প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদকে এবার কিশোরগঞ্জে গ্রেফতার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছে। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাশিদুল আমিন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটুর দায়ের করা সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তাকে এই গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গত ২৪ মে সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু এ মামলাটি করেছিলেন। এ মামলায় আগামীকাল মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর আদালতে তার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় আবু সাঈদ চাঁদকে কড়া পুলিশ পাহারায় কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার সময় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আদলত-৫-এর বিচারক রাশিদুল আমিনের আদালতে তোলা হলে তাকে এ শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এর আগে রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে রাজশাহী কারাগার থেকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে আনা হয়। আদালতে তাকে আনার পর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের উচ্চ স্বরে ‘চাঁদ ভাই আপনার কোনো ভয় নেই আমরা কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা আপনার সাথে আছি’ বলাসহ তার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে রাজশাহীর পুঠিয়ার শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপির রাজনৈতিক সমাবেশে আবু সাঈদ চাঁদ ‘আর ২৭ দফা বা ১০ দফা নয়। শেখ হাসিনাকে কবরস্থানে পাঠাতে হবে’- এরকম একটি বক্তব্য দেন। এ ঘটনার পর ২৫ মে রাজশাহী পুলিশ চাঁদকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক মামলা হতে থাকে। কিশোরগঞ্জেও সৈয়দ টিটু তার নামে মামলা করেন।
টিটুর আইনজীবী ও কিশোরগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট আতিকুল হক বুলবুল জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেয়ার মামলায় সোমবার কিশোরগঞ্জ আদালতে ধার্য তারিখ ছিল। তাই তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। এই মামলা তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো: আবু সাঈদ চাঁদকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন জানান, মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জ সদর আদালতে আবু সাঈদ চাঁদের মামলার শুনানি হবে। আমরা জামিন আবেদন করবো। আশা করি, আইন অনুযায়ী তাকে জামিন দেয়া হবে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী একটি ঘটনায় একটার বেশি মামলা হতে পারে না। কিন্তু তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় একই ঘটনায় ২৬টি মামলা হয়েছে। আমরা শুনেছি আরো কিছু জায়গায় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। হাইকোর্টের রোলিং আছে এক ব্যাক্তিকে একাধিক মামলায় এক বিষয়ে গ্রেফতার দেখানো যায় না। কিন্তু এখন এটা মানা হচ্ছে না। প্রত্যেক জায়গাতেই নেয়া হচ্ছে, নিয়ে রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে। তিনি বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ। উনার একটি কিডনি ড্যামেজ তারপরেও উনাকে কোনো ধরনের আইনি সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।’