মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাইম ব্যাংকের “এমপাওয়ারিং ইয়ুথ” বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজন একটি স্থায়ী স্বাধীন শিক্ষা কমিশন: প্রিন্সিপাল নুরে আলম তালুকদার পেকুয়ায় অগ্নিকা-ে ১০ বসতবাড়ি পুড়ে ছাই: ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি জগন্নাথপুরে অসহায়-মানুষের মধ্যে ৫০টি ছাগল উপহার দিল সার্কেল ২৫ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে ফকিরহাটে দুই বাসের সংঘর্ষে নারীসহ ১৫জন আহত দুর্গাপুরে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, মা-মেয়েসহ আহত ৪ মধুপুরে নবনির্বাচিত এমপি মহোদয়ের সাথে এক ঝাঁক কলম সৈনিকের সাক্ষাৎ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কবির হোসেনের জানাজার নামাজ সম্পন্ন ভোলায় বাস মালিক সমিতির উদ্যোগে “ঈদ আনন্দ বাজার” উদ্বোধন আমি দুই শ্রেণির মানুষের সান্নিধ্যে বিশেষ আনন্দ পাই-শফিকুর রহমান

রংপুরের বদরগঞ্জে দাদন ব্যবসায়ীদের করাল গ্রাসে শতাধিক সংখ্যালঘু পরিবার সর্বস্বান্ত

নুর ইসলাম চান রংপুর
  • আপডেট সময় রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৪

রংপুরের বদরগঞ্জে সংঘবদ্ধ দাদন ব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে সর্ব শান্ত হয়েছে এলাকার শতাধিক সংখ্যালঘু পরিবার। দাদন ব্যবসায়ীদের বেধে দেওয়া শর্ত মেনে চড়া সুদের টাকা পরিশোধ করতে অনেকেই বাড়ীঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের চৌরির বিল আবাসন প্রকল্পের অধিবাসী সংঘবদ্ধ দাদন ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অভাবগ্রস্থ মানুষকে চড়া সুদের উপর ঋণদান করে আসছে। তারা লোকজনের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে এই দাদন ব্যবসার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগ করেও ফল পাওয়া যায় না। উল্টো দাদন ব্যবসায়ীদের দ্বারায় অভিযোগকারীদের পথে ঘাটে লাঞ্চিত হতে হয়। এবিষয়ে গত শনিবার রামনাথপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রামনাথপুর গ্রামের ভুক্তভোগী স্বপন কুমার রায় জানান, আমি প্রায় ১বছর পুর্বে অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ে দাদন ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের কাছে ১লক্ষ টাকা সুদের উপর নিয়েছিলাম। আমি প্রতি সপ্তাহে তাকে ১০হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার পরেও তিনি আমার কাছে এখন ৭লক্ষ টাকা দাবী করছেন। শুক্রবার রাতে তার লোকজন আমার বটতলী বাজারের দোকানে এসে আমার কাছে সুদের টাকা দাবী করেন। কিন্তু আমি তাৎক্ষণিক তাদেরকে সুদের টাকা দিতে না পরায় তারা আমার দোকানঘরটি লিখে চান। একই গ্রামের ভুক্তভোগী শ্রী রতন কুমার, নারায়ন চন্দ্র, গোলাপ চন্দ্র, লিটন চন্দ্র, শ্রীমতি মেনোকা বালা, স্মৃতি রানী ও বাচ্ছানী রানী অভিযোগ করে বলেন, রামনাথপুর ইউনিয়নের চৌরির বিল আবাসন প্রকল্পে এক ডজন দাদন ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদের মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক হচ্ছে দাদন ব্যবসায়ীদের দলনেতা। তার কোন সংঘ সমিতি কর্তৃক দাদন ব্যবসার লাইসেন্স না থাকলেও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে অনায়াসে এই অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পাশাপাশি, মমিনা বেগম, মনুজা বেগম, মুক্তা বেগম, সাগিরা বেগম, মোস্তারিনা বেগম, রজুবা বেগম, মনজিরা বেগম, মমেজা বেগম, রাবেয়া বেগম একই ব্যবসা করে লাখ পতি বনে গেছেন। তারা সকলে সরকারী বস্তিতে (গুচ্ছ গ্রাম) বসবাস করলেও দাদন ব্যবসায় বেশ পারদর্শী। তারা যে কোন সময় ১লক্ষ টাকা থেকে ৫ লক্ষা টাকা পর্যন্ত সুদের উপর ঋণ দিতে পারে। এর জন্য ব্যাংকের ফাঁকা চেক, জমির দলিল ও ফাঁকা স্ট্যাম্প হলেই তাদের কাছে ঋণ পাওয়া যায়। ঋণ গ্রহণের পর থেকে প্রতি হাজারে সপ্তাহে ১শত টাকা করে সুদ দিতে হয়। কোন সপ্তাহে সুদের টাকা দিতে না পারলে পরবর্তীতে চক্সবৃদ্ধি হারে তাকে সুদ দিতে হবে। আমরা সংখ্যালঘু বলে তারা আমাদের বাড়ীতে লোকজন নিয়ে রাতের অন্ধকারে এসে আমাদের কাছ থেকে এক প্রকার জোর করে সুদের টাকা আদায় করে থাকে। কেউ সাপ্তাহিক সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে প্রকাশ্য মারডাং সহ নানা রকম হয়রানী করা হয়। এদিকে ওই গ্রামের বিবি দাস, অনুকুল চন্দ্র ও ধনেশ^র চন্দ্র সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে বাড়ীঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এসময় গ্রামবাসী আরো জানান, বিবি দাস গত ৩মাস পুর্বে দাদন ব্যবসায়ী মনুজা বেগমের কাছে ২০হাজারটাকা সুদের উপর নিয়েছিলেন। এখন তার ৩লক্ষ টাকার সুদ দাঁড়িয়েছে। যারফলে তিনি দাদন ব্যবসায়ীর সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে অপমান অপদস্তের ভয়ে বাড়ীতে বিধবা মাকে একাকী রেখে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। আমরা এই এলাকার শতাধিক সংখ্যালঘু ভুক্তভোগী দাদন ব্যবসায়ীদের দ্বারায় আজ সর্বশান্ত হয়েছি। সেইসাথে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করার প্রস্তুতি নিয়েছি। গত শনিবার দাদন ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জারে সাথে এই বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে উপজেলা কৃষক দলের একজন সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতিবেদকের সাথে পরে কথা বলতে চান।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com