শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

ড. ইউনূসের ৬ মাসের কারাদণ্ড, আপিলের শর্তে জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৪

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলায় সাজা পাওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার শর্তে জামিন দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার সাজা ঘোষণার পর বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানার আদালতে এ জামিন আবেদন করা হয়। পরে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে রয়েছেন ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সারা হোসেন ও খাজা তানভীর আহমেদ । অপরদিকে কলকারখানার পক্ষে রয়েছেন এডভোকেট খুরশীদ আলম খান। এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলায় ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজা হলেও এখনি জেলে যেতে হচ্ছে না ড. ইউনূসকে
বাংলাদেশে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে করা একটি মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেয়া হয়েছে। সেইসাথে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (১ জানুয়ারি) ঢাকার তিন নম্বর শ্রম আদালতের বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্যদের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এই সময় অধ্যাপক ইউনূসসহ অন্য অভিযুক্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বহুল আলোচিত এই মামলায় পর্যবেক্ষণে দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। মামলার আরেকটি ধারায় তাদের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অর্থাৎ তাদের প্রত্যেককে মোট ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। তবে কারাদ- হলেও এখনি কারাগারে যেতে হবে না ড. ইউনূসকে।
আদালতে তাদের আইনজীবীরা ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার শর্তে জামিন চাইলে পাঁচ হাজার টাকার বন্ডে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। অর্থাৎ আগামী একমাসের মধ্যে তাদের শ্রম আপিলেট ট্রাইবুনালে আপিল করতে হবে। শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি করেছিল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর। এ মামলার অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, অনিয়মের মাধ্যমে শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টনের জন্য সংরক্ষিত লভ্যাংশের পাঁচ শতাংশ না দেয়া এবং ১০১ জন শ্রমিকের চাকরি স্থায়ী না করা। এছাড়া গণছুটি না দেয়া, শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল এবং অংশগ্রহণ তহবিল গঠন না করাও অন্যতম অভিযোগ এই মামলার। কলকারখানা ও পরিদর্শন অধিদফতরের করা এ মামলায় অধ্যাপক ইউনূসসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য অভিযুক্ত হলেন গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হাসান, পরিচালক নূরজাহান বেগম এবং মো: শাহজাহান। ২০২৩ জুন মাসে মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। এরপর পক্ষে বিপক্ষে শুনানির পর ২৪ ডিসেম্বর রায়ের জন্য ২০২৪ সালের পহেলা জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করে আদালত। সূত্র : বিবিসি

‘ড. ইউনূস ঘুস দিয়ে শ্রমিক নেতাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন’
শ্রমিকরা যখন আদালতে গেছেন, তখন আদালতের বাইরের দুজন শ্রমিক নেতাকে ছয় কোটি টাকা ঘুস দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘শরণার্থীর জবানবন্দি ১৯৭১’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান।
তিনি বলেন, মালালা ইউসুফজাই ১২ না ১৪ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। কখন আট বছরের ছেলেকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়, সেটির আশঙ্কাও লোকজন করছেন।
ড. ইউনূস একজন নোবেলজয়ী, তার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় নিয়ে আপনার মতামত কী, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে অনেক নোবেলজয়ী ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। অনেকে অনেক জেলও খেটেছেন। ড. ইউনূসের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাচ্ছি, তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়ার জন্য। তিনি শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে দেননি বহু বছর ধরে। এরপর যখন শ্রমিকরা যখন আদালতে গেছেন, তখন আদালতের বাইরের দুজন শ্রমিক নেতাকে তিন কোটি, তিন কোটি ছয় কোটি টাকা ঘুস দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন। ‘কিন্তু দুজন শ্রমিক নেতা টাকা পেলে তো হবে না, কারণ সাধারণ শ্রমিকরা তো কোনো টাকা পাননি। সে কারণে সাধারণ শ্রমিকরা মামলা করেছেন। সেই মামলার রায় হতে যাচ্ছে। এখন শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে নানান কথা হয়। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে অনেক বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও অনেক কথা বলেন।’
কাজেই নোবেলজয়ী যদি শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে না দেন, তাহলে কী তার বিরুদ্ধে মামলা হবে না, প্রশ্ন রেখে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আশা করি, বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও এ নিয়ে কথা বলবে না। শ্রমিকের অধিকার ও পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে মামলা হয়েছে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com