শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

এসির ভাড়া নিয়ে নন-এসি সার্ভিস দেয় বিআরটিসির বাস

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় রবিবার, ৫ মার্চ, ২০২৩

বরিশাল-যশোর-খুলনা-গোপালগঞ্জ ও পিরোজপুর রুটে চারটি এসি বাস চলাচল করে। নামে এসি এবং ভাড়াও নেওয়া হয় এসির। কিন্তু বাস্তবে নন-এসি সার্ভিস দেওয়া হয়। অনেক যাত্রী বাসে ওঠার পর বুঝতে পারেন প্রতারিত হয়েছেন। এভাবে দিন দিন কমছে সরকারি এই পরিবহনের যাত্রী।
যাত্রীদের অভিযোগ, এসির ভাড়া নিয়ে নন-এসি সার্ভিস দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের আগে কাউন্টার ত্যাগ করে বিআরটিসির বাসগুলো। এর প্রধান কারণ টিকিটের যাত্রী রেখে ‘পোক’ যাত্রী তোলায় বেশি আগ্রহী বিআরটিসির চালক-সুপারভাইজার ও হেলপার। পথিমধ্যে বাসে তোলা যাত্রীদের সাংকেতিক ভাষায় ‘পোক’ বলে ডাকেন চালক-সুপারভাইজার ও সংশ্লিষ্টরা। পথে তোলা যাত্রীর বাস ভাড়া ভাগ করে নেন চালক-সুপারভাইজার ও হেলপার। এসব যাত্রীর কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীরা। এই ভোগান্তি নিত্যদিনের বলে জানিয়েছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অগ্রিম টিকিট নেওয়া যাত্রীদের নগরীর নথুল্লাবাদ বিআরটিসি বাস কাউন্টার ছাড়া অন্য কোনও স্থান থেকে উঠলে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে চালক-সুপারভাইজার ও হেলপার নির্দিষ্ট সময়ের আগে বাস নিয়ে ওই স্থান ত্যাগ করেন। পরে ওই আসনে পথ থেকে যাত্রী নেন। এতে এক সিটের ভাড়া ডাবল নিচ্ছেন তারা। গত শনিবার সকাল ৮টায় বৃদ্ধা মাকে নিয়ে খুলনায় যাওয়ার জন্য শুক্রবার রাতে বরিশাল বিআরটিসি বাস কাউন্টার থেকে অগ্রিম টিকিট কেনেন আরিফ আহমেদ। তিনি বলেন, ‌‘সকাল ৮টায় নথুল্লাবাদ বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড থেকে গাড়িটি ছাড়ার সময় ছিল। মাকে নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম নগরীর সিঅ্যান্ডবি কলোনি মোড়ে। কিন্তু খুলনাগামী গাড়িটি পৌনে ৮টায় ছেড়ে আমাদের না নিয়ে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে চলে যায়। একাধিকবার হাত তুললেও চালক বাস থামাননি। পরে কাউন্টারে কল করলে বিআরটিসির বরিশালের অফিসের কর্মকর্তা মশিউর রহমান গাড়িটি থামানোর ব্যবস্থা করেন। রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে র‌্যাব-৮ সদর দফতরের কার্যালয়ের সামনে এসে আমাদের গাড়িতে উঠতে হয়েছে।’ এতে সময় নষ্ট ও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে উল্লেখ করে আরিফ আহমেদ বলেন, ‘বাসে ওঠার পর চালক আজিজুল হক আমাদের ওপর রাগ ঝাড়লেন। তখন চালকের কাছে জানতে চাইলাম, হাত তোলার পরও আপনি ওখানে গাড়ি থামালেন না কেন? উত্তরে চালক বলেন, আমি দেখতে পাইনি।’
ওই বাসের সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি এক মিনিটের জন্য ওখানে গাড়ি থামাতে বারবার অনুরোধ করার পরও চালক থামাননি।’
আরিফ আহমেদ আরও বলেন, ‘সিটে বসতে গিয়ে দেখি অন্য যাত্রী বসা। পুরো গাড়ির সব সিট ভর্তি যাত্রী। দাঁড়িয়ে আছেন পোক যাত্রীরা। ভেতরে হাঁটার জায়গা নেই। এরপরও খুলনা পর্যন্ত আসতে বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী তুলেছেন চালক-সুপারভাইজার। অথচ সিটিং সার্ভিসের ভাড়া নেওয়া হয়। সেইসঙ্গে কিছুক্ষণ এসি চালানোর পর পুরো পথ বন্ধ রাখা হয়।’
একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পোক যাত্রী তুলতে নির্দিষ্ট সময়ের আগে কাউন্টার ত্যাগ করে বিআরটিসির বেশিরভাগ বাস। এরপর পথে পথে যাত্রী তোলা হয়। ওই যাত্রীর ভাড়ার ৪০ শতাংশ নেন চালক, ৩৫ শতাংশ নেন সুপাইভাইজার এবং ২৫ শতাংশ নেন হেলপার।
