চীনের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন সংঘাতে একটি মোড় আসতে পারে। চলতি বছরের শেষের দিকে হতে পারে শান্তি আলোচনা।
সিবিএসকে রবিবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিসিঞ্জার বলেন, ‘এখন যেহেতু চীন আলোচনায় এসেছে তাই আমি মনে করছি বছরের শেষ নাগাদ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটতে পারে। ততক্ষণে আমরা সমঝোতার প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলব’। ইউক্রেনে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এই যুদ্ধের প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্বে। করোনা মহামারির পর পর খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা মানুষ।
এমন প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের এপ্রিলে যুদ্ধ বন্ধে এগিয়ে আসে চীন। মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকায় আসতে চাওয়া চীন একটি পরিকল্পনাও প্রকাশ করে। তবে ওই পরিকল্পনায় রাশিয়ার স্বার্থ হাসিল হবে জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি চীনের আনা ১২টি প্রস্তাবের মধ্যে মাত্র কয়েকটিকে স্বাগত জানালেও রাশিয়ার সঙ্গে কোনোভাবেই আপস না করার বিষয়ে অনড় থাকেন তিনি।
ইউক্রেনের সংঘাতকে নিজের এবং ন্যাটোর মধ্যে একটি ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ বলে মনে করে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ শুক্রবার বলেছেন, পশ্চিমের হাতের পুতুল জেলেনস্কির সঙ্গে কোনও আলোচনা হবে না। তবে তার প্রভুদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন প্রকাশ্যে দাবি করেছে, কখন শান্তি ফিরবে তা ইউক্রেনের ওপর নির্ভর করছে। জেলেনস্কিকে তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য অস্ত্র সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছেন বাইডেন। এই লক্ষ্যগুলোর মধ্যে আছে ২০১৪ সালে দখল হয়ে যাওয়া ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া। মার্কিন সামরিক নেতারা অবশ্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে এটি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিসিঞ্জার গত বছর বলেছিলেন, ইউক্রেনের উচিত ‘স্থিতাবস্থার পূর্বে’ ফিরে যাওয়া বা ক্রিমিয়ার আ লিক দাবি ত্যাগ করা। পাশাপাশি ডোনেস্ক এবং লুগানস্ক গণপ্রজাতন্ত্রকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া। মস্কো বারবার বলেছে যে তারা কিয়েভের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তত। তবে এর জন্য ইউক্রেনকে ডোনেস্ক, লুগানস্ক, খেরসন এবং জাপোরোজিয়ে অ লের দাবি ছেড়ে দিতে হবে। অন্যথায় সামরিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করবে রাশিয়া। সূত্র: আরটি