বন্দর দিয়ে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে ক্রেতা সংকট ও এলসি জটিলতায় কারনে থমকে আছে পাথর বিক্রি। বন্দরের অভ্যন্তরে পড়ে আছে কয়েক হাজার মেট্রিক টন পাথর। আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম পলাশ বলেন, পাথর বিক্রি না হওয়ায় আমদানি কমিয়ে দিয়েছি। একমাস আগে ৩-৪ সাইজের পাথর বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৪ শ থেকে ৪ হাজার ৫শ টাকা মেট্রিক টন দরে। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯শ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা মেট্রিক টন দরে। তার পরও ক্রেতা নেই। সল্প পরিসরে চলছে পাথর বিক্রি। এতে করে বন্দর অভ্যন্তরে জায়গা স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এরফলে অন্য পন্য খালাস করতে সমস্যায় পরতে হচ্ছে আমাদের। দেশের মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হলে হয়তো পাথর বিক্রি বাড়বে। হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর-রশিদ বলেন, দেশের কিছু কিছু মেগাপ্রকল্প বন্ধ থাকায় হিলি বন্দরে পাথর বিক্রি অনেকটাই কমেছে। আবার অনেক আমদানিকারক নগদ টাকায় পাথর আমদানি করে বাকিতে বিক্রি করেছেন। তারাও সময়মতো টাকা পরিশোধ করছেন না। এছাড়াও ডলার সংকটের কারণে এলসিতে নিরুৎসাহিত করা আছে। তারপরও কোনো কোনো আমদানিকারক আগের এলসির পাথর আমদানি করে বন্দর অভ্যন্তরে মজুত করে রেখেছেন। প্রতিটনে ৪ থেকে ৫শ দাম কমিয়ে দিয়েও ক্রেতা মিলছে না। বর্তমান পাথর আমদানি করলে লোকসান গুনতে হবে। তাই অনেক আমদানিকারক পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন। পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিডেটের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক বলেন, হিলি বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি অব্যাহত আছে। তবে আগের চেয়ে কম। একমাস আগেও যেখানে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ ট্রাক পাথর আমদানি হতো। বর্তমানে ২০ থেকে ৩০ ট্রাক পাথর আমদানি হচ্ছে। হিলি শুল্ক স্টেশন সুত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হিলি বন্দর দিয়ে ২৮টি ট্রাকে পাথর আমদানি হয়েছে।