উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের প্রচারণা শেষ হয়েছে গতকাল মধ্যরাতে। আজ ২১ মে মঙ্গলবার হবে ১৫৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ। এ নির্বাচন সফল করতে আজ নির্বাচনভুক্ত উপজেলাগুলোতে ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি। আর নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৫৭ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা (মিডিয়া) মো. শরীফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
এতে জানানো হয়েছে, আজ ২১ মে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার এর আওতায় ১৯ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।
এদিকে গত রোববার শেষ দিনের প্রচারে সর্বোচ্চ প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। এর মধ্য দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীরা নির্বাচনি এলাকায় ভোটের আবহ তৈরিতে মরিয়া প্রয়াস চালান। তবে বিএনপিসহ শীর্ষদলগুলো নির্বাচনে না আসায় এবং দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে এখনো তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ এবং মন্ত্রী-এমপিদের স্বজনদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইস্যুগুলোই যা আছে আলোচনায়। ফলে ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে ভোটার আনাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ এটা এখন প্রার্থী থেকে নির্বাচন কমিশন সবার মুখে মুখে। গত ৮ মে প্রথম ধাপের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৩৬ শতাংশ।
ইসি সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। আজ থেকে ১৫৭ উপজেলায় মাঠে নামছেন একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। ভোট গ্রহণের পরের দুই দিন অর্থাৎ ২৩ মে পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করতে ১৫৭ উপজেলায় একই দিন মাঠে নামছে বিজিবি, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভোটের আগে-পরে পাঁচ দিনের জন্য তারা দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব আতিয়ার রহমান শনিবার জানান, বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা পাঁচ দিনের জন্য মাঠে নিয়োজিত থাকবেন। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে পরিপত্র জারি করেছে।
এদিকে গত রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর বলেন, নির্বাচনে ভোট কম পড়ার পেছনে বড় একটি ফ্যাক্টর হলো বিএনপি। তবে এটিই একমাত্র ফ্যাক্টর নয়। বিশেষ করে আরেকটি বড় কারণ হলো স্থানীয় নির্বাচনে ভোটাররা চাকরিস্থল থেকে আসতে চান না। এখন ৬০ শতাংশের বেশি ভোটাররা আসতে চান না। এটা সারা পৃথিবীতেই এমন। ভারতেও সব দল অংশ নিলেও ৬০ শতাংশ ভোট পড়েনি।
ইসি আলমগীর বলেন, ‘আমরা আশা করি, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। ছোটখাটো যেসব সমস্যা মাঠে আছে সেগুলো যাতে না হয়, সে জন্য আমরা প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছি। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন প্রথম ধাপের নির্বাচনের চেয়েও সুষ্ঠু হবে।’ আলমগীর বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন ভোটের পরে ৪৮ ঘণ্টা থাকে। সে সময়ের মধ্যে তো কিছু হয়নি। ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারেন, তবে কত ভোট পড়বে তা বলা কঠিন। সেটা বলা যাবে না। যেহেতু সব দল অংশ নিচ্ছে না, তাই ভোটের হার নিয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না।’
নির্বাচনী সহিংসতার জেরে গোপালগঞ্জে একজন মারা গেছে, সেখান থেকে কি শিক্ষা নিচ্ছে কমিশন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোটের কয়দিন পর এ ঘটনা ঘটেছে। তবে সেটা নির্বাচনের কারণে নাকি ব্যক্তিগত কারণে সেটাও দেখতে হবে। তদন্ত না হলে তো মূল কারণ বলা যায় না। এ ছাড়া নির্বাচন না থাকলে এ দেশে সহিংসতা হয় না, বিষয়টি তো এমন নয়। এখন পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না সেটা দেখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধান কাটার কারণে ভোট কম পড়েছে, বিষয়টা এমন নয়। আপনারা কেন বিষয়টা ওইদিকে নিয়ে আমাদের খোঁচা দেন। তাৎক্ষণিক কারণ ছিল সকালে বৃষ্টি। অন্যান্য কারণের মধ্যে ধান কাটাও একটা ছিল। তার বাইরে বড় একটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি, এসব কারণে ভোট কম পড়েছে। তারা নির্বাচনে ভোট দিতে ভোটারদের নিষেধ করেছে এটা তারা বলতে পারেন। তবে জোর করে কাউকে ভোট দিতে যেতে বাধা দিতে পারবেন না। ভোট বর্জনের কথা তারা বলতেই পারবেন।