মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জনের খুঁটির জোর কোথায়? বিগত সরকারের সময়ে আওয়ামীলীগে সক্রিয় বলে নানা সুবিধা নেওয়া এই সিভিল সার্জন এখনও বহাল তবিয়তে। এই সিভিল সার্জন আদালতে রিট করে তার বদলির আদেশ ঠেকিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে নিয়োগের বড় বাণিজ্য করতে সিভিল সার্জন আদালতের মাধ্যমে তার বদলির আদেশ ঠেকিয়ে দিয়েছেন। সুপারিশে বলা হয়েছে আপত্তি সংক্রান্ত অর্থ সংগ্রহ করে সরকারি কোষাগারে জমা করা প্রয়োজন এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। ২০২৩-২০২৪ সালের এই অডিট আপত্তি নিয়ে এই উর্ধতন মহলের চিঠি চালাচালি চলছে। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগে এখন আলোচনা চলছে। স্বাস্থ্য অডিট অধিদপ্তর কর্তৃক নিরীক্ষিত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের চূড়ান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উঠে এসেছে সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুরুল আলম হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক থাকা অবস্থায় অনিয়মের নানা বিষয়। এদিকে মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে বদলী হয়ে আসার পর যোগদান করতে না পারা ডা. সাজেদা খানম দুঃখ করে জানান, তাঁর স্বামীর মৃত্যুতে মানবিক কারণে তিনি ঢাকার আশপাশে আসার আবেদন করেন। তার আবেদন মঞ্জুরের পরও তিনি যোগদান করতে পারেননি। পিআরএল-এ থাকা সিভিল সার্জন অফিসের স্যানিটারী ইন্সপেক্টর গাজী মোহাম্মদ আমীনকে বেআইনীভাবে জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক ও হিসাবরক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুরুল আলম। তবে সিভিল সার্জন মঞ্জুরুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরণের কোন নিয়োগ আমি দেইনি। অপরদিকে গাজী মোহাম্মদ আমীন সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুরুল আলম কর্তৃক নিয়োগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। আগামী মে মাসে স্বাস্থ্য বিভাগের ১৪২ পদে নিয়োগ হতে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জনে। ২০২৫ সালের ১১ জুলাই সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুরুল আলমের পিআরএল এ যাওয়ার কথা রয়েছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এই নিয়োগ সম্পন্ন করতে উঠে পড়ে লেগেছেন তিনি। তবে কোন প্রকার নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে জড়িত না থাকার দাবি করে সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুরুল আলম বলেন, “আমি নিয়োগ কমিটির কেউ না আমি একজন মেম্বার মাত্র।’ কিন্তু সিভিল সার্জন অফিসের নিয়ন্ত্রাধীন রাজস্ব খাতের এই নিয়োগ কমিটির সব কাজই করছে তার দপ্তর। অডিটের ১৯৩ নম্বর পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে- ৬ লাখ ১০ হাজার ৩৪৩ টাকা এবং ১৯৪ নম্বর পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে ৮ লাখ ২৪ হাজার ৫ শ’ টাকা অনিয়ম রয়েছে। এই সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের অটির বখশিসের টাকা থেকে ভাগ নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি হাসপাতালের ক্রয়কৃত ওষুধও শর্ট ডেটের ক্রয় করেছেন স্বপ্ল মূল্যে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে। যার মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন সিভিল সার্জন ও অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেট মিজানের মাধ্যমে। হাসপাতালটির বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহমেদ কবির জানান, এই আপত্তির সুরাহা না হলে অভিযুক্তের পেনশন থেকে টাকা কর্তন হবে। সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুরুল আলম বলেন, অফিসে গিয়ে বদলি আটকাতে গেলে দেরি হয়ে যেতো। তাছাড়া আমার চাকুরীর মেয়াদ অল্প সময় থাকায় একইস্থানে আমার থাকার আইনগত অধিকার আছে। তাই আদালতে যেতে হয়েছে। অপরদিকে নিয়োগ বানিজ্য করার কোন ইচ্ছা আমার নেই। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আমার থাকা অবস্থায় যাতে কোন নিয়োগ না হয় সে বিষয়ে পরামর্শ দেব।
আমি যতদিন মুন্সীগঞ্জে আছি ততদিন এই নিয়োগ করতে দেব না। এই বদনাম নিতে আমি রাজি না। তিনি আরো বলেন, অডিট অবজেকশন হয়। এটা আমরা জবাব দিবো তখন শেষ হয়ে যাবে। অবজেকশনের জবাব দেব তখন বিষয়টি শেষ হয়ে যাবে। মিজানের স্বর্ণচোরাচালানি মামলায় জেল খেটে এসেছেন এ বিষয়ে বলেন এটা মিজানের বিষয়। গাজী আমিনের বিষয়ে তিনি বলেন, তার জায়গায় নতুন লোক চলে আসছে। নিয়োগ বানিজ্য হলে প্রমাণিত হলে নিয়োগ বন্ধ হয়ে যাবে। নিয়োগ এখনো কোথায়? সেখানে কিভাবে নিয়োগ বানিজ্য হবে প্রশ্ন তার।