সবাই নিজের জীবনে উত্তম জীবনসঙ্গী চায়; কিন্তু তা কখনো নিজ ইচ্ছায় চাইলেই পাওয়া যায় না, দয়াময় মহান আল্লাহ তায়ালা যদি চান তাহলেই পাওয়া যায়। তিনি যদি না চান, তাহলে তা কখনোই ঘটবে না। আবার, আল্লাহ তায়ালা যদি চান তাহলে কেউই তা রুখতে পারবে না, যতই প্রতিকূলতা থাক না কেন। আল্লাহ তায়ালার পক্ষে আমাদের ধারণা থেকেও উত্তম কিছু দেয়া কোনো ব্যাপার নয়। তিনি বান্দার প্রত্যাশার চেয়েও উত্তম কিছু দিতে সক্ষম। তাঁর ইচ্ছার বিপরীতে কেউ কিছু পেতে পারে না। তাই উত্তম জীবনসঙ্গী পেতে মহান আল্লাহর ওপর একান্ত আস্থা ও বিশ্বাসের বিকল্প নেই। যিনি দিতে পারবেন, তাঁর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করতে হবে, শুধু তাঁর রহমতের জন্য নিজের জীবনকে প্রস্তুত করতে হবে, রবের আদেশ পালনে সর্বদা নিজের নফসকে (আত্মা) নিয়োজিত রাখতে হবে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা চক্ষু শীতলকারী জীবনসঙ্গী পেতে দোয়া শিখিয়েছেন।
মহান আল্লাহ তায়ালার বিধান তো বটে; মূলত সৃষ্টিগতভাবেই নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। নারী ছাড়া পুরুষ এবং পুরুষ ছাড়া নারীর জীবন অসম্পূর্ণ। বিয়ের মাধ্যমে মানুষের নিঃসঙ্গতা ও একাকিত্ব দূর হয়। জীবনে সুখ-প্রশান্তি ও আনন্দের ধারা বয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা হজরত আদম আ:-কে সৃষ্টি করার পর হজরত হাওয়া আ:-কে তার জীবনসাথীরূপে সৃষ্টি করেন। তাদের বিয়ের মাধ্যমে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে দেন। সেই ধারাবাহিকতা এখনো পৃথিবীতে চলমান। কোন আমল করলে দ্রুত বিয়ে হয় কিংবা বিয়ের ব্যবস্থা ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজ সহজ হয়, এ ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম অনেক আমলের কথা উল্লেখ করেছেন।
চক্ষু শীতলকারী স্ত্রী লাভের দোয়া : পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহর নবী হজরত মূসা আ:-এর কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। সেখানে হজরত মূসা আ:-এর একটি দোয়াও এসেছে। যে দোয়া পড়ার পর আল্লাহ তায়ালা তাঁর জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তাঁর আশ্রয়ের পাশাপাশি উত্তম জীবনসঙ্গিনীরও ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সেই দোয়াটি হলো-‘রাব্বি ইন্নি লিমা-আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির।’ অর্থ- ‘হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ পাঠাবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (সূরা আল-কাসাস-২৪) আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের পরিচয়ে অনেক গুণাগুণের কথা পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম হলো- তারা পুণ্যবান স্ত্রী ও সন্তানের জন্য দোয়া করেন। কুরআনে বর্ণিত দোয়াটি শিখিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- ‘রাব্বানা-হাবলানা-মিন আজওয়া-জিনা-ওয়া জুররিইয়াতিনা-কুররতা আইয়ুনিও ওয়া জাআলনা-লিল মুত্তাকি-না ইমা-মা।’ অর্থ- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের এমন স্ত্রী ও
সন্তান দান করুন। যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় আর আমাদেরকে (পুরুষদেরকে) মুত্তাকি লোকদের নেতা বানিয়ে দিন।’ (সূরা ফোরকান-৭৪)
প্রত্যেক সালাতের (তা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল যেকোনো সালাত হোক) শেষ বৈঠকে দোয়ায়ে মাছুরা পড়ার পর পবিত্র কুরআনে বর্ণিত এই আয়াতখানা বিয়ের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আমল করলে আশা করা যায়, আল্লাহভক্ত দ্বীনদার, পরহেজগার ও আদর্শ স্ত্রী জুটবে। মহান আল্লাহ তায়ালার মহত্ত্বের কথা মাথায় রেখে দৃঢ় আশা নিয়ে উল্লিখিত দোয়াটির ওপর নিয়মিত আমল করলে ইনশা আল্লাহ মহান আল্লাহ তায়ালা নারী-পুরুষ সবাইকে তাদের চোখ জুড়ানো জীবনসঙ্গী ও সন্তান দান করবেন। যারা মহান আল্লাহর কাছে উত্তম জীবনসঙ্গী লাভের প্রত্যাশা করে, তাদের উচিত মহান আল্লাহর কাছে তারই শেখানো ভাষায় আবেদন করা। উত্তম জীবনসঙ্গী সবারই প্রত্যাশা। প্রত্যেক নারীই উত্তম স্বামী আর প্রত্যেক পুরুষই উত্তম স্ত্রীর আকাক্সক্ষা করে। এ প্রত্যাশা পূরণে আল্লাহর ওপর একান্ত আস্থা ও বিশ্বাসের বিকল্প নেই। আল্লাহর কাছে চাইলে কী না পাওয়া যায়? মুসলিম উম্মাহর উচিত আল্লাহ তায়ালার শেখানো ভাষায় তাঁরই কাছে উত্তম জীবনসঙ্গী ও সুসন্তান লাভের দোয়া করা। আর যারা বিয়ে করেছেন তারা স্ত্রী ও সন্তানদের দ্বীনদার করার জন্য, তাদের আদর্শবান করে গড়ে তোলার জন্য- প্রতিবার দোয়ায় এ আয়াত পাঠ করলে বিশেষ উপকার লাভ হয়। লেখক : ফেনী সদর, ফেনী থেকে