বেশিরভাগ সময় বিআরটিসি বাসে যাতায়াতকারী নগরীর দক্ষিণ আলেকান্দার বাসিন্দা কাজী মিরাজ বলেন, ‘অগ্রিম টিকিট বেশি বিক্রি হলে চালকরা নির্দিষ্ট সময়ের আগে কাউন্টার থেকে গাড়ি ছেড়ে দেন। যাত্রী কম হলে নির্দিষ্ট সময়ের পরও দাঁড়িয়ে থাকেন। এ অবস্থায় যাত্রীদের চাপাচাপিতে গাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। ফলে অনেকে বাস মিস করেন। দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া নিষেধ থাকলেও মানেন না চালক-সুপাইভাইজার। দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়ায় সিটে বসা যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যাত্রীরা কিছু বললে বাগবিত-া শুরু করেন চালক-সুপাইভাইজার। বিআরটিসির এসব ঘটনা নিত্যদিনের।’
বিআরটিসির এসি বাসে বরিশাল থেকে খুলনায় যাচ্ছেন মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, ‘বাসে ওঠার পর কিছুক্ষণ এসির বাতাস গায়ে লাগে। এরপর বাতাস বন্ধ হয়ে যায়। তখন সবার দম বন্ধ আসে। চালক-সুপারভাইজারকে বারবার বললেও এসি চালায় না। কখনও বলে এসি নষ্ট, কখনও বলে এসি গরম হয়ে গেছে। তবে যাত্রীরা বাগবিত-া শুরু করলে ১০ মিনিটের জন্য চালিয়ে আবার অজুহাত তুলে বন্ধ করে দেয়। এভাবে মাসের পর মাস যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে বিআরটিসির এসি বাস।’
তিনি বলেন, ‌‘আমরা যারা নিয়মিত বিআরটিসি বাসে চলাচল করি তারা এখন আর বিষয়টি গায়ে মাখি না। বলতে বলতে অসহ্য হয়ে এখন মানিয়ে নিয়েছি। বিআরটিসির বাসে দুর্ঘটনা কম ঘটায় এবং ধীরস্থিরভাবে চলাচল করায় আমরা নিয়মিত যাতায়াত করি।’
বরিশাল থেকে দক্ষিণা লের বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন এসি, নন-এসি মিলিয়ে ৩২টি বিআরটিসি বাস চলাচল করে। এর মধ্যে পাঁচটি ইজারাদারদের মাধ্যমে পরিচালিত। বাকিগুলো সরকার নিয়ন্ত্রিত বলে জানালেন বিআরটিসির ব্যবস্থাপক জমশেদ আলী। এসি বাসগুলো চলছে বরিশাল-মাওয়া, কুয়াকাটা, দিনাজপুর ও খুলনা রুটে। দেখতে আধুনিক হলেও অধিকাংশ বাসের এসি, টিভি এবং সাউন্ড সিস্টেমসহ সবই নষ্ট। এ ছাড়া বেশিরভাগ গাড়ির ভাঙা বডি জোড়াতালি দিয়ে কোনোভাবে চালানো হচ্ছে। মাঝেমধ্যে পথিমধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। এসির ভাড়া নিয়ে নন-এসি সার্ভিস দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ বরিশাল বিভাগের উপপরিচালক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে বিআরটিসির দায়িত্বশীলরা ভালো জানেন। বিষয়টি নিয়ে আমি কোনও কথা বলতে চাই না।’ তবে বিআরটিসিসহ দূরপাল্লার প্রতিটি যানবাহনে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া নিষেধ বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান। এসির ভাড়া নিয়ে নন-এসি সার্ভিস দেওয়ার বিষয়ে বিআরটিসির বরিশালের ব্যবস্থাপক জমশেদ আলী বলেন, ‘মাঝেমধ্যে এসিতে সমস্যা দেখা দেয়। তখন কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়।’ তিনি বলেন, ‘দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে নিষেধ করা হয়েছে চালক-সুপারভাইজারদের। গাড়ি ছাড়ার নির্দিষ্ট সময়ের পর এক মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চালক-সুপারভাইজারদের নির্দেশ দিয়েছি আমরা। এরপরও মাঝেমধ্যে কোনও কোনও চালক ও সুপারভাইজার ভুল করেন। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিই।’ বিআরটিসিকে লাভজনক করার চেষ্টা করছি জানিয়ে জমশেদ আলী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় এই পরিবহন সেবাকে জনপ্রিয় করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আমরা। কিছু বাস আগের নিয়মে ব্যক্তি মালিকানায় ইজারা দেওয়া আছে। ওই বাসগুলোর চালক-সুপারভাইজারের মধ্যে দ্বন্দ্বের ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। তাদের বাসগুলো অনিয়ম করলেও দোষ আসে আমাদের কাঁধে। সবকিছু মেনে নিয়েই সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছি আমরা।’-বাংলাট্রিবিউন




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com