সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন

সত্য সঠিক শান্তির ধর্ম ইসলাম ধর্ম

মুফতী ফয়জুল ইসলাম
  • আপডেট সময় শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

১. ইসলাম পূর্ণাঙ্গ দ্বীন: ইসলাম আল্লাহর মনোনীত পূর্ণাঙ্গ দ্বীন। আকীদা, ইবাদত, সমাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি এবং শিক্ষাসহ মানব জীবনের সবকিছু এই ধর্মের ব্যাপকতার আওতাভুক্ত। ইসলাম ব্যক্তি জীবনে সীমাবদ্ধ নয়। কুরআন করীমে ইরশাদ হয়েছে, আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম। তোমাদের উপর আমার নেয়ামত পরিপূর্ণ করলাম। এবং তোমাদের জন্য দ্বীন হিসাবে ইসলামকে (চিরকালের জন্য) পছন্দ করে নিলাম। (সূরা মায়েদা : ৩)

আরো ইরশাদ হয়েছে : হে মু’মিনগণ ইসলামে সম্পূর্ণরূপে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না। নিশ্চিত জেন, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (বাকারা : ২০৮)
সুতরাং কুরআন-সুন্নায় মানব জীবনের সকল বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং বিধিবিধান রয়েছে। ফেকাহ শাস্ত্রে খুটিনাটি সব কিছুর বিস্তারিত আলোচনা আছে। এর কিছু মান্য করা, কিছুকে অস্বীকার করা কুফরী। কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে : তবে তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখ এবং কিছু অংশ অস্বীকার কর? তাহলে বল, যারা এরূপ করে তাদের শাস্তি এছাড়া আর কী হতে পারে যে, পার্থিব জীবনে তাদের জন্য থাকবে লাঞ্ছনা। আর কিয়ামতের দিন তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে কঠিনতর আযাবের দিকে? তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ সে সম্পর্কে উদাসীন নন। (বাকারা : ৮৫) ইসলাম-পূর্ব আসমানী ধর্মগুলো সারা পৃথিবীর জন্য এবং সব যুগের জন্য ছিলো না। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেগুলোতে জীবনের সকল বিষয়ের সমাধান নেই এবং সেগুলো পূর্ণাঙ্গ নয়। কিন্তু ইসলাম এর ব্যতিক্রম।
২. ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীন: ইসলাম আল্লাহর মনোনীত সর্বশেষ দ্বীন। মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তি একমাত্র এ ধর্মের মাঝে নিহিত। এরশাদ হয়েছে : নিশ্চয় আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন কেবল ইসলাম। (আলে ইমরান : ১৯) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে : যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনও দ্বীন অবলম্বন করতে চাবে, তার থেকে সে দ্বীন কবুল করা হবে না এবং আখেরাতে যারা মহা ক্ষতিগ্রস্ত, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (আলে ইমরান : ৮৫) হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে : যদি মুসা আ. জীবিত থাকতেন তাহলে তাঁকেও আমার অনুসরণ করতে হত। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস, ১৪৭৩৬ শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ১৭৬)
৩. ইসলাম বিশ্বজনীন ধর্ম, সকল মানুষের ধর্ম: আল্লাহ পাক বলেন : রমযান মাস, যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, বিশ্বমানবের জন্য যা আদ্যোপান্ত হেদায়াত এবং এমন সুষ্পষ্ট নিদর্শনাবলী সম্বলিত, যা সঠিক পথ দেখায় এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে চুড়ান্ত ফয়সালা করে দেয়। (বাকারা : ১৮৫)
আরো ইরশাদ হয়েছে : (হে রাসূল! তাদেরকে) বল, হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলের প্রতি সেই আল্লহর প্রেরিত রাসূল, যার আয়ত্তে আসমানসমূহ ও পৃথিবীর রাজত্ব। (আরাফ : ১৫৮)
আরো ইরশাদ হয়েছে: হে নবী! আমি তোমাকে জগতসমূহের জন্য কেবল রহমত করেই পাঠিয়েছি। (আম্বিয়া : ১০৭)
আরো ইরশাদ হয়েছে: হে মানুষ! তোমাদের কাছে এমন জিনিস এসেছে যা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক উপদেশ, অন্তরের রোগ-ব্যাধির উপশম এবং মু’মিনের পক্ষে হেদায়াত ও রহমত। (ইউনুস : ৫৭)
