পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের বিনোদন নগরী কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কটি ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড?ক। সড়কটি বঙ্গোপসাগর এর পাশ দিয?ে কক্সবাজারের কলাতলী সৈকত থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি বর্তমানে পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ সড?ক। এর এক দিকে রয?েছে সমুদ্র সৈকত অন্যদিকে সবুজ পাহাড?। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের তদারকিতে সড়কের পার্শ্বে সমুদ্রের পানির তোড় রক্ষায় রয়েছে জিও ব্যাগের প্রটেকশন ওয়াল। কিন্তু এত কিছুর পরও বঙ্গোপসাগরের প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে তীব্র ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক? অসংখ্য স্থানে সৃষ্টি হয়েছে এ ভাঙন। ব্যাপকভাবে ভাঙনের ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার (৫ আগস্ট) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার থেকে ঋঝু খালের পরে টেকনাফের বাহারছড়া, হাদুরছড়া, দক্ষিণ মুন্ডার ডেইল এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সড়কের ১০/১২টি স্থানে নতুন করে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এছাড়াও টেকনাফের পশ্চিম মুন্ডার ডেইল এলাকার প্রায় ৬০ মিটার সড়ক ঢেউয়ের তোড়ে ভেঙে গেছে। এক সপ্তাহের অবিরাম বর্ষন ও বৈরী আবহাওয়ার কারনে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ভাঙ্গন তীব্র হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে পর্যটন স্পট হিমছড়িসহ আরো কয়েকটি এলাকা। স্থানীয়রা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভারী বৃষ্টিপাত চলছে। এছাড়াও পূর্ণিমার তিথিতে সাগরের জোয়ারের উচ্চতা বেড়ে গেছে। ফলে বড় বড় ঢেউ মেরিন ড্রাইভ সড়কের গোড়ায় আছড়ে পড়ছে। এতে সড়ক প্রটেকশনের জিও ব্যাগের বাঁধ ডিঙিয়ে উত্তাল ঢেউ সড়কে আঘাত হানছে। এর আগে আইন অমান্য করে মেরিন ড্রাইভ সড়কের নিকটস্থ সমুদ্র সৈকত থেকে বালু তুলে জমি ভরাট করেছে তীরবর্তী কতিপয় ভূমি মালিক ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান মালিক। এসব কারণে সাগরে সামান্য পানি বাড়লেও এ মেরিন ড্রাইভ রোডে ভাঙন দেখা দেয়। কক্সবাজার শহরের কলাতলী জিরো পয়েন্ট থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কের দৈর্ঘ্য ৮০ কিলোমিটার সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন হলেও এর নির্মাণ তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল দপ্তর। নিকটস্থ এলাকাবাসী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোন মুহুর্তে বিচ্ছিন্ন হতে পারে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ যোগাযোগ। জেলা প্রশাসক মো: শাহীন ইমরান বলেন, কক্সবাজার পর্যটন শিল্পের জন্য অতিগুরুত্ব পুর্ন সড়ক কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক। সিজনাল ভাঙ্গনরোধে সেনাবাহিনী কাজ করছে। ভাঙ্গনের বিষয়টা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।