রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

নতুন গবেষণা: জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে বদলে যাচ্ছে মহাসাগরের রঙ

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৩

গত ২০ বছরে সমুদ্রের রঙ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে এবং মানব সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এর জন্য সম্ভবত দায়ী। নতুন একটি গবেষণায় এমনটাই দাবি করা হলো। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ওশানোগ্রাফি সেন্টার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষকদের একটি দল বলেছেন, বিশ্বের ৫৬% এরও বেশি মহাসাগরের রঙ এমনভাবে পরিবর্তিত হয়েছে যা প্রাকৃতিক পরিবর্তনশীলতার নিরিখে ব্যাখ্যা করা যায় না।
নেচার জার্নালে প্রকাশিত সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসারে, বিশেষ করে বিষুবরেখার কাছাকাছি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মহাসাগরগুলি গত দুই দশকে সবুজ হয়ে উঠেছে, যা তাদের বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তনগুলিকে প্রতিফলিত করে। সমুদ্রের রঙ তার উপরের স্তরে থাকা উপাদানের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি গভীর নীল সমুদ্রে খুব কম জীবনের অস্তিত্ব থাকবে, যেখানে একটি সবুজ রঙের অর্থ হল সেখানে বাস্তুতন্ত্র রয়েছে, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের উপর ভিত্তি করে এর রঙ সবুজ হয়। এই মাইক্রোবসগুলি ক্লোরোফিল ধারণ করে। ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন একটি খাদ্য জালের ভিত্তি তৈরি করে যা ক্রিল, মাছ, সামুদ্রিক পাখি এবং সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো বৃহত্তর জীবের ধারক।
গবেষণার সহ-লেখক তথা সেন্টার ফর গ্লোবাল চেঞ্জ সায়েন্সের সিনিয়র বিজ্ঞানী স্টেফানি ডুটকিউইচ বলেছেন, এই ইকোসিস্টেমগুলি কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তা ঠিক পরিষ্কার নয়। সম্ভবত সমুদ্রের সমস্ত অংশে উপস্থিত ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের প্রকারের পরিবর্তন হয়েছে। মহাসাগরের বাস্তুতন্ত্রগুলি সূক্ষ্মভাবে ভারসাম্যপূর্ণ এবং ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের যে কোনও পরিবর্তন খাদ্য শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলবে। সমস্ত পরিবর্তন ইকোসিস্টেমের প্রাকৃতিক সংগঠনে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করছে।

এই ধরনের ভারসাম্যহীনতা সময়ের সাথে সাথে আরও খারাপ হবে যদি মহাসাগরগুলি উত্তপ্ত হতে থাকে। এটি কার্বনের ভাণ্ডার হিসাবে কাজ করার সমুদ্রের ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন ডাটকিউইচ, কারণ বিভিন্ন প্লাঙ্কটন বিভিন্ন পরিমাণে কার্বন শোষণ করে। যদিও গবেষকরা এখনও পরিবর্তনের অর্থ ঠিক কী তা জানার জন্য কাজ করছেন, তবে পরিবর্তনগুলি মানব-প্ররোচিত জলবায়ু পরিবর্তন দ্বারা চালিত হচ্ছে বলে তাদের বিশ্বাস।
গবেষকরা সমুদ্রের পৃষ্ঠ থেকে কতটা সবুজ বা নীল আলো প্রতিফলিত হয় তা ট্র্যাক করে মহাকাশ থেকে সমুদ্রের রঙের পরিবর্তনগুলি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তারা অ্যাকোয়া স্যাটেলাইট থেকে ডেটা ব্যবহার করেছে যা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রের রঙের পরিবর্তনগুলি পর্যবেক্ষণ করছে এবং মানুষের চোখে দৃশ্যমান নয় এমন পার্থক্যগুলি বেছে নিতে সক্ষম। তারা ২০০২ থেকে ২০২২ পর্যন্ত রঙের বৈচিত্র্যের ডেটা বিশ্লেষণ করেছেন। তারপরে অতিরিক্ত গ্রহ-তাপীকরণের ফলে মহাসাগরে কী ঘটবে তা জানতে জলবায়ু পরিবর্তনের মডেলগুলি ব্যবহার করেছেন। রঙের পরিবর্তনগুলি প্রায় হুবহু মিলে যায় যা ডাটকিউইচ পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যদি বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়ে তাহলে আমাদের প্রায় ৫০% মহাসাগরের রঙ পরিবর্তন হবে। তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে সিএনএনকে বলেছেন, এখনো মানুষ সচেতন না হলে আগামী দিনে বড় বিপর্যয় ঘটবে। ডাটকিউইচ জানাচ্ছেন, মানুষ খালি চোখে দেখতে না পেলেও এই পরিবর্তনগুলি ঘটে চলেছে।

সূত্র : সিএনএন




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com