ইসলাম মানবধর্ম। জাতি-ধর্ম বংশ-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি ন্যায় বিচার, সহমর্মিতা, সৌজন্যমূলক আচরণ, জীবের প্রতি দয়া এই ধর্মের অন্যতম শিক্ষা।

কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে : হে মুসলিমগণ! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারকে আদায় করে দিবে এবং যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ইনসাফের সাথে বিচার করবে। নিশ্চিত জেন, আল্লাহ তোমাদেরকে যে বিষয়ে উপদেশ দেন তা অতি উৎকৃষ্ট হয়ে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন। (নিসা : ৫৮)
আরো ইরশাদ হয়েছে : নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি সত্য সম্বলিত কিতাব নাযিল করেছি, যাতে আল্লাহ তোমাকে যে উপলব্ধি দিয়েছেন সে অনুযায়ী মানুষের মধ্যে মীমাংসা করতে পার। আর তুমি খেয়ানতকারীদের পক্ষ অবলম্বন করো না। (নিসা. ১০৫)
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে : হে মু’মিনগণ! তোমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী হয়ে যাও। আল্লাহর স্বাক্ষীরূপে-যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে কিংবা পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে হয়। সে ব্যক্তি (যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার আদেশ করা হচ্ছে) যদি ধনী বা গরীব হয় তবে আল্লাহ উভয় প্রকার লোকের ব্যাপারে তোমার চেয়ে বেশী কল্যাণকামী। সুতরাং এমন খেয়ালখুশির অনুসরণ করবে না, যা তোমাদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় বাধা হয়। তোমরা যদি পেঁচাও অর্থাৎ (মিথ্যা সাক্ষ্য দাও) অথবা (সঠিক সাক্ষ্য দেওয়া থেকে) পাশ কাটিয়ে যাও। তবে জেনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। (নিসা : ১৩৫)
আরো ইরশাদ হয়েছে : হে মু’মিনগণ! তোমরা এমন হয়ে যাও যে, সর্বদা আল্লাহর (আদেশসমূহ পালনের) জন্য প্রস্ত্তত থাকবে এবং ইনসাফের সাথে সাক্ষদানকারী হবে এবং কোন সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ পরিত্যাগে প্ররোচিত না করে। ইনসাফ অবলম্বন করো। এ পন্থাই তাকওয়ার বেশী নিকটবর্তী এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ রূপে অবগত। (মায়েদা : ৮)
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে : হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যারা মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করেন না। (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ফাযাইল, হাদীস ৬১৭২)
আরো ইরশাদ হয়েছে : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, (জীবের প্রতি) দয়াকারীর উপর দয়াময় আল্লাহ দয়া করেন। জমিনে বসবাসকারী মাখলুকের প্রতি দয়া কর, আসমানওয়ালা তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯২৪)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। আল্লাহর কাছে প্রিয় সেই যে তাঁর পরিবারের প্রতি দয়া করে। (শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস : ৭৪৪৮)
ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র সত্য ধর্ম । এই ধর্ম সকলকে দরদের সাথে সত্যের পথে আহবান করে। ইহকালীন ও পরকালীন নাজাতের পথে ডাকে। কিন্তু কাউকে বাধ্য করে না। সকলের ধর্মীয় স্বাধীনতা স্বীকার করে।
ইরশাদ হয়েছে : দ্বীন গ্রহণের বিষয়ে কোন জবরদস্তি নেই। হেদায়েতের পথ গুমরাহি থেকে পৃথক রূপে স্পষ্ট হয়ে গেছে। এর পর যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলো সে এক মজবুত হাতল আকড়ে ধরল, যা ভেঙ্গে যাওয়ার কোন আশংকা নেই। আল্লাহ সব কিছু শুনেন ও সবকিছু জানেন। (সূরা বাকারা : ২৫৬)
