বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে কর্মরত বনরক্ষীদের দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি দূর করতে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য চাঙা রাখতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। শনিবার (১৯ এপ্রিল) সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের উদ্যোগে বিকাল তিনটায় কয়রার কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তঃ রেঞ্জ ভলিবল টুর্নামেন্ট। কর্মব্যস্ততার মাঝে এই আনন্দঘন পরিবেশে খেলা উপভোগ করতে ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয় শত শত দর্শক। বনকর্মীরাও তাদের ক্লান্তি ভুলে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেন। এই প্রতিযোগিতায় সাতক্ষীরা রেঞ্জকে হারিয়ে খুলনা রেঞ্জ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। খেলা শেষে এক মনোজ্ঞ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ শরিফুল ইসলাম ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ মশিউর রহমান। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কাশিয়াবাদ স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ সাদিকুজ্জামান, বানিয়াখালী স্টেশন কর্মকর্তা মামুন মাতববর, খুলনা রেঞ্জ সহযোগী মোঃ ইসমাইল হোসেন, সাতক্ষীরা রেঞ্জ সহযোগী মোঃ হাবিবুর রহমান, কয়রা আদালতের বন মামলা পরিচালক মনিরুল ইসলাম, বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান, নলিয়ান স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ সমশের আলী, কালাবগী স্টেশন কর্মকর্তা প্রেমানন্দ মজুমদার, কোবাদক স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন, কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা এমকেএম আব্দুস সুলতান, সুতারখালী স্টেশন কর্মকর্তা দেওয়ান মিজানুর রহমান এবং কাশিয়াবাদ স্টেশনের সহকারি স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ আল আমিনসহ বিভিন্ন স্টেশন ও টহল ফাঁড়িতে কর্মরত বনকর্মীরা। খেলা পরিচালনা করেন বেদকাশি কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক মিহির কুমার মন্ডল। তাকে সহযোগিতা করেন সিপিজি সদস্য বিল্লাল হোসেন, সাইফুল ইসলাম ও মৎস্য ব্যবসায়ী শাহাজুল ইসলাম। টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন চুনকড়ি টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বজল মজুমদার। বনপ্রহরী মাহবুব হোসেন তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “সুন্দরবনের গভীরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাঝে মাঝে মনে হয় যেন আমরা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি। আজকের এই খেলায় অংশ নিয়ে মনে হচ্ছে আমরাও মানুষ, আমাদেরও আনন্দ করার অধিকার আছে।খুলনা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাসানুর রহমান এই উদ্যোগের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “বনকর্মীদের কাজ অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই তাদের মানসিক চাপ কমাতেই আমরা খেলাধুলার মতো এই ধরনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এর মাধ্যমে তাদের মনোবল যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি নিজেদের মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি হবে। আমাদের এই ধরনের চিত্তবিনোদনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।এই ব্যতিক্রমী ভলিবল টুর্নামেন্ট সুন্দরবনের বনরক্ষীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও উৎসাহের সঞ্চার করেছে, যা তাদের কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি মনোযোগী হতে সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়।