বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, পুলিশের সকল সদস্যই ভালো নেই। একশ্রেণির পুলিশ ভালো আছে। জজ সাহেবরা দলীয় ভাষায় কথা বলছেন। যেটা জনগণ আশা করে না। আমরা যারা মুসলমান, তারা বিশ্বাস করি, পরকালে প্রথম জবাবদিহি করতে হবে বিচারকদের। তারপর আমরা যারা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী ছিলাম তাদের। কারণ, আমাদের প্রতিই জনগণের বেশি আস্থা, সে আস্থা আমরা নষ্ট করতে পারি না। তিনি বলেন, মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন মানুষ কোর্টে যায়। আর সেখানে যদি ছায়া না পায়, তাহলে মানুষ কোথায় যাবে? আইন শুধু বিএনপির জন্য:নিয়ম কিংবা আইন শুধু বিএনপির জন্য বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শ্রমিক দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার আশু রোগ মুক্তি কামনায় আয়োজিত এক মিলাদ মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল অভিযোগ করে মির্জা আব্বাস বলেন, আজকে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। চিকিৎসকরা তাকে বিদেশে পাঠাতে পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সরকার অনুমতি দিচ্ছে না। খালেদা জিয়া কোনো অপরাধ না করেই আজকে আটক আছেন। অথচ অপরাধ করেও আওয়ামী লীগের মখা আলমগীর, মায়া চৌধুরী, হাজী সেলিম বাইরে। নিয়ম কিংবা আইন শুধু বিএনপির জন্য আর অনিয়ম আওয়ামী লীগের জন্য। এ অন্যায়ের বেড়াজাল অবশ্যই ভেঙে তছনছ করে দেবো। আমাদের মনে রাখতে হবে, এটা শুধু মাত্র দেশনেত্রী বেগম খালেদা মুক্তি নয়, সারাদেশের মানুষের মুক্তি, সারাদেশের মানুষের সার্বভৌমত্বের মুক্তি, দেশের মানুষের ভোটাধিকারের মুক্তি। নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আজকে চেয়ারপারসন জেলে। তাকে আমরা মুক্ত করতে পারিনি। এটা আমাদের দুর্বলতা। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য তিনি কখনো আপোস করেননি। তিনি বেঁচে আছেন ঠিকই। কিন্তু আমাদের মাঝে নাই। তিনি আমাদের মাঝে থাকলে দেশের আজ এই অবস্থা হতো না। এদেশ বহু আগে হায়নাদের কাছ থেকে মুক্ত পেত। সেটা বুঝতে পেরে তারা খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছেন। মির্জা আব্বাস বলেন, আল্লাহ বলেছেন আমার রহমত থেকে কেউ নিরাশ হইও না। আমরা কেউ নিরাশ নই। একদিকে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা মুক্তির জন্য দোয়া করব। অন্যদিকে এ দেশের মানুষের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র মুক্তির জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করব।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার যদি কিছু হয় তাহলে আওয়ামী লীগকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। বর্তমান ও অবৈধ সরকারের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।