ইসলাম গ্রহণে কাউকে বাধ্য করা যাবে না। তবে যিনি স্বেচ্ছায় সত্যধর্ম ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তিনি আল্লাহ তা’য়ালার হুকুম আহকাম পালনে বাধ্য থাকবেন। ক্ষমতানুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে বাধ্যও করবে। বনী ইসরাইল হযরত মুসা আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান আনার পর যখন তাওরাতের হুকুম আহকাম পালনে বাহানা করে, তখন তাদের উপর পাহাড় তুলে ধরা হয়। ইরশাদ হয়েছে : এবং সেই সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদের থেকে (তাওরাতের অনুসরণ সম্পর্কে) প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম এবং তূর পাহাড়কে তোমাদের উপর উত্তোলন করে ধরেছিলাম। (আরও বলেছিলাম যে) আমি তোমাদেরকে যা (যে কিতাব) দিয়েছি তা শক্ত করে ধর এবং তাতে যা কিছু লেখা আছে তা স্মরণ রাখ, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। (বাকারা : ১৩)
হাদীস শরীফে ইরশাদ হচ্ছে : হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোনও গোনাহের কাজ দেখবে শক্তি থাকলে হাত দ্বারা (বল প্রয়োগ করে) তা বন্ধ করে দিবে। এ শক্তি না থাকলে মুখ দ্বারা বন্ধ করার চেষ্টা করবে। এ শক্তিও না থাকলে অন্তর দ্বারা ঘৃণা করবে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৭৮)
আরো ইরশাদ হয়েছে : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শিশুর বয়স যখন সাত বছর হয় তাদেরকে নামাযের আদেশ কর, দশ বছর হলে (প্রয়োজনে) প্রহার (হালকা শাসন) কর এবং তাদের শোয়ার বিছানা পৃথক করে দাও। (সুনানে আবু দাউদ ৪৯৬)
মুরতাদ সম্পর্কে ইসলামী আদালতকে রাসূল সা. নির্দেশ দিয়ে বলেছেন : হযরত ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে মুসলমান দ্বীন ত্যাগ করল তাকে মৃত্যুদন্ড দাও। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬৭২২) ইসলাম কোনও অমুসলিমকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করে না। তবে একমাত্র বিজয়ী ধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত থাকতে চায়।
৪ বিজয়ী ধর্ম ইসলাম: ইসলাম আল্লাহ-মনোনীত সত্য ধর্ম। সেহেতু বিজয়ী ধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত থাকা তার একান্ত কাম্য। সত্যের হাতে পৃথিবীর নেতৃত্ব থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং অন্যায় অবিচার দূর করা, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, শান্তি স্থাপন এবং খোদাদ্রোহী কুফরী শক্তির দাপট চূর্ণ করে একমাত্র সত্যধর্ম ইসলামের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা জিহাদের লক্ষ্য। কুফরী শক্তির দাপট ইসলাম বিরোধী মানবরচিত আইনের কর্তৃত্ব যাবতীয় অশান্তির মূল। হক গ্রহণের পথে বড় বাধা। সাধারণত মানুষ বিজয়ী শক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয়। বিজয়ী শক্তির সামনে নতজানু থাকে। চেতনায়-অবচেতনে তাদের অন্ধ অনুসরণ করে চলে। এবং এটাকে গর্বের বিষয় মনে করে। আজকে বিশ্বব্যাপী ইহুদী-নাসারাদের দাপটের প্রেক্ষাপটে মুসলিম জাতির প্রতি চোখ বুলালেই তো বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যায়। এমতাবস্থায় হকের দাওয়াত যথাযথ কার্যকর হয় না। হককে বোঝা ও মানা অধিকাংশের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই জিহাদের মাধ্যমে কুফরী শক্তিকে পদানত করে ইসলামকে বিজয়ী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : কিতাবীদের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে না এবং পরকালেও না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা কিছু হারাম করেছেন তাকে হারাম মনে করে না এবং সত্য দ্বীনকে নিজের দ্বীন বলে স্বীকার করে না তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর। যাবৎ না তারা অধীন হয়ে জিযিয়া আদায় করে। (সূরা তাওবা ২৯) অর্থাৎ তারা ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনতা মেনে নেওয়ার পর ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে।
আরো ইরশাদ হয়েছে : আল্লাহ তো হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ নিজ রাসূলকে প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি সব দ্বীনের উপর তাকে জয়যুক্ত করেন। মুশরিকগণ এটাকে যতই অপ্রীতিকর মনে করুক। (তাওবা : ৩৩)
