আশির দশকের অন্যতম কবি মুকুল চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির সভাপতি আবেদুর রহমান ও সেক্রেটারি ইবরাহীম বাহারী। বিবৃতিতে তারা বাংলা সাহিত্যে কবির অবদানের কথা উল্লেখ্য করে রূহের মাগফিরাত কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের জন্য মহান আল্লাহরাব্বুল আলামীনের দরবারে ধৈর্যধারণের তৌফিক কামনা করেন।
কবি মুকুল চৌধুরীর একাডেমিক নাম মঞ্জুরুল করীম চৌধুরী। গত ২২ এপ্রিল’২৫ দিবাগত রাত ১.৩০ মিনিটে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মহান আল্লাহ তাঁর জীবনের ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা বানিয়ে নিন। আমিন।
উল্লেখ্য, ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবি মুকুল চৌধুরী ১৯৫৮ সালের ২২ আগস্ট সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার ইউনিয়নের খালোপাড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শ্রমনিষ্ঠ কবি ও লেখক। গত শতকের সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে লিখে গেছেন নিরলসভাবে। আশির দশকের অন্যতম শক্তিমান কবি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন। কবিতার পাশাপাশি গদ্যসাহিত্যেও তিনি শক্তিমান, ঝরঝরে, বুদ্ধিদীপ্ত। প্রবন্ধ, গবেষণা এবং কিশোর-রচনা ও সম্পাদনায় তার রয়েছে স্বচ্ছন্দ ও স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ বিচরণ।
তার প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ২৮টি। এর মধ্যে কাব্যগ্রন্থ ছয়টি, প্রবন্ধ/গবেষণা গ্রন্থ পাঁচটি, কিশোর গ্রন্থ পাঁচটি সম্পাদিত গ্রন্থ ছয়টি। ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কবিতার বই অস্পষ্ট বন্দর। মুকুল চৌধুরী তার কর্মের স্বীকৃতিস্বরুপ বুক অব দি ইয়ার এচিভম্যান্ট এওয়ার্ড, বিএনএসএ, ইংল্যান্ড (১৯৯৬); সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ, ঢাকা (১৯৯৭); রাগীব রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার, সিলেট (২০০৬); জালালাবাদ সাহিত্য পুরস্কার, সিলেট (২০১২) এ ভূষিত হন।