হাদীস শরীফে জিহাদের পরিচয় ও লক্ষ্য সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি যুদ্ধ করল এ লক্ষ্যে, যাতে আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী হয় সেই আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করল। (সহীহ বুখারী হাদীস , ১২৩)
আরো ইরশাদ হয়েছে : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলাম বিজয়ী দ্বীন পরাজিত নয়। (সহীহ বুখারী হাদীস : ১৩৫৩; সুনানে কুবরা, বায়হাকী ৬/২০৫
হযরত সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রাহ.) তাঁর এক মকতুব (চিঠিতে)-এ লিখেছেন : অর্থাৎ যেহেতু মৌখিক দাওয়াত অস্ত্রের জিহাদ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে না, তাই সকল দায়ীর ইমাম মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ পর্যায়ে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য আদিষ্ট হয়েছেন। শা’আয়েরে দ্বীনের মর্যাদা, শরীআতের বিজয় ও উন্নতি জিহাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। (সীরাতে সায়্যেদ আহমদ শহীদ)। অতএব শান্তি স্থাপন এবং ন্যায় ও সত্যকে বিজয়ী রাখার লক্ষ্যে সামর্থ অনুযায়ী জিহাদের প্রস্ত্ততি গ্রহণ করা মুসলমানদের উপর ফরয।
আমরা ধর্মনিরপেক্ষতা নােেম একটি শব্দ শোনে অভ্যস্থ, ধর্মনিরপেক্ষতা অর্থ যদি কেউ করেন ধর্মের ব্যাপারে ব্যক্তি স্বাধীনতা, কাউকে কোনো ধর্মমত গ্রহণে বাধ্য না করা, তাহলে এ অর্থের সাথে ইসলামের কোনো সংঘাত নেই। কারণ ইসলাম জোরপূর্বক কাউকে ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে না। ইসলামী রাষ্ট্রে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীদের নিজ নিজ ধর্ম-কর্ম পালন করার অধিকার রয়েছে। ইসলাম জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য ন্যায় বিচার ও সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে। এখানে অন্যায় পক্ষপাতিত্বের কোন স্থান নেই।
পরিভাষায় ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ, সমাজ, রাষ্ট্র, আইন ও বিচার এবং শিক্ষাকে ধর্মের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ধর্মকে ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ রাখেন। তাদের শ্লোগান হলো, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। অর্থাৎ সামাজিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ধর্মকে নির্বাসিত করাই তাদের লক্ষ্য। অন্যান্য ধর্মে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য তেমন কোন বিধি বিধান নেই। তাই তারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে। কিন্তু ইসলাম মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য শাশ্বত আদর্শ দান করেছে এবং তা স্বয়ং সর্বজ্ঞ সর্বজ্ঞাতা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত, মানব প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ আদর্শ। তাই ইসলামে ধর্মনিরপেক্ষতার কোন অবকাশ নেই। কোন মুসলমান আদর্শ হিসাবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে গ্রহণ করতে পারে না। এখানে বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানী র.-এর কয়েকটি বাণী প্রণিধান যোগ্য। তিনি লেখেন, অর্থাৎ ইসলাম কোন অবস্থায় অধীন হয়ে থাকাকে পছন্দ করেনি। কুরআন হাদীসের বহু দলিল থেকে সুষ্পষ্টভাবে প্রমানিত হয় যে, হুকুমত ও বিজয় ইসলামের একান্ত কাম্য। কুরআন কারীমে ইরশাদ হয়েছে, (অর্থ) আল্লাহই তো হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ নিজ রাসূলকে প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি সব দ্বীনের উপর তাকে জয়যুক্ত করেন। (মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম :২/১০৯) মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে সঠিক সত্য শান্তিময় পথে চলার তৌাফক দান করুন।
লেখক: গবেষক, ইসলামী চিন্তাবিদ।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com